ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্টাফ রিপোর্টার

৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০১

স্তব্ধ সৈয়দ আশরাফের বাড়ি

10050_bdm-13.jpg
বাড়িটির ড্রইংরুমে পুরনো ফ্রেমে বাঁধানো আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদ্যপ্রয়াত সদস্য, দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামে ছবি। এর আগের দেয়ালে সাঁটানো একাদশ সংসদ নির্বাচনের পোস্টার।

ময়মনসিংহের ইট-সিমেন্টের দোতলা বাড়িটির প্রতিটি কোণায় তার স্মৃতিচিহ্ন। দুরন্ত শৈশব-কৈশর এ বাড়িতেই কেটেছে। বছরখানেক আগেই বাড়িটিতে শেষবারের মতো এসেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল। তার স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ নগরীর কলেজ রোডের বাড়িটিতে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

শনিবার রাতে বাড়িটিতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেল।

চারদিকে স্তব্ধ শূন্যতায় ঘেরা বাড়িটিতে গিয়ে দেখা হয় রজব আলীর ছোট্ট ছেলে সিয়াম ও শ্যালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তারা দুজনেই ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বেডরুম থেকে বাড়ির প্রতিটি কক্ষ।

বেডরুম, ড্রইংরুম, আসবাব প্রমাণ দিচ্ছিল কত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন সাবেক এ জনপ্রশাসনমন্ত্রী।

স্তব্ধ নির্বাক হয়ে সিয়াম বলছিলেন, ‘চাচার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। শৈশবে চাচার কোলে কত উঠেছি। বড় হয়ে চাচার সঙ্গে ঘুরতেও গেছি।

জানা গেছে, ১৯৬৪ সালের দিকে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাবা দেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম নগরীর কলেজ রোড এলাকায় একটু জমি কিনে টিনশেড নির্মাণ করে নিয়মিত বসবাস শুরু করেন। পরে তিন রুমের টিনশেডের বাড়িটি পাকা করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাগ্নে সৈয়দ রজব আলী এখন বাড়িটি দেখভাল করেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ শনিবার সন্ধ্যায় ব্যাংকক থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছানোয় সেখানে চলে গেছেন তিনি।

সৈয়দ আশরাফুলের লাশবাহী কফিন গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকর্মীরা ভিড় করেন সৈয়দ আশরাফকে একনজর দেখতে।

এর পর বিমানবন্দর থেকে পুলিশের লাশবাহী ফ্রিজার গাড়িতে করে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মরদেহ আনা হয় বেইলি রোডের বাসায়।

সেখানে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে তার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। মরদেহ আসার পর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এর পর হেলিকপ্টারে মরদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ পুরনো স্টেডিয়াম মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের তৃতীয় জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

বাদ আসর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন আদর্শবান-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ ও সর্বজনস্বীকৃত এই নেতা।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন।

অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।