ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে

৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০১

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সরিষা ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপন করে লাভবান হচ্ছে মৌচাষিরা

টাঙ্গাইলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সরিষা ক্ষেতে মৌ বক্স স্থাপন করে কাঙ্খিত পরিমানে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছে মৌচাষিরা। অন্যদিকে সরিষা ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপনে অন্যন্য বছরের তুলনায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা স্থানীয় কৃষকদের।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে সরিষার ক্ষতি হবে এমন ভ্রান্ত ধারণা ছিল। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরিষা  ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপন করলে বেশি সরিষা আবাদ হয় এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বাসাইল, কালিহাতী, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় বানিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌ-চাষ পদ্ধতি। বিস্তৃর্ণ এলাকার কৃষি জমিতে সরিষা ক্ষেতে মৌ বক্স স্থাপন করেছে মৌচাষিরা। এতে একদিকে মৌ চাষিরা কাঙ্খিত পরিমানে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছে অন্যদিকে স্থানীয় কৃষি জমিতে সরিষার ফলনও অন্যান্য বছরের তুলনায় কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষে কাঙ্খিত পরিমানে লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই স্থানীয় বিসিক শিল্প নগরীতে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা ট্রেনিং করে মৌচাষ শুরু করছে। তবে কর্তৃপক্ষ যদি মৌচাষিদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাসহ কৃষকদের সহযোগীতা করতে তাহলে মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করে আরো লাভবান হতো।

জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  গত বছর ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৩০ হাজার মেক্ট্রিক টন সরিষার হয়েছিলো। এবছর লক্ষ মাত্রার চাইতে ১০হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। আর গত বছর মধু সংগ্রহ করা হয়েছিলো ৩৫ মেক্ট্রিক টন। এবছর লক্ষ মাত্রা নেয়া হয়েছে ৫০ মেক্ট্রিক টন।

বাসাইল উপজেলার বাশুলিয়া গ্রামের আয়নাল হক নামের এক কৃষক জানান, মৌবক্স স্থানে সরিষার ফলন ভাল হচ্ছে। মৌচাষিদের ক্ষেতে মৌবক্স স্থাপনে কোন বাধা দেয়া হচ্ছেনা।
মৌচাষি ইয়াকুব জানান, প্রথমে ৫টি মৌবক্স নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন মৌবক্স ৫০টিরও বেশি। বছরে ৬মাস বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মধু সংগ্রহ করি। এই কয়েকমাসের উপার্জন দিয়ে সারা বছর চলে যায়। মধু সংগ্রহে লাভবান হওয়ার কারনে অনেকেই এই পেশায় চলে আসছে।  
টাঙ্গাইল বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম জানান, বিসিক শিল্প নগরীতে নিয়োমিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাষ পদ্ধতির ট্রেনিং দেয়া হয়। চাষীদের আরো সুযোগ সুবিধার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে সরিষার আবাদ শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। কৃষকরা আগে না বুঝলেও এখন কৃষি বিভাগ তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছে।