ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি, ঢাকা:

৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

রাজধানীতে শিশুকে ধর্ষণের পর ভবন থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

10114_rape1.jpg
গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের বাসা থেকে শনিবার বিকেলে খেলতে বের হয় দুই বছরের শিশু আয়শা মনি। পরে সন্ধ্যায় পাশের একটি ভবনের সামনে তার রক্তাক্ত নিথর দেহ পাওয়া যায়। তখন জানা গিয়েছিল, রেলিংবিহীন সিঁড়ি থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

তবে পরে অভিযোগ ওঠে, ছোট্ট শিশুটিকে ধর্ষণের পর ভবন থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে রাস্তায় নামেন স্বজন ও এলাকাবাসী। বিক্ষোভ থেকে ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত নাহিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার শামসুজ্জামান বাবু বলেন, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে গেণ্ডারিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত নাহিদকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'

পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডে সাধনা ঔষধালয় গলির ৮২/সি-২ নম্বর টিনশেড বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত ছোট্ট আয়শা। তার বাবা ইদ্রিস আলী ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন। মা রাজিয়া সুলতানা গৃহকর্মী। তাদের চার মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল আয়শা।

ইদ্রিস আলী জানান, দীননাথ সেন রোডের ৫৩/১ নম্বর বাড়ির মালিক নাহিদ। চার তলা ভবনের তৃতীয় তলায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। আগে তিনি ব্যবসা করলেও এখন তেমন কিছু করেন না। শনিবার সন্ধ্যায় তার বাড়ির সামনেই আয়শাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

তখন বাড়ির লোকজন বলেছিল, সিঁড়ি থেকে পড়ে শিশুটি মারা যায়। পরে জানা যায়, সে কথা সত্যি নয়। তিনটি গেট পেরিয়ে ছোট্ট আয়শার পক্ষে তিনতলা পর্যন্ত যাওয়া প্রায় অসম্ভব। পুলিশ রোববার রাতে নাহিদের বাড়িতে যায় এবং তাকে আটক করে। বাড়ির একটি ঘরে নিজের মেয়েকে (১৩) আটকে রেখেছিলেন নাহিদ। মুক্ত হওয়ার পর সে তার বাবার অপকর্মের কথা লোকজনকে জানায়। নাহিদ এর আগেও একজনকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আয়শার মামা মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার বিকেলে আয়শা বাড়ির সামনে খেলার সময় তাকে কোলে তুলে নিয়ে যায় নাহিদ। এ সময় তাকে খিচুড়ি খাওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে নাহিদ শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং পরে তাকে বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেয়। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে যায়। আয়শার নাক-মুখ দিয়ে তখন রক্ত ঝরছিল। উপস্থিত কয়েক যুবক নাহিদকে আটকে এ ব্যাপারে জানতে চায়। কিন্তু নাহিদ দাবি করে, সে কিছুই জানে না। রক্তাক্ত আয়শাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তের পর রোববার জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে, আয়শাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে দীননাথ সেন রোডে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে স্থানীয় কয়েকশ’ মানুষ। তারা নাহিদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে গেণ্ডারিয়া থানায় যায়।

পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃত নাহিদকে মানসিক ভাসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে। তবে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত যথাযথভাবেই করা হচ্ছে। তার প্রথম স্ত্রী অনেক আগে মারা গেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে চলে গেছেন।

এলাকাবাসী বলছেন, নাহিদ মোটেই মানসিক ভারসাম্যহীন নয়। হয়তো ধরা পড়ার পর ভান করছে। পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।