ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:০১

মিয়ানমারে এবার বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের ওপর সেনা অভিযান

10134_Rakhine.JPG
বৌদ্ধ রাখাইন বিদ্রোহীদের ঠেকাতে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। খবর আল জাজিরার।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের সাথে বৌদ্ধ অনুসারী বিদ্রোহী ‘আরাকান আর্মি’ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আরো বেশি স্বায়ত্বশাসন চায়। সে লক্ষ্যে তারা ২০০৯ সালে সশস্ত্র ‘আরাকান আর্মি’ গঠন করে।

রাখাইন রাজ্যটি মিয়ানমারের সবচেয়ে গরীব এলাকা। এখানে নৃগোষ্ঠী ও ধর্মকে পরস্পর ঘৃণার চোখে দেখার প্রবণতা রয়েছে। বৌদ্ধ নৃগোষ্ঠী রাখাইন ও মুসলিম নৃগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের প্রশাসন ও পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংসতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। প্রদেশটি সরকারী ভাবে ‘রাখাইন’ নামে পরিচিত হলেও মুসলিম রোহিঙ্গারা ‘আরাকান’ নামে ডেকে থাকে।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নৃগোষ্ঠীর ওপর সেনা অভিযান চালানো হয়। সেনা আক্রমন থেকে বাঁচতে প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার থেকে স্বাধীনতা ও স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে লড়াইয়ে লিপ্ত রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের নির্মুল করতে ওই অভিযান চালনো হয় বলে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।

গত শুক্রবার মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে বৌদ্ধ রাখাইন বিদ্রোহীরা বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বুথিডং শহরতলীতে চারটি পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ চালায়। শত শত বৌদ্ধ যোদ্ধাদের সেই আক্রমণে ১৩ পুলিশ অফিসার নিহত এবং ৯জন আহত হয়। পরে দেশটির সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে স্থানীয়ভাবে টাটমাদো বলা হয়।

এদিকে আরাকান আর্মি জানিয়েছে তাদের ৩ যোদ্ধা ওই দিনের ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ স্টেশন থেকে সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রের ব্যবহার করেছে।

এদিকে রাজধানী নেপিডো থেকে সরকারের মুখপাত্র জো থে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে ইতোমধ্যে আক্রমণকারীদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টাটমাদোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন সোমবার জানিয়েছে যে, গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য এলাকা ছেড়েছে। দুই পক্ষের যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ধর্মীয় আশ্রম ও অস্থায়ী শিবিরে শিশু ও ব্যবহার্য তৈজসপাতি নিয়ে স্থানীয়রা ছুটছে।

সম্প্রতি দেশটির অন্য প্রান্তে কাচিন ও শান বিদ্রোহীদের সাথে দেশটির সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর পরপরই রাখাইন রাজ্যটিতে পুলিশের ওপর বিদ্রোহীদের হামলার ব্যাপকতা বেড়েছে। তবে রাখাইন প্রদেশের বিদ্রোহীদের সাথে কোন যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়নি।

বিট্রিশ সাম্রাজ্য থেকে ৭০ বছর আগে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী স্বাধীনতা ও স্বায়ত্বশাসন পেতে বিদ্রোহ করে আসছে। বিদ্রোহ দমনের জন্য সরকার সেনাবাহিনী দিয়ে দমন পীড়ন চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

উল্লেখ্য, দেশটির বর্তমান বেসামরিক নেতা অন সান সুচি ২০১৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার অঙ্গিকার করেছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের সাথে সরকারের সংঘাত বেড়েই চলেছে।