ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০১

কঙ্গোতে ক্ষমতার প্রথম গণতান্ত্রিক পালাবদল

10188_Congo.JPG

আফ্রিকার দেশ কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধী দলের নেতা ফেলিক্স শিসেকেডি। ১৯৬০ সালে বেলজিয়াম থেকে স্বাধীনতার পর এই প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশটিতে ক্ষমতার পালাবদল হতে যাচ্ছে।

২০০১ সাল থেকে ১৮ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার শাসন শেষ হতে যাচ্ছে। কঙ্গোর সংবিধান মতে দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারবে না।

বাবা প্রেসিডেন্ট লরেন্ট কাবিলা নিহত হওয়ার ১০ দিন পর ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি জোসেফ কাবিলা দেশটির ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ২০০৬ ও ২০১১ সালে বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।

২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর তার প্রেসিডেন্ট থাকার সাংবিধানিক সময় ও মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিরোধীদের সাথে সমঝোতা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা বলে ক্ষমতায় আকড়ে ছিলেন।

তবে দেশটির নির্বাচন কমিশন ফল ঘোষণা করলেও ক্ষমতার হস্তান্তর শান্তিপূর্ণভাবে হবে কিনা তাই নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ হলেও নানা অনিশ্চয়তার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই ফল ঘোষিত হলো যাতে রাস্তায় তাৎক্ষণাত কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না যায়।

তবে নির্বাচনের এই ফল প্রত্যাখান করেছেন বিজয়ী ফেলিক্স শিসেকেডির প্রতিদ্বন্দি মার্টিন ফায়ালু। এছাড়া সরকারী জোটের প্রার্থী ইমানুয়েল সাদারি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী তৃতীয় হয়েছেন।

বিজয়ী ঘোষণার পর ফেলিক্স শিসেকেডি কঙ্গোর সকল নাগরিকের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

নতুন প্রেসিডেন্টের শপৎ গ্রহণ ১৮ জানুয়ারি হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে উল্লেখ করেছে।

৫৫ বছর বয়স্ক শিসেকেডির বাবা এতিয়েন্নে শিসেকেডি দেশটির এক সময়ের বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।  দুর্নীতি নির্মুল এবং দারিদ্রতা দূর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নির্বাচিত নতুন প্রেসিডেন্ট শিসেকেডি।

পৃথিবীর অন্যতম গরীব দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। অথচ পৃথিবীর শতকরা ৫০ ভাগ কোবাল্ট খনিজ সম্পদ রয়েছে দেশটিতে।

২৩ লাখ ৪৫ হাজার বর্গকিমি আয়তনের আফ্রিকার বৃহত্তম দেশগুলোর একটি কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। এর মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। তবে দেশটির রাস্তাসহ অবকাঠামো খুবই অনুন্নত। প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত কঙ্গো নদী।

গরীব দেশ হলেও দেশটিতে ভোট গ্রহণ হয় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। তবে নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ দেশব্যাপী বন্ধ ছিল।

কঙ্গোতে ভোটিং মেশিন হিসেবে এক ধরণের ট্যাবলেট জাতীয় ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। ভোটাররা পোলিং বুথে প্রবেশ করে ডিভাইসটিতে প্রথমে ভোট দেন। এরপর ব্যালট পেপার প্রিন্ট হয়ে বেরিয়ে আসে। সেটা আবার বাক্সে সংরক্ষণ করা হয়। সবশেষে ইলেকট্রনিক ও কাগজি ভোট গণনা করে যাচাই করা হয়।