ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি, ঢাকা:

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

মজুরির গ্রেডে সমন্বয় আনার প্রতিশ্রুতি দিলেন শ্রম সচিব

10200_seccritry.jpg
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আফরোজা খান বলেছেন, পোশাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেড সমন্বয়ে জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গঠিত মজুরি পর্যালোচনা কমিটির প্রথম সভা শেষে সচিব এ কথা জানান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই সভা হয়।

নতুন মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য রয়েছে দাবি করে ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করে আসছে পোশাক শ্রমিকরা। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার শ্রম ভবনে সরকার-মালিক-শ্রমিক সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় জরুরি বৈঠক হয়। সেখানে মজুরি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। কিন্তু এরপরও থামেনি শ্রমিক আন্দোলন।

বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার টাকা। গত ডিসেম্বর মাস থেকে এই মজুরি কার্যকর ধরা হয়েছে।

সভা শেষে শ্রম সচিব বলেন, ‘গ্রেড নিয়ে একটু ইয়ে আছে, কোন গ্রেডে কমেছে, কোন গ্রেডে বেড়েছে। আমরা দেখতে পেয়েছি সাতটি গ্রেডের মধ্যে ১ ও ২ সম্পর্কে ওনাদের মন্তব্য হচ্ছে সেথানে কোন সমস্যা নেই। ৬ ও ৭ নম্বর গ্রেডেও কোন সমস্যা নেই। শুধু ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডে একটু অবজারভেশন আছে, সেটা আমলে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যেহেতু ক্যালকুলেশনের ব্যাপার আছে, সেজন্য আরো গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আরো ছোট পরিসরে আগামী রোববার বসে সেটার সমাধান খুঁজে বের করব। কোথায় কীভাবে করলে সেই সমন্বয়টা আমরা করতে পারি। যাতে এই সমস্যা সমাধান হয়।’

‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেছেন আমিও সেটা বলতে চাই- যে মজুরি ঘোষিত হয়েছে, একজন শ্রমিক আগে যে মজুরি পেয়েছেন সেটার বেসিক বা গ্রস কোনটাই কমবে না।’

সচিব বলেন, ‘আমরা গত ৮ তারিখে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি মিটিং করেছিলাম। সেই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মালিক, শ্রমিক ও সরকার মিলে ত্রিপক্ষীয় একটি কমিটি করে এই কমিটির মাধ্যমে ঘোষিত মজুরির মধ্যে অসাঞ্জস্যতা আছে মনে করে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছে সেটাকে সমাধান করা। আজকে প্রথম সেই কমিটির মিটিংয়ে বসেছিলাম আমরা কমিটিতে সর্বস্তরের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে ছিলেন। মালিক প্রতিনিধিরাও ছিলেন, আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি- সবার বক্তব্য আমরা শুনেছি।’

‘আমাদের কাছে তথ্য উঠে এসেছে- আমাদের ধারণা ছিল শুধু মজুরি বৈষম্যের কারণে এই শ্রমিক আন্দোলন বা বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আমরা দেখেছি, সেই মজুরির বাইরেও অনেক ইস্যু এসেছে। সেগুলো মজুরি কম বা মজুরি সমন্বয়ের বাইরে আছে।’

তিনি বলেন, ‘কোন কারখানায় ঘোষিত ন্যূনতম মজুরির চেয়েও বেশি দেয়া হয়েছে, সেই ফ্যাক্টরিও ভাঙচুর হয়েছে। এখানে খুবই সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয় আছে।’

আফরোজা খান বলেন, ‘শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে বলব আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের অর্থনীতির মূল যে গার্মেন্টস সেক্টর সেই সেক্টরকে কোন ক্রমেই ধ্বংসের দিকে যেতে দিতে চাই না। যদি কোন দুষ্ট চক্র থেকে থাকে আমরা তাদের যে কোন মূল্যে প্রতিহত করব।’

শ্রম সচিব বলেন, ‘মজুরি কীভাবে সমন্বয় করা হবে সেই নির্দেশনা গেজেটে দেয়া আছে। আমার মনে হয় ফ্যাক্টরির মিড লেভেলে যারা মজুরি দেয়ার বিষয়ে কাজ করছেন, মালিকদেরও অনুরোধ জানাব তারা এই বিষয়টি ভালভাবে একটু দেখবেন। যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’

আন্দোলনে ক্ষেত্রে অন্য ইস্যুর মধ্যে কী আছে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এটা ফ্যাক্টরিতে যে মজুরি হওয়ার কথা তার থেকেও বেশি পরিমাণে বেতন দেওয়া হয়েছে তারপরেও সেখানে ভাঙচুর হয়েছে। আমরা বুঝতে পারছি এই সেক্টরে হয়ত একটা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। উত্তরায় আবাসিক এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, সেখানো তো কোনো ফ্যাক্টরি নেই। সে কারণেই আমরা ধারণা করছি যে কোনো একটা মহল হয়ত এই সেক্টরকে ধ্বংস করার পায়তারা করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শ্রমিকরা যাতে কোন ধরনের সমস্যা সেটা তার বেতন হোক, যে কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয় হোক। তাৎক্ষণিকভাবে তারা যাতে একটা জায়গায় অভিযোগ করতে পারে সেজন্য আমরা হটলাইন থাকবে। সেটা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। এটা হবে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতরে। একজন শ্রমিক সরাসরি তার যেকোন সমস্যা জানাতে পারব। এখন একটা নম্বর আছে। আগামী সপ্তাহে এই নম্বরকে আর বেশি করব। যাতে সবাই রিচ করতে পারে।’

‘আমরা মাইকিং করে সব শিল্প এলাকায় সেই নম্বর শ্রমিকদের জানিয়ে দেব। একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই কারো বেতন কমবে না। গেজেটে সমন্বয়ের দিক নির্দেশনা আছে। দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সবার বেতন হবে।’

শিল্প পুলিশের মহাপরিচালক উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুস সালাম বলেন, ‘পরাজিত শক্তি বিভিন্নভাবে এই সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য পায়তারা করছে।’

পরাজিত শক্তি কারা- সাংবাদিকরা জানতে চাইলে, জবাব দিতে উদ্যত হন সালাম। কিন্তু শ্রম সচিব ও উপস্থিত মালিকরা-নেতারা তাকে নিবৃত করেন।