ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক:

৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২

লিটনকে সাথে নিয়ে লড়ছেন মুমিনুল

1036_1.jpg
মুমিনুল
চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। লিটন দাসকে সাথে নিয়ে লড়ছেন মুমিনুল হক। সাবধানে ব্যাট চালাচ্ছেন মুমিনুল। তার সংগ্রহ ৪৮ বলে ৩৩ রান। লিটন আছেন রান নিয়ে।

বাংলাদেশের সংগ্রহ দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৩ রান। হাতে আছে ৭ উইকেট।

প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন মুমনিুল হক। তার রানের উপর ভর করেই ৫১৩ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিনের খেলা

চতুর্থ দিনটা প্রচণ্ড টেনশনেই কাটলো বাংলাদেশের। প্রতিটা বল, প্রতিটা রানই যেন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে গিয়েছিল। সে দুশ্চিন্তা যে মিলিয়ে গেছে তা কিন্তু নয়। আছে এখনো। আজ শেষ দিনেও ওটা থাকবে। শ্রীলঙ্কা আসলে বদলে গেছে। এক হাতুরাসিংহের ছোঁয়ায় সত্যিই বদলে গেছে শ্রীলঙ্কা। তিন জাতি ক্রিকেটের শিরোপা জয় থেকে শুরু করে টেস্টম্যাচেও দুর্দান্ত। প্রথম ইনিংসে ৭১৩ রান করে, তবেই ইনিংস ডিকেয়ার করেছে তারা। লঙ্কান ইনিংসের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে তাদের ব্যাটিং কত উন্নত পারফরমেন্স করেছে। দুটি ডাবল সেঞ্চুরির কাছে যেয়ে আউট। অন্যটি ১০৯। এ ছাড়া রয়েছে দুটি হাফ সেঞ্চুরি। চতুর্থ দিন আগের দিনের ৫০৪ এর সঙ্গে ২০৯ করে তবেই ইনিংস ডিকেয়ার করেছে।

বাংলাদেশের এ ম্যাচে পরাজয় থেকে মুক্ত হতে হলে দ্বিতীয় ইনিংসে যে দৃঢ়তা দেখাতে হবে, সে বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। আজ অন্তত চা বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করলেই যে বিপদমুক্ত তাও নয়। ব্যাটিং করতে হবে এরপরের ড্রিংস পর্যন্ত। কারণ অন্তত ১৫০ রানের লিড দিলেও এক ঘণ্টা সময় পেলে সেটা টপকে যেতে চাইবে শ্রীলঙ্কা। ফলে এদিন অনেক হিসাব কষে ক্যালকুলেটিভ ব্যাটিং করতে হবে মাহমুদুল্লাহদের। কিন্তু সেটা কি সম্ভব? বাংলাদেশের এ করুণ পরিণতি আসলে অনভিজ্ঞ বোলিং লাইনের জন্যই। মুস্তাফিজ ম্যাচে একমাত্র পেসার। তার অভিজ্ঞতা আট ম্যাচের। দুই স্পিন স্পেশালিস্ট তাইজুলের ১৬ ও সানজামের অভিষেক টেস্ট। মেহেদি হাসান মিরাজের অভিজ্ঞতা ১০ টেস্ট ম্যাচের। বোলার বলতে এ চারজনই। এর সঙ্গে মাহমুদুল্লাহ ও মুমিনুল তো পার্টটাইম বোলার। ফলে এদের ওপর ভরসা করে একটা প্রতিষ্ঠিত টেস্ট দলের ২০ উইকেট নেয়ার টার্গেট করা সম্ভব কিভাবে?

এরপর যে ভুলটা করেছে বাংলাদেশ, সেটা হলো উইকেট সম্পূর্ণরূপে ব্যাটিং সহায়ক। এটা অনুমান না করেই স্পিননির্ভর উইকেট অনুমান করেই দল নিয়ে নেমে পড়া। এখন এসব ভুলের খেসারত গুনতে হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা যা করেছে সেটা যথেষ্ট। ৫১৩ রান করেছে তারা প্রথম ইনিংসে। এরপর উচিত ছিল বোলারদের কিছু একটা করার। কিন্তু বাংলাদেশের বোলাররা শুধু বলই করে গেছেন। সেটা ইচ্ছেমতো খেলে রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা। রীতিমতো রান উৎসব। ম্যাচে ব্যাট হাতে যা তারা করতে চেয়েছে- ঠিক সেটাই হয়েছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতেও তারা এতটা ফ্রি স্টাইল ব্যাটিং করতে পারে না। জহুর আহমেদে যে উইকেট তৈরি করে রাখা হয়েছে। আসলে বিসিবি সব সময় চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। কোথায়, কী করলে কী হবে এগুলো ভাবার সময় কম। ফলে ক্রিকেটারদের ওপর প্রচণ্ড প্রেসার যাচ্ছে। ভুল দল সিলেকশনও এর একটা কারণ। সাকিবের অনুপস্থিতি বড় একটা ফ্যাক্টর। রাজ্জাককে ডেকে নিয়েও তাকে আর নামানো হয়নি। ব্যাটিং তারা ঠিকই করে গেছেন। কিন্তু বোলারদের অনভিজ্ঞতাই ভুগতে হলো। টেস্টে ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খেলেন বোলাররা। খেলতে দিয়ে মায়াবি ছোবলে তুলে নেন উইকেট। কিন্তু সে জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। এমনিতেই সব কিছু হয়ে যায় না। সে অভিজ্ঞতা তো প্রথম টেস্টেই অর্জন সম্ভব নয়। সে অভিজ্ঞতা ১০ বা ১৬ ম্যাচে হয় না। ধীরে ধীরে হয়।

বাংলাদেশ দলে আজ একজন খেলেন তো কাল কে খেলবেন সেটা অনুমান করাও যাবে না। দল নিয়ে এতটা কাটছাঁট আর কোথাও হয় বলে মনে হয় না। যার খেসারত গুনছে। তাইজুল ছিলেন মূল বোলার। চার উইকেট নিয়েছেন বটে। কিন্তু সেটা অনেক দেরি করে। ততক্ষণে লঙ্কানরা নিজেদের কাজটা সেরে রেখেছে। সানজাম ৪৫ ওভার বোলিং করে একটি মাত্র উইকেট। মিরাজ নিয়েছেন তিন উইকেট। আর পেসার মুস্তাফিজের উইকেট এক। অথচ ইনজুরড হলেও হেরাথকে ঠিকই দলভুক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা। ৮৭ টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এমনি এমনিই তো আর সব হয়নি। শেষ বিকেলে মুশফিকের উইকেট নিয়ে ঠিকই তো প্রচণ্ড প্রেসারের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন তিনি স্বাগতিকদের।