ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

এনএনবিডি, গাজীপুর:

১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০১

গাজীপুরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে স্কুলছাত্রকে হত্যা

10424_Untitled.jpg
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় চলন্ত বাস থেকে ফেলে এক স্কুলছাত্রকে হত্যা করেছে বাসের হেলফার ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আজমেরি পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহি বাস থেকে তাকে ফেলে দেয় ঐ বাসের হেলপার।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম হযরত ওমর (১৩)। একই ঘটনায় কামরুল ইসলাম ও শাওন নামের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

ওমর চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো। আহত দুই শিক্ষার্থী তার সহপাঠী।

নিহত ওমর চন্দ্রা পলতীবিদ্যুৎ এলাকার শিমুল হোসেনের ছেলে। তার বাবা-মা স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকুরি করেন। ওমর পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল বলে বাবা শিমুল হোসেন জানান।

এদিকে ঘটনার পর চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় পরিবহন শ্রমিক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর দ্রুত সেখানে হাজির হয় ওই স্কুলের শিক্ষক ও পুলিশ প্রশাসন। তারা উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে কালিয়াকৈর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ওমরের সহপাঠীরা জানায়, দুপুর সোয়া একটার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী স্কুল ছুটি হয়ে যায়। স্কুল ছুটি হওয়ার পরপরই সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ওমর সহ ৫-৬জন সহপাঠী পলতীবিদ্যুৎ এলাকার ভাঙ্গা মসজিদের বাসায় আসার জন্য রওনা হয়। তারা গাজীপুরগামী আজমেরি পরিবহনের কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ সময় ওই পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব -১৪-২৬৭৭ নম্বরের একটি বাসে ওঠার চেষ্টা করে ওমর। তবে বাসের হেলপার তাকে দরজার কাছেই সজোড়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। বাসের বডির সঙ্গে মাথা ও বুকে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হয় সে। তখন সহপাঠীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার জীবন নামের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত ওমরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তারা আরও জানায়, এরপর সহপাঠীরা কিছু বুঝে উঠতে না পেরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার দাসকে ফোনে ঘটনাটি জানালে তিনি অন্য শিক্ষকদের নিয়ে দ্রত সেই হাসপাতালে ছুটে যান। পরে ওমরকে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। ছুটে আসেন ওমরের বাবা শিমুল হোসেন।

অপরদিকে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা চন্দ্রা ত্রিড়োড় এলাকায় গিয়ে আজমেরি পরিবহন আটকের চেষ্টা করলেও ওই পরিবহনের কোনো বাস তারা পায়নি। তবে ওই বাসের চালক আক্তার হোসেনের নাম জানতে পারলেও হেলপারের নাম জানা যায়নি।

সহপাঠী কামরুল ইসলাম ও শাওন জানায়, তারা স্কুল ছুটির পর চন্দ্রা কালামপুর মোড় এলাকার আজমেরি পরিবহনের কাউন্টারের সামনে বাসে ওঠার সময় চলন্ত অবস্থায় ওমরকে হেলপার ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। চোখের সামনে বাসের বডির সঙ্গে জোরে আঘাত পেয়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বাসের চালক তখন বাসটি দ্রত চালিয়ে ঢাকার দিকে নিয়ে যায়। পরে তারা ওমরকে উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়।

নিহত ওমরের বাবা শিমুল হোসেন বলেন, হেলপার আমার বুকের মানিককে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। সন্তানের হত্যাকারীর বিচার চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার দাস জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে বিদ্যালয় ছুটি হয়। বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে ওমর চন্দ্রা ত্রিমোড় বাসস্ট্যান্ড থেকে আজমেরি পরিবহনের বাসে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ওমরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

সালনা কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ঘাতক বাসটি আটক করেছি। মামলা ছাড়াই নিহত শিক্ষার্থীকে নেওয়ার জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবেদন করেছে তার স্বজন।