ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক:

৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ ‘পদ্মাবত’

1045_10.jpg
ভারতের আলোচিত-সমালোচিত পদ্মাবত সিনেমাটি নিষিদ্ধ করেছে মালয়েশিয়া। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। মুক্তির আগে থেকেই ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছে সিনেমাটি। মুক্তির দিন বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সংঘর্ষও হয়েছে। অনেক স্থানে পুলিশ পাহারায় সিনেমাটি দেখানো হয়েছে।

চতুর্দশ শতকের ঐতিহাসিক ঘটনানির্ভর সিনেমাটির মূল বিষয়বস্তু দিল্লির মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি, রাজপুত শাসক রতন সিং ও রানী পদ্মাবতী। ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ এনে করনি সেনা নামক হিন্দুদের একটি গ্রুপ ছবিটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। ছবিটির নিষিদ্ধের জন্য আদালতেও গিয়েছে তারা। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর চারটি প্রদেশ বাদে ভারতের অন্যান্য অংশে কঠোর নিরাপত্তায় মুক্তি দেয়া হয়েছে ছবিটি।

গত শুক্রবার মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিনেমাটি তাদের দেশে প্রদর্শন করতে দেয়া হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা যুক্তিযুক্ত নয়।
স্ট্রেইট টাইমস পত্রিকা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তাকে এমন একজন অহঙ্কারী, নিষ্ঠুর, অমানবিক, ধূর্ত বাদশাহ হিসেবে দেখানো হয়েছে। উপস্থাপন করা হয়েছে প্রতারক ও ইসলামিক শিক্ষা মেনে চলেন না এমন চরিত্র হিসেবে।’

মালয়েশিয়ার চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডও জানিয়েছে, ছবিটি প্রদর্শনের জন্য অনুমোদন করা হবে না। মালয়েশিয়ায় ছবিটির যে ট্রেলার প্রচার করা হয়েছে সেখানেও আলাউদ্দিন খিলজিকে আগ্রাসী চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার জনগোষ্ঠীর ৭ শতাংশ ভারতীয়। বলিউডের সিনেমা সেখানে খুবই জনপ্রিয়।

পদ্মাবতকে মেনে নিলো করণি সেনা

ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ এনে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় আন্দোলন চালানোর পর সঞ্জয় লীলা বানসালীর ‘পদ্মাবত’ ছবির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে ভারতের রাজপুত সংগঠন করণি সেনা। চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে রাজনীতির ময়দানে বিতর্ক ছড়ানো এই ছবিটি নিয়ে আগুন-ভাঙচুর এমনকি স্কুলবাসে পর্যন্ত হামলা চালাতে দ্বিধা করেনি করণি সেনা। অথচ এখন তারা বলছে, ‘পদ্মবত’ নামক সিনেমাটি তাদের অর্থাৎ রাজপুতদের জাতগরিমাকে মহিমান্বিতই করেছে। হিন্দুস্থান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

২০১৬ সালে পদ্মাবতের (তখন ঠিক ছিল নাম হবে পদ্মাবতী) শুটিং শুরু হওয়ার পর থেকেই, উগ্র রাজপুত আবেগের রাজনীতি নিয়ে খেলতে শুরু করে দিয়েছিল এই ‘বুড়ো খোকার’ দল। রাজস্থানেই এদের মূল ভিত্তি। ‘পদ্মাবত’-এর আগে ‘জোধা আকবর’ ছবি নিয়েও তুমুল সোরগোল তুলেছিল এরা। তবে এ বারের উন্মত্ততা ছিল অনেক বেশি। ছবির পরিচালককে থাপ্পড় মারা, সেটে ভাঙচুর ইত্যাদি-ইত্যাদি দিয়ে শুরুহয়েছিল এদের ‘পদ্মাবতী’ বিরোধিতা। তার পর কেউ রণবীরের পা ভাঙার হুমকি দিয়েছেন, কেউ বানসালীর মাথা কেটে আনলে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, কেউ বা দীপিকার নাক কাটার কথা বলেছেন।

আর ‘পদ্মাবত’ হয়ে সেই ছবি মুক্তির সময়, বিরোধিতা রূপ নিলো আরো হিংস্র তাণ্ডবে। বিস্ময়ের বিষয়টা হলো ভারতের চার রাজ্যের সরকার এই ইস্যুতে তাণ্ডবকারীদের নৈতিক ও প্রশাসনিক সমর্থন জানায়। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং হরিয়ানা সরকার ‘নিষিদ্ধ ঘোষণা’ করল পদ্মাবতকে। সুপ্রিম কোর্টে এই নিষেধাজ্ঞা বেআইনি সাব্যস্ত হওয়ার পরও, ওই চার রাজ্যে কিন্তু মুক্তি পায়নি ছবিটি।
এরপর হঠাৎ এই রাজপুত ‘সৈনিকদের’ একাংশের মত এবং ভোল বদল হলো ছবি মুক্তি পাওয়ার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায়। করণি সেনার এখন তিনটে গোষ্ঠী রয়েছে। ‘শ্রী রাজপুত করণি সেনা’, ‘শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা’ এবং ‘শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনা সমিতি’। ‘শ্রী রাষ্ট্র্রীয় রাজপুত করণী সেনার’ এখন মনে হচ্ছে, ‘পদ্মাবত’ রাজপুতদের শৌর্য এবং আত্মত্যাগ বা আত্মবলিদানকে মহিমান্বিতই করেছে। এখন তারা সানন্দে ছবিটি প্রচারের দায়িত্বও নিতে চাইছে।

গতকাল শনিবার ‘শ্রী রাষ্ট্রীয় রাজপুত করণি সেনার’ মুম্বাই শাখার নেতা যোগেন্দ্র সিংহ কাটার জানিয়েছেন, আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার মুম্বাইয়ে তাদের কয়েকজন সদস্য ছবিটি দেখেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের জাতীয় সম্পাদক সুখদেব সিংহ গোগামেড়ি। ছবিটি দেখার পর তাদের মনে হয়েছে, ‘পদ্মাবত’ রাজপুত ঐতিহ্যকে উজ্জ্বল আলোতেই দেখিয়েছে। তুলে ধরেছে রাজপুতদের আত্মত্যাগকে। প্রত্যেক রাজপুত নাকি ছবিটি দেখে গর্বও অনুভব করবেন। এমনকি তাদের মতে, দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি এবং রানি পদ্মিনীর মধ্যেও এমন কোনো আপত্তিকর দৃশ্য নেই, যেটি রাজপুতদের ভাবাবেগে আঘাত করবে! যোগেন্দ্র লিখিত বার্তায় জানিয়েছেন, তারা প্রতিবাদের অবস্থান থেকে সরে আসছেন। এমনকি রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং গুজরাটে যাতে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে, সে জন্য প্রশাসনকে অনুরোধও করবেন তারা। করণি সেনার অন্য দুই গোষ্ঠী অবশ্য এখনো নতুন করে কিছু জানায়নি।