ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০১

আরো ২৫০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

10511_ততত.jpg
নতুন বছরের প্রথম মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো আরো আড়াইশ রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থার বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আলজাজিরা আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করেছে।

সৌদি আরবে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে। রোহিঙ্গা নাগরিক হয়েও বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে তারা সৌদি আরবে বসবাস করছে। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অনেক রোহিঙ্গাই সৌদি আরবে বসবাস করছে।

এসব রোহিঙ্গার মধ্যে অনেকে সৌদি আরবের শুমাইসি আটক কেন্দ্রে আটক রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে গত ৭ জানুয়ারি ১‌৩ রোহিঙ্গাকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়েছিল রিয়াদ। এবার সেখান থেকে একই অভিযোগে আরো আড়াইশ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর নে সান লুইন বলেন, ‘ভয়ানক ব্যাপার হচ্ছে, এসব রোহিঙ্গা ঢাকায় ফেরার পর কারাবাসের মুখোমুখি হতে পারে। আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

‘অধিকাংশ রোহিঙ্গা নাগরিকেরই সৌদি আরবে বসবাস করার কাগজপত্র আছে। তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে। কিন্তু শুমাইসি আটক কেন্দ্রে বন্দিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থী নয়, অপরাধীর মতো আচরণ করা হচ্ছে,’ যোগ করেন নে সান লুইন।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের এই কর্মকর্তা একটি ভিডিও দেখিয়েছেন, যেখানে একজন রোহিঙ্গা বলছে, তারা অনেক দিন আগেই সৌদি আরবে এসেছে। এখন তাদের সরাসরি ঢাকার ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

নে সান লুইন বলেন, ‘অনেক রোহিঙ্গাই দালালদের মাধ্যমে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও ভারতের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে। এখন যদি তাদের ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে তাদের জেল হতে পারে। সৌদি কর্তৃপক্ষের উচিত এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়ে অন্যসব রোহিঙ্গার মতো তাদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া।’

২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালায়। এর পরের দিন থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। এ সহিংস অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বিভিন্ন সময় সহিংসতার শিকার আরো চার লাখ রোহিঙ্গা তার আগে থেকেই বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

এসব রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য চুক্তি হলেও কার্যত তা প্রায় নানা অজুহাত দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছে মিয়ানমার। প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে ধরপাকড়ের ভয়ে প্রায় এক হাজার তিনশ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।