ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

স্পোর্টস ডেস্ক

২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:০১

এবার চট্টগ্রাম মাতাবে বিপিএল

10650_bpl.jpg
ঢাকা-সিলেট-ঢাকা হয়ে বিপিএল এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এখন থেকে চার-ছক্কার এ আসর মাতাবে চট্টলাবাসীকে। অবশ্য চট্টগ্রামের হিসাবটা থাকছে অন্য রকম। প্রতিটি দলেই এখন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যের হিসেবে নেমে পড়েছে। কে সেমিফাইনালে যেতে পারে মূলত সেটিই মুখ্য হয়ে গেছে। তিন পর্ব শেষে তার একটা হিসাবও ফুটে উঠেছে।

তবু চট্টগ্রাম পর্বেও এ হিসাবে কিছুটা ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে বৈকি! প্রতিবারের বিপিএলের গতিচিত্রের সাথে এবারেরটা মেলানো কষ্টকর। কেনই যেন ফেবারিটের তালিকার শীর্ষে উঠে আসছে চিটাগাং ভাইকিংসের নাম। মুশফিকুর রহীমের এ দলটি তেমন পারফরম্যান্স করেই চলছে। রংপুর রাইডার্স বা ঢাকা ডায়নামাইটস সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। একেকটি দল এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন ৭ সর্বোচ্চ ৯ ম্যাচে অংশ নিয়েছে। কিন্তু সর্বনিম্ন ৭ ম্যাচ খেলে মুশফিকের দলই এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ১২ পয়েন্ট তাদের। ঢাকা ও কুমিল্লা রয়েছে এরপর। ৮ ম্যাচ খেলে উভয়ের পয়েন্টই এখন ১০। ক্রিস গেইলসহ দামি ক্রিকেটারের সমারোহ ঘটিয়েও রংপুর সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি। ৮ ম্যাচ খেলে হেরেছে তারা চারটিতেই। পয়েন্ট ৪। ঢাকা ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়াও তিনটি করে ম্যাচে হেরেছে। এক ম্যাচে হেরেছে শুধু চিটাগাং ভাইকিংস।

হোমে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলা রয়েছে। যেমনটি সূচনা ম্যাচেই লড়তে হবে রংপুর রাইডার্সকে। আজই সে হাইভোল্টেজের ম্যাচ চট্টগ্রাম ভাইকিংসের। এর পরও রয়েছে রাজশাহী কিংস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ম্যাচ। তবে প্রধান চ্যালেঞ্জটা তাদের ওই রংপুরের সাথেই। দুর্দান্ত ম্যাচ হবে সেটা। দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। মুশফিকের দলে রয়েছে ডেলপোর্ট, মোহাম্মদ শাহজাদ, ইয়াসির আলী, নজিবুল্লাহ জরদান, নাঈম হাসান, ফ্রাইলিংক প্রমুখ ক্রিকেটার। টি-২০ ভার্সানে যারা এরই মধ্যে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। তবে দলটির প্রধান পারফরমার মুশফিক নিজেই। দুর্দান্ত খেলে চলছেন। শেষ ম্যাচেও অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দলকে নিয়ে যান অনায়াসেই জয়ের মার্কে। হোমেও ওই কাজটি বহাল রাখবেন তিনি সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

রংপুর রাইডার্সে অবশ্য তারকা সমাহার। ক্রিস গেইল, হেলস, এ বি ডিভিলিয়ার্স, রোসোর মতো চার বিদেশী। সাথে মাশরাফি। ফলে এদের সমন্বয় যখন শুরু হবে তখন রংপুরকে আটকানো বোধহয় কঠিনই হয়ে যাবে। ক্রিস গেইল তো একাই অনেক কিছু। সাথে ডিভিলিয়ার্স, হেলসরাও দুর্দান্ত। কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে তারা, এটি ঠিক। কিন্তু ওই স্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে মোটেও সময় লাগার কথা না মাশরাফিদের। ২২ জানুয়ারির ম্যাচে তারা হারিয়েছে খুলনা টাইটানসকে। ওই ম্যাচে খুলনা সংগ্রহ করেছিল ১৮১ রান। সেটি টপকে গেছে তারা সহজেই।

দিনকাল এবার খুব ভালো যাচ্ছে না ঢাকার। সাকিব পারফরম্যান্স করলে সব ঠিক, নতুবা দলটি আর এগোতেই পারে না। সাকিব নির্ভরতার জন্যই দলটি প্রত্যাশিত ফল পেতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ একজন ক্রিকেটার প্রতিটি ম্যাচেই ভালো করবেন এটি প্রত্যাশা করা উচিত না। সাকিব বোলিংয়ে পুষিয়ে দিলে ব্যাটে ব্যর্থ হতে পারেন। কিন্তু সেটাতে চলবে না। দুই বিভাগেই তার সফলতা চাই! এমনটি তো হয়। এ ছাড়া এবারের দলে সুনীল নারিন, আন্দ্রে রাসেল, রাসুলি প্রমুখের সাথে স্থানীয়রাও তেমন সুবিধা করতে পারছে না। প্রতিটি ম্যাচেই দুশ্চিন্তা নিয়েই এগোতে হচ্ছে। এমনটি যত দিন গড়াবে ততই শিরোপাপ্রত্যাশী একটি দলের জন্য বিব্রতকর। তবু সাকিব অধিনায়ক হিসেবে যেহেতু অনেক বুদ্ধি রাখেন। দলকে হয়তো তিনি ঠিকই সময়মতো দাঁড় করিয়ে ফেলবেন।

অন্য দলের মধ্যে এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সও বেশ ভালো পারফরম্যান্স করছে। তামিম ভালো করলে তো কথাই নেই। এর পরও দলে রয়েছেন এমন কিছু খেলোয়াড়, যারা দলকে জয়ের লক্ষ্যে নিয়ে যেতে সক্ষম। যাদের মধ্যে আছেন তিসারা পেরেরা। শহীদ আফ্রিদি। এ ছাড়াও আছেন ইমরুল কায়েস, ডসন, এনামুল বিজয় প্রমুখ। ফলে তাদের চোখও সেমিফাইনালেই।

অন্য দলগুলো তেমন শক্তিশালী না হলেও যেকোনো দিন যে কাউকে হারিয়ে দেয়ার মতো পারফরম্যান্স করতে পারে। এর মধ্যে সিলেট সিক্সার্স, রাজশাহী কিংস, খুলনা টাইটানস রয়েছে। সব মিলিয়ে দিন যত গড়াচ্ছে তত উত্তেজনা বাড়ছে এ আসরের। চূড়ান্ত পর্বের আগে চট্টগ্রামেও এ উত্তেজনা থাকবে বৈকি! আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে অংশ নেবে সিলেট ও রাজশাহী কিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে লড়বে চিটাগাং ভাইকিংস ও রংপুর রাইডার্স।