ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে

২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:০১

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে জেগে উঠা চর দ্বীপে পরিণত

10706_Tangail jamuna pic-1.jpg
অসংখ্য নদ-নদীর দেশ বাংলাদেশ এগিয়েছে নদীকে বাদ দিয়েই। তাই নদীও প্রতি বছর এসেছে ভয়াল রুদ্রমূর্তি নিয়ে। এমনই একটি অবহেলিত এবং প্রকৃতির খেয়ালে বন্দী যমুনা নদী। নদীর একেকটি জেগে উঠা চর একেকটি দ্বীপের মত পরিণত হয়েছে। মূল নদীতে চর জেগে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়েছে। অন্যদিকে চরের মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনেক সময় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বিশার চর পাড়ি দিতে হয় তাদের। আবার খরার সময় মাথার উপর প্রচন্ড সূর্যের তাপ নিয়েই ধু ধু বালুচর পাড়ি দিতে হয় চরের মানুষের। যমুনা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরের মানুষের দূর্ভোগের শেষ নেই। নদী শাসন না হওয়ায় পানি শুকিয়ে যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এমন চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর যমুনা নদীতে।

জেলার উত্তরে জামালপুর এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর হতে ভূঞাপুর বঙ্গবন্ধু সেতুপুর্ব পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদী শুকিয়ে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়ে খালে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত নাব্যতা না থাকার কারনে যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা। নদীতে চর জেগে উঠায় নৌকাগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দিয়েছে মালিকরা। দু’একটি নৌকা পালা-বদল করে চলাচল করছে। নির্ধারিত কোন ঘাট না থাকায় নৌকা চালকরা সুবিধামত মানুষ নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে কষ্ট করে নৌকায় উঠা-নামা করতে হচ্ছে চরের মানুষের। উপজেলার গাবসারা ও অজুর্না এই দুইটি ইউনিয়নে চর জেগে উঠেছে। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় এর মালিকরা ভিন্ন পেশায় চলে গেছে। কেউ ইট ভাটায়, কেউ খেতে-খামারে কাজ করছে।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বাস্তু হারা হয়ে যায় শত শত পরিবার। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই এলাকা বিশাল চরে পরিণত হয়। যমুনা নদী ভেঙে ক্রমশঃ পূর্বের দিকে ধাপিত হচ্ছে। ফলে ভেঙে যাচ্ছে পুরাতন জনপদ। অন্যদিকে ভরা মৌসুমে চরের মানুষের যাতায়াতের তেমন ভোগান্তি পোহাতে না হলেও শুষ্ক মৌসুমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় চরের মানুষের। শিক্ষার্থীরা পায়ে হেটে বিশাল চর পাড়ি দিয়ে নৌকা ঘাটে এসে এরপর তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

চরাঞ্চলের অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, চরে বাস করতে করতে কষ্ট কি জিনিষ ভুলে গেছি। এখন আর কেউ চরে বাড়ি শুনলে মেয়ে-ছেলে বিয়ে করতে চায় না অনেকেই। যাতায়াতের সমস্যার কারনে ডেলিভারী রোগীদের হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। এখন খরা মৌসুম তাই মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। তাদের অভিযোগ চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত, দূর্যোগকালীন নিরাপত্তা অনেক সমস্যা এখনও রয়েছে। ফলে চরের চারিদিক বেড়িবাঁধ দিয়ে যমুনার ভাঙন ও ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে চরের মানুষকে রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।
উপজেলার চরাঞ্চলের গাবসারা মাদরাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে সহজ হয়। নৌকায় চড়ে মাদরাসার পিছনে গিয়ে নামতে পারি। আর এখন ১০টাকা দিয়ে নৌকায় নদী পাড় হয়ে পরবর্তিতে দুই কিলোমিটার পায়ে হেটে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদীতে চর জেগে উঠায়।

চরচন্দনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, কষ্ট হলেও যেতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতেই নৌকা আটকে পড়ে। আবার বর্ষার সময় খুব সহজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে নামতে পারি। শুকনা মৌসুমে কষ্টটা বেশি সবচেয়ে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফিজুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশের নদী শাসনের কোন প্রকল্প নেয়া হয়নি। তবে উপজেলার কুঠিবয়ড়াসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এরআগে কয়েকটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হলেও সেগুলো পাস হয়নি।