ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

এনএনবিডি, দিনাজপুর:

৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:০১

হাঁটু গেড়ে, কান ধরে সড়কে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

10824_habi.jpg
‘জীবনে হয়তো কোনো পাপ করেছি-যার প্রায়শ্চিত্ত করতে এসেছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষক-প্রশাসন দ্বন্দ্বের কারণে গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। এমনিতেই আমরা সেশনজটের মধ্যে পড়েছি। তার ওপর ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় আমাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

‘প্রশাসন এবং শিক্ষকরা আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে তাদের পা ধরেও তাদের বিবেককে আমরা নাড়া দিতে পারি নাই। রাস্তার কুকুরের পা ধরলেও হয়তো আমাদের দাবি মেনে নিত। কোনো দোষ না থাকলেও তাদের দ্বন্দ্বের কারণে আমাদের জীবন অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে তারা। এমন অবস্থায় আত্মাহুতি দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাঁটু গেড়ে ও কান ধরে অভিনব আন্দোলন কর্মসূচি পালনকালে ক্ষোভে-দুঃখে-কষ্টে এমন কথা বলছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর ছাত্র শামীম ইসলাম।

শুধু শামীমই নয়, দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষক আন্দোলনের ফলে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে শিক্ষাজীবন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হওয়ায় সিএসই, বিজ্ঞান, ফিসারিজ অনুষদের শত শত শিক্ষার্থী অভিনব আন্দোলন কর্মসূচি পালনকালে বুধবার এমন কথা জানায়।

কেউ কেউ মাথায় জমটুপি পরে ও হাতে ফাঁসির রশি নিয়ে আত্মাহুতি দেয়ার কথা জানায়।

ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) অনুষদের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর ছাত্র সজীব চৌধুরী মাথায় জমটুপি আর হাতে ফাঁসির রশি নিয়ে জানায়, দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবি জানালেও শিক্ষক ও প্রশাসন আমাদের কথা শুনছেন না। বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে আমাদের লেখাপড়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় আমাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় আমাদের আত্মাহুতি দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ই নেই। আমরা আত্মাহুতি দিলে, তার দায়ভার প্রশাসন ও শিক্ষকদেরকেই নিতে হবে।

এদিকে হাবিপ্রবির সংকট নিরসনে গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের বাসভবনে আন্দোলনরত নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, ছাত্রছাত্রী নিয়ে বৈঠকে বসেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেম। রাত ১২টা পর্যন্ত বৈঠক চললেও দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে চলা সংকটের নিরসন হয়নি। ফলে গতকাল বুধবারও ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়নি।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটাই তাদের যে শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় ভুল-এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে শিক্ষাবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সহকারী অধ্যাপকদের নেতৃত্বদানকারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না-এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, শিক্ষার্থীদেরকে দেখে কষ্ট লাগে আমাদের। কিন্তু আমরা আমাদের মর্যাদার জন্য লড়াই করছি। এই জায়গা থেকে সম্মানজনক নিষ্পত্তি পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম জানান, একাধিকবার আলোচনার পরও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যাতে করে অতিদ্রুত ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর থেকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, সহকারী অধ্যাপকদের লাঞ্ছিত ও নারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানিকারীদের বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টার বহিষ্কার ও দুই সহকারী অধ্যাপকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছেন নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপকরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও।

এতে গত আড়াই মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকায় হাবিপ্রবির বিজ্ঞান, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসসি) এবং ফিসারিজ অনুষদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থার।