ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএন বিডি, ঢাকা

৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০১

ভোটারদের সঙ্গে সাম্প্রতিককালের সেরা রসিকতা: রিজভী

10840_Rezvi.jpg
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সিইসি বলেছিলেন যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মতোই আগামী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাধিকার কেড়ে নিতে সাহায্য করে তিনি বড় ধরনের অপরাধ করার পরও তার ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সাম্প্রতিককালের সেরা রসিকতা করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আরো বলেন, ‘গণতন্ত্রের মা’, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্যায়ভাবে কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা সোহরাওয়াদী উদ্যানে বিএনপি’র উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে ‘তথ্যযন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণমাধ্যমকে ডেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সত্যকে আড়াল করতে পারবেন না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত দুর্নীতির প্রতিবেদন নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, গতকাল তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট বিএনপির আমলে সঠিক ছিল, এখন মনগড়া। বাহ! বাহ! তাহলে বিএনপির আমলে জলবায়ুরও কী পরিবর্তন হয়েছে গেছে বর্ষাকালে বর্ষা হয় না, শীতকালে শীত পড়ে না, বসন্তকালে কোকিল ডাকে না। বিএনপির আমলে ডাকতো এখন ডাকে না- তার কথা শুনে আমার এটাই মনে হচ্ছে।

রিজভী বলেন, একই প্রতিষ্ঠান বিএনপির আমলে যেটা বলেছে সেটা সঠিক এখন বলছেন সেটা বেঠিক হয়ে গেলো! আসলে তথ্যমন্ত্রী এখন যেন তথ্যযন্ত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তিনি তার তথ্যযন্ত্রের মাধ্যমে এমন আজগুবি তথ্য দেন ততে শুধু দেশবাসীই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও স্ববিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সাহিদা রফিক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা মুনি হোসেন, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত বলে সব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে না। কেবল টিআই-ই নয়, ওয়াশিংটন ভিত্তিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাঁচার বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে শুধু ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আর গত ১০ বছরে পাচার হয়েছে পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। এই দুর্নীতির টাকা আওয়ামী ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরাই পাচার করেছে। সুতরাং তথ্য মন্ত্রী গণমাধ্যমকে ডেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সত্যকে আড়াল করতে পারবেন না। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভুয়া ভোটের সরকার আরো জোরালোভাবে রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে একই কেন্দ্রের অধীনে করলো। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ক্ষয় হতে হতে এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিরোধী দল, মত ও বিশ্বাসের ওপর চলছে টার্গেট দমন-পীড়ন। নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সঙ্কুচিত হতে হতে এখন নিঃশেষিত হয়ে জনগণের বিরাজনীতিকরনের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্বে এসে উপনীত হয়েছে। রাষ্ট্রের মেশিনারিজ ভুয়া ভোটের সরকারের অনুকুলে এখন বিভতস চেহারায় জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এক ব্যক্তি, এক দল নীতির বেপরোয়া আস্ফালন জনগণকে এখন আতঙ্কিত করে রেখেছে। জনগণকে পরাধীন করে এখন আওয়ামী লীগ উপনিবেশ কায়েম করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সিইসি বলেছিলেন যে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মতোই আগামী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাধিকার কেড়ে নিতে সাহায্য করে তিনি বড় ধরনের অপরাধ করার পরও তার ওই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সাম্প্রতিক কালের সেরা রসিকতা করলেন । সিইসি ও অন্যান্য কমিশনাররা নিজেদের জীবন কোনো মূল্যবোধের ওপর গড়ে তোলেন নি। তারা নিজেদের জীবনে মনুষ্যধর্মকে বিসর্জন দিয়েছেন। তারা ভোটের আগের দিন রাতে জাল ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স পূরণের তদারকি করেছেন। তারা নিজেদের জীবন গড়ে তুলেছেন ভোটারবিহীনভাবে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য। তারা মূলত: আওয়ামী লীগের ইচ্ছায় নির্বাচন-ব্যবস্থা ধ্বংস করার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। মন্ত্রীসভা ও সংসদ বহাল রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে বলে তারা দাবি করেছেন। অথচ এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দুরে থাক, বরং এটি খানা-খন্দে ভরা মাঠ, সেই বিষয়টি দেখেও নির্বাচন কমিশন তা উপেক্ষা করেছে।

রিজভী বলেন, তারা ন্যূনতম সুষ্ঠু একটি নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে উঠতে দিলেন না আওয়ামী সরকারের মোসাহেবী করতে গিয়ে। এদের দ্বারা অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রকৃত জনরায়ের প্রতিফলন ঘটানোর দিন শেষ হয়ে গেল। সুতরাং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে এটি সুষ্পষ্ট হলো যে, এই কমিশনের তদারকিতে উপজেলা নির্বাচনগুলোও ভুয়া ভোটের নির্বাচনেরই মহৌৎসবে পরিণত হবে। অর্থাৎ নির্বাচনের আগের রাতেই একই কায়দায় সরকার মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করা হবে। এবারে নির্বাচন কমিশনের জন্যই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রাণসংহারী হয়ে উঠেছিল, কারণ নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততায় মহাভোট ডাকাতিতে লিপ্ত পুলিশ প্রশাসন ও সরকারী দলের ক্যাডাররা উৎসাহবোধ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত ঝরেছে ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের। সুতরাং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে চেয়েছে কিন্তু সুষ্ঠু করতে নয়। ভোট ডাকাতির সাক্ষ্য-প্রমান তারা নিজেরাই রেখে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই জনরায়ের প্রতি আওয়ামী লীগের অবজ্ঞা। আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী দুঃসহ অপশাসনের এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে তারা সবসময় প্রতিপক্ষের প্রতিশোধ আশঙ্কায় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশকে বন্ধ করে দেয়। মূলত: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মানবিকতার কোনো স্থান নেই। ‘রক্তপাতময় রাজনীতিই এদের স্বভাবধর্ম। সব যুগেই এরা নির্বাচনে ভোট ডাকাতির সাথে সহিংসতা ও খুন জখমের পদ্ধতি অবলম্বন করে। দখল, হরণ ও প্রাণঘাতি প্রবণতাই আওয়ামী রাজনীতির অন্তর্নিহিত শক্তি। খোঁড়া অজুহাতের আশ্রয় নিয়ে তারা বিরোধী দলকে কারাগারে প্রেরণ করে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে এরা বিচার ব্যবস্থাকে নড়বড়ে করে ফেলেছে।