ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

জবি প্রতিনিধি

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:০২

রক্তের হলি খেলায় জবি ছাত্রলীগ, প্রক্টরের নাটকীয় ভুমিকা

10857_kkk.jpg
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য যেন নিত্যকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও ক্যাম্পাসে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মী একযোগে তিন শিক্ষার্থীর উপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় ঐ তিন শিক্ষার্থীকে নিকটবর্তী একটি প্রাইভেট হাসপালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আ স ম আইয়ুব তুহিন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান নয়ন ও রিফাত। তারা তিনজনই ছাত্রলীগকর্মী। আহত তুহিনের মাথায় ৩০টি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টিএসসিতে প্রেম নিয়ে বিরোধে আইয়ুব তুহিনের ওপর অর্থনীতি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান মুন, ১৩ ব্যাচের কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রিফাতসহ কয়েকজন লোহার রড ও রেঞ্জ নিয়ে হামলা চালায়। গুরুতর আহতাবস্থায় তুহিনকে পুরান ঢাকার সুমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে আটটারদিকে তুহিনকে হাসপাতালে রেখে ক্যাম্পাসে ফেরার পরে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান নয়ন ও রিফাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পিটিয়ে জখম করেন কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইংরেজি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল হাসান এর নেতৃত্বে ১০ ব্যাচের তৌফিক এলাহি ও নাদিম লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। গুরুতর আহতাবস্থায় নয়ন ও রিফাতকে প্রথমে সুমনা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীরা রাতে ক্যাম্পাসে  দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়।

ব্যাপারটি জানতে চাইলে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, মুন ছাত্রলীগের কেউ না। সে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় তাকে ছয় মাস আগে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে মিশতে নিষেধ করা হয়েছে। জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলকে মুঠোফোনে কল করে পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও ব্যাপারটি নিয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর ড.নূর মোহাম্মদ বলেন, ক্যাম্পাসে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, প্রক্টরের এমন নিয়মিত বক্তব্যকে উস্কানি হিসেবে দেখছেন ছাত্র শিক্ষকসহ অনেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজে সহায়তাকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটা এখন জবি ছাত্রলীগের রুটিন ওয়ার্ক হয়ে উঠেছে। যেখানে নিয়মিত উস্কানি হিসেবে আছে জবি প্রক্টরের উস্কানিমুলক ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্য। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিবেন এমন বক্তব্য ছাত্রলীগের উদ্ভটকর্মীদের সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর নির্যাতনে নিয়মিত উস্কানি দেয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক নেতা বলেন, জবি প্রক্টর আগে থেকেই গা বাঁচিয়ে চলেন। নিজের কোন এক দুর্বলতার কারণে ছাত্রলীগের কিংবা বিশ্ববিদ্যালের বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোন রকম একশনে যেতে পারেন না। তারউপর তিনি আবার নতুন করে জবি শিক্ষক সমতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গেল মঙ্গলবারেও একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে নিষ্ঠুরভাবে পেটায় ছাত্রলীগকর্মী সান । শিক্ষার্থীদের এখন একটাই প্রশ্ন, কবে থামবে এই দৌরাত্ম্যের জয়রথ !