ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএন বিডি, ঢাকা

১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২

দল-জোট রাজি নয়, তবু সংসদে যেতে চান সুলতান মনসুর

10869_nn.jpg
দল ও জোট রাজি না হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। আর দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের আরেক সাংসদ মোকাব্বির খান। তবে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ শপথ নিলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে তাঁকে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আটটি আসন পায়। জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ করে নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন তাঁরা, সংসদে না যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে জোটটি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকেও জোটের নির্বাচিতরা শপথ নেবেন না বলে জানানো হয়।

তবে রাজনীতির মাঠে গুঞ্জন, শেষ পর্যন্ত শপথ নিতে পারেন গণফোরামের দুই সাংসদ মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও সিলেট-২ থেকে নির্বাচিত মোকাব্বির খান। শপথ নেওয়া-না নেওয়ার বিষয়টি মোকাব্বির খান দলীয় প্রধান ড. কামাল হোসেনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আর সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, যিনি নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রেন্টের কোনো বৈঠকে যোগ দেননি।

জানতে চাওয়া হলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, ‘সময় যখন হবে, তখন আমি শপথ নেব। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমার সংসদীয় এলাকার লোকজন আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে। আমার এলাকার জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নের জন্য, এলাকার উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে জাতীয় সংসদে যাব।’ বর্তমানে অসুস্থ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সুস্থ হওয়ার পর শপথ গ্রহণ করব।’

অন্যদিকে মোকাব্বির খান বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন সাহেব আমার সংসদীয় এলাকার স্বার্থ উনি বিবেচনায় নেবেন, দলীয় স্বার্থ উনি বিবেচনায় নেবেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই দল সিদ্ধান্ত নেবে। দলের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।’

তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে গণফোরাম। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘তারা কেউ শপথ নেবে না, অংশগ্রহণও করবে না। দলীয় সিদ্ধান্ত বহাল আছে, ফলে কারো শপথ নেওয়া বা সংসদে যোগদান করার কোনো সুযোগ নাই। দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে যদি তারা সংসদে যোগ দেয়, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’

দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসতে পারে কি না জানতে চাওয়া হলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘সেটা নেওয়া হতেই পারে। তবে সুলতান মনসুর সাহেবের তো আরেকটা সমস্যা আছে, উনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন, সে ক্ষেত্রে বিএনপিও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তবে সংবিধান অনুযায়ী দল কাউকে বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়। সুলতান মনসুরের ক্ষেত্রে কী ঘটে, তা এখন দেখার বিষয়।