ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০২

 মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার

মাদক ও মাদকাশক্তি যে অতীতে ছিল না এমন নয়। তবে এর পরিসর ছিল খুবই সীমিত। এমনকি আমাদের স্বাধীনতাউত্তর কালেও মাদক ও মাদকাশক্তি ছিল খুবই সহনীয় পর্যায়ে। মূলত মাদকদ্রব্যের ব্যবহার একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যেই আবদ্ধ ছিল। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এর অতিব্যবহার ও ক্রমবিস্তৃতি শুরু হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এমন এক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে যা আমাদের জন্য ভাবনার বিষয় বৈকি! বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মাদকদ্রব্যের প্রাদূর্ভাব ভয়াবহ ও মরামারীর রূপ নিয়েছে। যা আমাদের জাতীয় জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতিই অপেক্ষা করছে।
মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার ও মাদকাশক্তির নানাবিধ কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে আইনের শাসনের দুর্বলতা। দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থাকলেও এই প্রতিষ্ঠান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে হয় না। এই অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল থাকলেও তাদের কর্মতৎপরতা মোটেই ইতিবাচক বলে মনে করার কারণ নেই। যদি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর  অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতো তাহলে দেশের মাদকদ্রবের ব্যবহার ও বিস্তার সীমিত পর্যায়েই থাকতো। কিন্তু সংস্থাটি শুধুমাত্র ‘সাক্ষী গোপাল’ হয়ে থাকার কারণেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। মাদকদ্রব্য এখন অপ্রতিরোধ্য হিসেবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে আমাদের জাতীয় অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।
আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবও মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও মাদকাশক্তির উন্নতম কারণ। দেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে অনুকুল ও যুৎসই আইনও রয়েছে কিন্তু যথাযথ প্রয়োগের অভাবেই আমার তার সুফল ঘড়ে তুলতে পারছি না। আইন প্রয়োগে শৈথল্য ও অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই অপরাধীরা অতি উৎসাহী হয়ে এই আত্মবিনাসী কাজে লিপ্ত রয়েছে। অতিমুনাফালোভী এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ীরা এর উন্নতম কারণ। এসব ব্যবসায়ী নামের সমাজবিরোধীরা আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করতেই মাদকদ্রব্যের আমদানী, বিপনন ও বাজার তৈরির কাজ করে করে থাকে। অভিযোগ আছে যে, এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা  সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আনুকুল্য নিয়েই এসব অপতৎপরতা চালিয়ে যায়। এতে সকল পক্ষ উপকৃত হলেও আমাদের নতুন প্রজন্ম জীবনী ও সঞ্জীবনী শক্তি হারিয়ে জাতির ঘাড়ে যে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাতে আমরা কেউ খেয়াল করছি না।
মূলত ক্রমবর্ধমান বেকারত্মও মাদকাশক্তির অন্যতম কারণ। কর্মহীনতা ও হতাশা থেকেই নতুন প্রজন্ম মাদকাশক্তির দিকে ঝুঁকে পরছে। দেশের জনসংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু আমাদের কর্মক্ষেত্র খুবই সীমিত। ক্রমবার্ধমান জনসংখ্যার দিকে খেয়াল রেখে আমাদেরকে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের পথ উন্মুক্ত করা উচিত। কিন্তু আমারা বোধহয় সে কাজটা যথাযথভাবে করতে পারছি না। নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কিন্তু আমরা তো করছিই না বরং আগের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কর্মসস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিবর্তের আমাদের কর্মসংস্থানের পরিসরটা আরও সীমিত হয়ে আসছে।
পৃথিবীর অন্যতম ঘন বসতিপূর্ণ আমাদের এই দেশ। তাই দেশীয়ভাবে এই বিপুল সংখ্যার জনশক্তির কর্মসংস্থান দুঃসাধ্যই বলতে হবে। তাই আমাদেরকে বিদেশে শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিদেশে শ্রমবাজার সৃষ্টিতে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে। আমাদের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো বৈদেশিক শ্রমবাজার সৃষ্টিতে যতখানি তৎপর আমরা কিন্তু ততটাই পিছিয়ে। মূলত যথাযথ উদ্যোগের অভাবেই আমাদের বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হওয়ার পরিবর্তে ক্রমেই সংকোচিত হয়েই আসছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বৈদেশিক শ্রমবাজার হারিয়েছি। ফলে বেকারত্ব বাড়ার সাথে সাথে হতাশা ও কর্মহীনতার কারণেই মাদকদ্রব্যের বিস্তার ও মাদকাশক্তি বেড়েছে।
আমাদের দেশে অবক্ষয়ে জয়জয়কারও মাদকাশক্তির আরও একটি কারণ। তাই দেশে মানকদ্রব্যের ব্যবহার ও মাদকাশক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নৈতিক শিক্ষা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে না। অন্যথায় আগামী দিনে আমাদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।