ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

বাসস

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২৩:০২

‘রোহিঙ্গা সমস্যাটির সমাধান হতে হবে’

10936_386515_157.jpg
মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইউএনএইচসিআর’র বিশেষ দূত জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী নেতা। তার মতো নেতা বর্তমানে খুবই কম।’

বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণভবনে আসেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গণভবন থেকে বের হন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। রোহিঙ্গা সংকটে ইউএনএইচসিআর সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যাটির সমাধান হতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দেশটির সাথে বাংলাদেশের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তার বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় জোলি বলেন, ‘কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় মিয়ানমারের নাগরিকদের ওপর চালানো নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের কাহিনী শুনেছি। শুনেছি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মেয়েদের তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে হত্যা করা হচ্ছে।’

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে এ পর্যন্ত জন্ম নিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি শিশু।’

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা লাঘবে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং ভাসানচরে তাদের অস্থায়ী পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার আগে বুধবার বিকেলে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবনধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। পরে দর্শনার্থী বইয়ে জোলি লিখেছেন, ‘এই বিশেষ বাড়িটিতে এসে আমি বেশ আবেগাপ্লুত। বাড়িটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে জেনে আমি কৃতজ্ঞ।’

তিন দিনের সফরে গত সোমবার ঢাকা আসেন জোলি। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজারে চলে যান। দুদিন ধরে তিনি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত জোলি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের এবার বাংলাদেশে এসেছেন।

তিনি মঙ্গলবার কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে শিবির পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।