ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএন বিডি, ঢাকা

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০২

অভিমান করে সংসদে না আসা ভুল সিদ্ধান্ত : প্রধানমন্ত্রী

11009_388245_141.jpg
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়ে অভিমান করে সংসদে আসছেন না তারা রাজনেতিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ জনগণ যাকে খুশী তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। যদি তারা পার্লামেন্টে আসেন, তাহলে তাদের কথা তারা বলার সুযোগ পাবেন। এই সুযোগটা তারা কেন হারাচ্ছেন আমি জানিনা। আমার আহবান এটাই থাকবে যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সকলে পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যার কথা তারা কথা বলবেন।

সংসদে প্রশ্নোত্তরে বুধবার জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।

তারকা চিহ্নিত প্রশ্নকর্তা জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজির অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন ও প্রধানমন্ত্রীর লিখিত জবাব দানের পর ফখরুল ইসলাম সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত ৮জন সংসদ সদস্যের ব্যাপারে ও প্রধানমন্ত্রীর অবসর জীবন গ্রামে কাটানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেয়েছি সকলে সম্মিলিতভাবে আমাদের দেশটাকে আমরা গড়ে তুলবো। তাই আমি নির্বাচনের আগে সকল দলকে ডেকেছিলাম এবং একটা সুন্দর পরিবেশে বৈঠক করেছি। সকলকে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম যেন সকলে নির্বাচন করে। বিগত সময় আমাদের দশ বছরে যে উন্নয়ন সেই উন্নয়নের সুফলটা বাংলাদেশের জনগণ পেয়েছে। আর পেয়েছে বলেই তারা সিদ্ধাস্ত নিয়েছিল যে তারা আমাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং জনগণ সেই ভোট দিয়েছে। এখন যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছে সেই অভিমান করে তারা সংসদে আসছেন না। আমার মনে হয় এটা রাজনেতিক ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কারণ জনগণ ভোটের মালিক। জনগণ যাকে খুশী তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই তারা দিয়েছে। যদি তারা পার্লামেন্টে আসেন তাহলে তাদের যদি কোনো কথা থাকে তাহলে তারা তা বলার সুযোগ পাবেন। আর এই সুযোগটা শুধু পার্লামেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখন যেহেতু মিডিয়াতে সম্পূর্ণভাবে সরাসরি যায়, সংসদ টিভিও আছে। তার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী জানতে পারবে। এই সুযোগটা তারা কেনো হারাচ্ছেন আমি জানিনা। আমার আহবান এটাই থাকবে যে, যারাই নির্বাচিত সদস্য তারা সকলে পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যার কথা তারা কথা বলবেন। এটাই আমি আশা করি। আমি সেই আহবান জানাচ্ছি।

অবসর জীবন গ্রামে কাটানো প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামটা হচ্ছে আমাদের প্রাণ। গ্রামের মানুষকে যেমন আমরা নাগরিক সুবিধাও দিতে চাচ্ছি। আবার একটু ভালো হলেই সব গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসা-এটা আসলে... ছোটবেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি। গ্রামের কাঁদামাটি মেখেই বড় হয়েছি। খালে ঝাঁপ দিয়ে, গাছে ওঠে নানাভাবে খেলাধুলা করেই গ্রামে বড় হয়েছি। হয়তো একটা পর্যায়ে চলে এসেছি, কিন্তু গ্রামের টান মুছে যায়নি, মুছে যায়না। এখনো মনটা পড়ে থাকে প্রিয় গ্রামে। কাজেই সব সময় একটা আকাঙ্ক্ষা যখনই অবসর নেব আমি গ্রামের বাড়িতে যেয়েই থাকবো। সেভাবে সবুজ শ্যামল সুন্দর পরিবেশ সবসময় আমাকে টানে। কাজেই এটা আমার একটা ইচ্ছা। আর আমি মনে করি গ্রামের নির্মল বাতাস, সুন্দর পরিবেশ এটা মানুষকে স্বাভাবিকভাবে অনেক সুস্থ্য রাখে, মন ভালো থাকে, প্রশান্তি দিতে অনেক কার্যকর। শহরের ইট কাঠের এই বদ্ধ একটা আবহওয়া ও পরিবেশ থেকে গ্রামের উন্মুক্ত পরিবেশটা আমার সব সময় আমার আকাঙ্ক্ষা।

আনোয়ারুল আবেদি খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করেছিলেন একটা স্বপ্ন নিয়ে যে, বাংলার দুখী মানুষের মুখে তিনি হাসি ফোটাবেন। আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি এবং আমার বোন দেশের বাইরে ছিলাম বলে বেঁচে গিয়েছি। ৬ বছর পর দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলাম। দেশে ফেরার পর সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশা স্বচক্ষে দেখেছি। কিভাবে সেই দুঃখ দুর্দশা দূর করে মানুষকে কিভাবে একটা সুন্দর জীবন দেব- সেটাই চিন্তা করেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। সেই স্বপ্ন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করার দায়িত্বটা সব শোক, দুঃখ কষ্ট বুকে নিয়েও আমি সেই দায়িত্বপালন করে যাচ্ছি। তার যে স্বপ্ন যে স্বপ্ন নিয়ে তার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো তিনি কারাগারে কাটিয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন, কষ্ট করেছেন আমার মা। আমরা ভাই বোনরাও। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের মানুষের এতো কষ্ট ছিল, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা- এই দায়িত্বটাই সবচেয়ে বেশি ছিল আমার মনে। বাবার স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে একটা মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো, একটা ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এইটুকু দাবি করতে পারি, বর্তমানে বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করছে পেরেছি, উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছি। বিশ্বব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। কিন্তু আমরা আরো সামনে এগিয়ে যেতে চাই যে এই দেশ সম্পূর্ণভাবে দারিদ্রমুক্ত হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে জীবন পাবে, উন্নত জীবন পাবে, সমৃদ্ধ জীবন পাবে। এটা যতক্ষণ না করতে পারবো ততক্ষণ আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।