ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১০ মার্চ ২০১৯, ১২:০৩

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কাটছে না সংশয়

11050_12.jpg
দিন গড়িয়ে ও রাত পেরুলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ভোটকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের। এসব সংগঠনের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে তাঁরা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র করাসহ যেসব দাবি তুলেছিলেন, সেগুলো মানা হয়নি; বরং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগ লাভবান হয়েছে। এমন অবস্থায় ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব সংগঠনের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে একধরনের শঙ্কা কাজ করছে।

সর্বশেষ নির্বাচনের দিন খবর সংগ্রহে গণমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এবার মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৬ জন। ডাকসুতে ২৫টি পদের জন্য লড়ছেন ২২৯ প্রার্থী। আর ১৮টি আবাসিক হলে মোট প্রার্থী ৫০৯। একেকটি হলে ১৩টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডাকসুতে প্যানেল দিয়ে নির্বাচন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র মুক্তিজোট, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

গতকাল শনিবার নির্বাচনের প্রচার শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে প্রচারের শেষ দিনে বাধার মুখে পড়েন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় ছাত্রসমাজের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। দুপুরে ছাত্রসমাজ মিছিল করার চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা।

নির্বাচন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গতকাল শাহবাগ থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
পক্ষপাতের অভিযোগ

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা ও প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২০ জানুয়ারি উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি আখতারুজ্জামানের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ দেয় ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি। সুপারিশে কেবল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের (স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত) ভোটার ও প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছিল কমিটি। পরদিন ২১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় ডাকসু নির্বাচনে কারা ভোটার হবেন, সে বিষয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্র জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, যেসব ছাত্র হল সংসদ ও ডাকসুর ফি দেন, তাঁদের সবার জন্য ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রটি যেন উন্মুক্ত রাখা হয়। ছাত্রলীগ ছাড়া বেশির ভাগ ছাত্রসংগঠনের দাবি ছিল, ভোটকেন্দ্র যেন আবাসিক হলের পরিবর্তে একাডেমিক ভবনে করা হয়। ছাত্রসংগঠনগুলোর যুক্তি ছিল, যেহেতু হলগুলোতে ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণ, তাই সেখানে ভোটকেন্দ্র হলে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হবে না।

ছাত্রলীগ বলেছিল, বর্তমানে চাকরির বয়সসীমা ৩০ বছর। তাই ডাকসুতে প্রার্থিতার বয়সসীমাও যেন ২৯ বা ৩০ করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর যাঁরা এমফিল ও পিএইচডি করছেন, তাঁদেরও নিয়মিত ছাত্র হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছিল সংগঠনটি।

পরিবেশ পরিষদের এই সভার পর ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিন্ডিকেট সভা করে ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থী নির্ধারণে বয়সসীমা ৩০ বছর বেঁধে দেয়। আর বেশির ভাগ ছাত্রসংগঠনের দাবি উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্র আবাসিক হলেই রাখা হয়।

এদিকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি সব সংগঠন নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি তোলে। তাদের বক্তব্য, একজন শিক্ষার্থীকে সব কটি পদে তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে বাছাই করতে চাইলে ৩৮টি ভোট দিতে হবে। ছয় ঘণ্টার মধ্যে এত সংখ্যায় ভোটার কখনোই তাঁদের ভোট দিতে পারবেন না। ভোটের সময় সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবিতে ২ মার্চ উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান। কিন্তু শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রশাসন জানায়, দুইটা পর্যন্তই ভোট হবে। তবে যাঁরা এই সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন, তাঁদের সবার ভোট নেওয়া হবে। একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি সংবাদপত্র থেকে দুজন প্রতিবেদক এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যম থেকে চারটি ক্যামেরা ইউনিট নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসন শুরু থেকেই ছাত্রলীগের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। অস্বচ্ছ একটি নির্বাচনের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমের প্রবেশে যে ‘বাধা’ তৈরি করেছে প্রশাসন, সেটিকে কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক।
তবে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ রয়েছে। নির্বাচনের সার্বিক যে পরিবেশ, তাতে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেই মনে হচ্ছে।অবশ্য সবকিছু নিয়ম অনুযায়ীই হচ্ছে বলে দাবি করেছেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

এ বিষয়ে নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমানের কার্যালয়ে গতকাল বিকেলে গেলে তিনিও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কথা বলতে চাননি।
প্রার্থীর এজেন্ট না থাকা নিয়ে বিতর্ক

শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন বলেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ব্যালট পেপারে থাকা পছন্দের প্রার্থীর নির্ধারিত ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবেন হলের আবাসিক শিক্ষকেরা। দুজন রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে একাধিক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (শিক্ষক) থাকবেন। তবে কেন্দ্রে প্রার্থীদের কোনো নির্বাচনী এজেন্ট থাকবেন না। কেবল ভোট গণনার সময় প্রার্থী বা তাঁদের প্রতিনিধি থাকতে পারবেন। অথচ ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ১১(খ) ধারায় ভোটকেন্দ্রে যেসব ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন, তাঁদের মধ্যে পোলিং এজেন্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বাম জোটের ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, উপাচার্য থেকে শুরু করে আবাসিক হলগুলোর প্রাধ্যক্ষেরা নিয়োগ পান দলীয় পরিচয়ে। ১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় প্রায় প্রতিটি হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সমর্থক ও নেতা। তাঁদের কাছ থেকে ভোটের সময় নিরপেক্ষ আচরণ পাবেন বলে তাঁরা মনে করছেন না। তিনি ভোটকক্ষে প্রার্থীর এজেন্ট রাখার দাবি জানান।

ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের সময় এজেন্ট থাকা না–থাকা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে এজেন্ট থাকতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এজেন্ট থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।