ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:০২

ব্যাংক ম্যানেজার যখন প্রতারক

 
আমাদের দেশে অবক্ষয়টা সর্বগ্রাসী রূপ লাভ করেছে। রাষ্ট্রের এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে অনিয়মের কালোহাত থাবা বিস্তার করেনি। আগের দিনে অপরাধ প্রবণতা ছিল সীমিত পরিসরে। কিন্তু এখন তা সর্বব্যাপী রূপ লাভ করেছে। আর তা বিস্তার লাভ করতে করতে এখন তা অপ্রতিরোধ্য হয়ে দেখা দিয়েছে। সমাজে অপরাধীর সংখ্যা ও অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। এসব ক্ষেত্রে বেড়েছে পৃষ্ঠপোষকতাও। শ্রেণি বিশেষ অপরাধ ও অপরাধ প্রবণতাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। মূলত শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যেই অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি বেশ উদ্বেগজনকই বলতে হবে। আর এসব অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত তারাও বোধহয় এ বিষয়ে উদাসীন ও বেখেয়াল। তাই আমাদের সমাজে অপরাধ প্রবণতা ক্রমবর্ধমান।  যা কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
আগের দিনে এসব কাজ যারা করতো তাদেরকে সমাজবিরোধী হিসেবে চিত্রিত করা হতো। এমন আর তেমনটা মনে করা হয় না।  সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই তারা ঘৃণা ও অবজ্ঞার পাত্র ছিল। এমনকি যারা এসব অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িত থাকতো তাদের মধ্যেও একটা অপরাধবোধ কাজ করতো। যদিও অভ্যাসবশত তা ছাড়তে পারতো না। কিন্তু এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন অপরাধীরা অপরাধ করে আমাদের সামনেই বীরদর্পে চলাফেরা করে। তাদের মধ্যে কোন অনুতাপ, অপরাধবোধ বা লজ্জাবোধ লক্ষ্য করা যায় না বরং অপরাধ করার পর এখন গর্ববোধ করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করে। কারণ, অপরাধীদের আমরা সামাজিকভাবে বয়কট তো করতে পারিইনি বরং ক্ষেত্র বিশেষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতায় দিয়ে চলেছি। যা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য বেশ লজ্জার।
আগের দিনে নিম্মশ্রেণির লোকেরা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত থাকতো। কিন্তু তা সে গন্ডি পেড়িয়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের বড় কর্তারাই এখন নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতার সাথে জড়িত। সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে,  বগুড়ায় রূপালী ব্যাংক লিমিটেড মহাস্থান শাখার গ্রাহকের করা বেশ কয়েকটি ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপট (এফডিআর) এর বিপরীতে ভুয়া ঋণ উত্তোলন করে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি নিয়ে ‘উধাও’ হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক মো. জোবায়নুর রহমান। ঘটনাটি তদন্তের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় একটি তদন্ত টিম বগুড়ায় পৌঁছেছেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তদন্ত টিম বগুড়ার মহাস্থান শাখায় কাজ করছিলেন বলে প্রাপ্ততথ্যে জ্ঞাত হওয়া গেছে।
বগুড়ার মহাস্থান মাজার কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, মহাস্থান কমিটির নামে ব্যাংকে রক্ষিত চলতি হিসাব থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়াও নাসির কটকটি ভান্ডারের নামে রক্ষিত এফডিআর’র বিপরীতে ভুয়া ঋণ বানিয়ে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা, ঠিকাদার জাহিদুর রহমানের প্রায় এক কোটি টাকা,আজমল হোসেনের প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৫ জনের নামে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি উত্তোলন করেছেন অভিযুক্ত ব্যাংক ম্যানেজার।
একজন ব্যাংক ম্যানেজারের এমন দুর্নীতি ও চৌর্যবৃত্তি শুধু দুঃখজনকই নয় বরং দেশও জাতির জন্য লজ্জাকর। শুধু তাই নয় একজন শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তার এ ধরনের অপকর্মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের ব্যাংকিং খাতে মরাত্মক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং আমানকারীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। মূলত নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের  ও মূল্যবোধের অভাবেই আমাদের সমাজে অপরাধ প্রবণতা ক্রমবর্ধমান। তাই দেশ ও জাতিকে এই স্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে হলে নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চার কোন বিকল্প নেই। আর কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদন্ড যথাসম্ভব যাচাই করা জরুরি। আর এসব অর্বাচীনদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়াও প্রয়োজন। যাতে আগামী দিনে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হওয়ার সাহস কেউ না পায়। অন্যথায় এসব প্রতারকদের প্রতারণা কোন ভাবেই বন্ধ করা যাবে না।