ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

শহীদুল ইসলাম

৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:০৪

ঢেলে সাজাতে হবে নগর পরিকল্পনা

11185_2.jpg
প্রতিকী ছবি
নতুন সরকার গত জানুয়ারীতে দায়িত্ব নেয়ার পর দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু নতুন কর্মসূচী। তার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ফুটপাতের হকার উচ্ছেদ অন্যতম। এতে হেটে চলা মানুষের কিছু সুবিধা হবে।তবে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে ফুটপাতে বেচা-কেনা করা স্বল্প আয়ের মানুষগুলো। তাদের কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এহেন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।এছাড়াও নগরীতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতেও কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এর সবই একতরফা। ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের জন্য যেমন কোন বিকল্প রাখা হয়নি তেমনি পরিকল্পনাও সুদুরপ্রসারি নয়।

ফুটপাত ইংরেজি শব্দ যার বাংলা মানেই হলো পায়ে চলার পথ। নাগরিকরা নির্বিঘেœ ফুটপাত দিয়ে হাটবে এটা তাদের নাগরিক অধিকার। সেখানে কারো ব্যবসা বাণিজ্য করার কথা নয়। এটা সত্য। তবে ঢাকাসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ফুটপাতে বেচাকেনা হয়ে আসছে। এটা হঠাৎ শুরু হয়নি। বলা চলে নগরপত্তন যবে থেকে শুরু ফুটপাতে বেচাকেনাও হয়তো সেখান থেকেই চলে আসছে।তাই বলে এটা চলতেই থাকবে এমনটি হতে পারেনা।তাহলে কি করতে হবে।

ফুটপাত খালি করতে হবে।আর নাগরিকদের নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।এ বিষয়ে কোন দ্বিমত কারোই নেই।তবে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে হকারদের।আবারো কারো কারো মতে ফুটপাতে বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেলে যার যার বিকল্প সেই খুজে নেবে।আমি তাদের সাথে দ্বিমত করছিনা। তবে ফুটপাতে বেচাকেনা করে জীবিকা নির্বাহ করে যারা তাদের জন্য হলিডে মার্কেট একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।ইতোমধ্যে কিছু কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।হলিডে মার্কেট যেমন বাড়ানো প্রয়োজন তেমনি হতে হবে পরিকল্পিত।আবার হলিডে মার্কেটের সাথে যাতায়াত ব্যবস্থাও হতে সহজ এবং সাশ্রয়ী। সরকার যেমন চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করেছে তেমনি হলিডে মাকেৃটের জন্য ঐসব দিনে সংশ্লিষ্ট রুটে বিশেষ বাস চালু করতে হবে। সেইসাথে রিক্সা চলাচলও স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।

যেসব দেশ উন্নত দেশের কাতারে চলে গেছে সেসব দেশেও হলিডে মার্কেট আছে এবং তা জনপ্রিয়। সেখানে শুধু স্বল্প আয়ের মানুষরাই যায়না।সর্বশ্রেনীর মানুষই যায়। শুধু সস্তায় পন্য ক্রয়ই হলিডে মার্কেটের বৈশিষ্ট নয়। এক জায়গায় সব পন্য পাওয়ার সুযোগ হয় এই হলিডে মার্কেটে। তাই নি¤œ আয়ের মানুষের পাশাপাশি সর্বশ্রেণীর মানুষের সমাগম ঘটে।গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে চলে বেচাকেনা। আবার মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরারও ব্যবস্থা থাকতে হবে।সে ব্যবস্থা নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

এবার আসুন নগরীর রাস্তায় চলাচল স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। বর্তমানে তার নামে নগরীতে চলছে যানবাহনের উপর পুলিশের নিষ্ঠুর আচরন।নগরীর প্রতিটি মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ এখন গাড়ি চাপিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষার নামে নগদ অর্থ আদায়,রেকার বিল অথবা ডাম্পিং করছে। এই নিষ্ঠুর আচরনের কারনে নগরীতে এখন মারাত্মক যানবাহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অনেক মালিক এখন পুলিশের টাকা দিয়ে গাড়ির মেইনটেইনেস খরচ পোষাতে পারছেনা।গাড়ি চালিয়ে রাখতে যে খরচ তার চেয়ে বন্ধ রাখলে সেই খরচ থেকে বাচা যায়।এহেন একতরফা আচরন কখনো সুফল বয়ে আনতে পারেনা।
সুপ্রভাত বাসের চাপায় একজন ছাত্র নিহতের ঘটনায় ঐ পরিবহনটিই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে ঐ রুটে এখন গণপরিবহনের যে কি সংকট দেখা দিয়েছে তা দেখার কেউ নেই । আবার ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাবালে নূর পরিবহনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা কি সমাধান? দূর্ঘটার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ শাস্তি পাক সেটা সবাই চায়।কিন্তু একটি সমস্যার জন্য নতুন করে সমস্যা তৈরি করা করো কাম্য হতে পারেনা।বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা রোধ করতে হবে। তাহলে দুর্ঘটনা কমে আসবে। সে ব্যাপারে কিন্তু কোন পদক্ষেপ দেখা যায়না।গাড়ি সিরিয়ালে চালাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে চালাতে হবে। ইমার্জেন্সি লেন রাখতে হবে। শ্লো যানবাহনের আলাদা লেন প্রয়োজন। সেসব উদ্যোগ দেখা যায়না।
ঢাকা মহানগরীতে বাস যেখানে থামার কথা সেখানে থামেনা,থামে মোড়ের মধ্যে। কারণ যাত্রীরা মোড়ের মধ্যেই দাড়ায়। পুলিশ সে ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়না।মোড়টাই বন্ধ করে রাখার ফলে গাড়ি মোড় ক্রস করতে পারেনা । ফলে যানজট লেগেই থাকে। হাজারো কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে যানজটে।রাস্তার উপরে বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য,পন্য উঠানামা চলছে সমানে।এসব রোধে কোন পদক্ষেপ নেই।
রাজধানী ঢাকার বড় বড় মার্কেট এবং শপিং মলগুলোর সংলগ্ন রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। এর কারণ হলো রাস্তা এবং মার্কেট পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয়হীনতা।বড় বড় মার্কেট করেছে তাতে রাখেনাই কোন গাড়ি পার্কিং এর ব্যবস্থা। এ বিষয়ে জরুরি এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।সেটা এমন হতে পারে যে,নীচতলায় কোন শপিং হবেনা। সব মার্কেটের নীচতলা এবং বেজমেন্ট গাড়ি পার্কিং থাকতে হবে। শপিং হবে উপরে। তাহলে রাস্তায় ভীড় কমে যাবে। যানজট কমে আসবে।

এই সব মিলিয়ে নগরীতে মানুষের স্বস্তিদায়ক যাতায়াত এবং হাটাচলা ও বসবাস নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন নতুন করে নগর পরিকল্পনা। সেটা হতে হবে সুদূরপ্রসারি এবং সুপরিকল্পিত।তাতে সাহসও থাকতে হবে।সুফল জনগণকে বোঝাতে হবে। জনমত সৃষ্টি করতে হবে। সেইসাথে যিনি এসব করবেন তার মাঝে থাকতে হবে মিশন এবং ভিশন।