ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:০২

একই অসুখ একই থেরাপি : দেশজুড়ে গ্রেফতার আতঙ্ক

1125_6.jpg
প্রতিকী ছবি
শহীদুল ইসলাম
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়কে সামনে রেখে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গ্রেফতার আতঙ্ক।অপর দিকে রয়েছে উত্তেজনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আজ মঙ্গলবার ঢাকার মালিবাগ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিএনপির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুন্নবী খান সোহেলকে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।আন্দোলন নামক অসুখ দমনের এই থেরাপি পুরাতন। যা আবারো শুরু করে দিয়েছে আওয়ামীলীগ।
বিএনপি গত সোমবার বলেছে, তাদের দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সারাদেশে ব্যাপক গ্রেফতারের খবর এসেছে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান চালাচ্ছেন পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। রাস্তায় রাস্তায় বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি অভিযান। আজকালের মধ্যে সিনিয়র অনেক নেতা গ্রেফতার হতে পারেন এমন খবর আসছে গোয়েন্দা সূত্র থেকে।
শুধু বিএনপি নয় ৮ তারিখ সামনে রেখে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে গণ গ্রেফতার। বিশেষ করে বিএনপি নেতৃতাবাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন মফস্বলে। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট গমন উপলক্ষে ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের আশপাশ শহর ও গ্রামাঞ্চলে রোববার রাত থেকে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। বিএনপির অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।২০ দলীয় জোট সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত শিবির মিলিয়ে সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।
গত ৩০ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালত থেকে ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে পুলিশ ভ্যান থেকে তিন বিএনপি কর্মীকে মুক্ত করে নেয় দলীয় নেতাকর্মীরা। ওই দিন থেকেই শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। প্রাথমিকভাবেএই অভিযান আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র। দেশের কোথাও যাতে কোনোরূপ আন্দোলন দানা বাঁধতে না পারে সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আর সেই টার্গেট সামনে রেখেই চালানো হচ্ছে গ্রেফতার অভিযান। শুধু বিএনপি নেতাকর্মীই নয়; ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার হচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নন।
ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ সারির অনেক নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার ও আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ জনি, নাজিম উদ্দিন আলম, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ও আনিসুর রহমান খোকনসহ অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন। আরো অনেককে গ্রেফতারের জন্য বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে বলে জানা গেছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াকেও আটক করেছিল পুলিশ। পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।আজকালের মধ্যে সিনিয়র আরো অনেক নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে যারা সক্রিয় তাদেরকে টার্গেট করে গ্রেফতার অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।
একের পর এক নেতাকর্মী গ্রেফতার হওয়ায় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটে এক দিকে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে; অপর দিকে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় কী হয় তা নিয়ে চলছে উত্তেজনা। একটি সূত্র বলেছে, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে করণীয় নিয়ে একাধিক মিটিং হয়েছে।
২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট যতবারই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ততবারই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে গণগ্রেফতার,মামলা এবং রাজপথ দখলে রাখার মাধ্যমে।হরতাল,অবরোধসহ যত কর্মসূচিই দেয়া হয়েছে তার সবগুলোতেই রাজপথ দখলে রেখেছে আওয়ামীলীগ। অন্যদিকে কর্মসূচি পালনের জন্য যাদের মাঠে থাকার কথা তারা থাকে ঘরে। এর কারণ গ্রেফতার এবং মামলা।আন্দোলন নামক অসুখের এই থেরাপিতে বার বারই সফল হয়েছে সরকারি দল। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটার ও প্রার্থীবিহিন নির্বাচন তারা করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতার ও মামলাতে বিএনপি সব সময়ই কুপোকাত।তাই একই অস্ত্র আবারো প্রয়োগ করছে তারা। আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে কোন আন্দোলনের ডাক দিলে তাও গ্রেফতার - মামলা এবং মাঠ দখল নামক অস্ত্র প্রয়োগ করে তা দমনের পথ বেছে নেয়া হবে তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হযে উঠেছে।