ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

খালেদার ডিভিশনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়নি

1198_5.jpg
গতকাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেন তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা
  • খালেদা জিয়ার পরিবারের চার সদস্য তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন।
  • কারাগার ঘিরে একই নিরাপত্তাব্যবস্থা গতকালও বহাল ছিল।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডিভিশনের কাগজপত্র এখনো কারাগারে পৌঁছায়নি। কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, এ-সংক্রান্ত আদালতের আদেশ পাওয়ার পরই তাঁকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর সুবিধা দেওয়া হবে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর কবির গতকাল শুক্রবার রাতে সংবাদকর্মীদের বলেন, খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেওয়ার আদেশ গতকাল পর্যন্ত তাঁরা পাননি।
এদিকে কারাগারে আসার পর খালেদা জিয়ার পরিবারের চার সদস্য গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা ৫০ মিনিট সেখানে অবস্থান করে চলে যান। তবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কেউ কথা বলেননি।
কারাগারে খালেদা জিয়া কেমন আছেন, এ প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী সবাই। এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। গণমাধ্যমকর্মীরা সকাল থেকেই কারা ফটকের সামনে অবস্থান নেন।
গতকাল সকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে ‘সাধারণ কয়েদির’ মতো রাখা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার ঠাঁই হয়েছে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই কারাগারের সাবেক প্রশাসনিক ভবনের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়কের দপ্তরটিকে তাঁর থাকার উপযোগী করা হয়েছে। তবে ওই কক্ষে খালেদা জিয়া একা থাকছেন। তাঁর সেবার জন্য দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমাকে সঙ্গে রাখার ব্যাপারে আদালতের আদেশ এখনো হাতে পায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে তাঁকে সহায়তার জন্য কর্তব্যরত নারী কারারক্ষীরা প্রয়োজনে তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এক কারা কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া গত বৃহস্পতিবার রাতে ভাত, মাছ, সবজি ও ডাল খেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে দেওয়া হয় রুটি-সবজি। আর দুপুরে খেয়েছেন ভাত, মাছ ও সবজি। ওই কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবার জন্য কারাগারে সার্বক্ষণিক একজন নার্স রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারের যে কক্ষে রাখা হয়েছে, সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা রয়েছে এবং টিভিতে ডিশ-সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমা। তাঁকে অল্প চিনিযুক্ত ফলের জুস পরিবেশন করা হয়।

কারা সূত্র জানায়, কারাগারে খালেদা জিয়াকে কীভাবে রাখা হবে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপকারাধ্যক্ষ শিরিন সুলতানার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি নারী কারারক্ষী দল এবং উপকারাধ্যক্ষ আশরাফ উদ্দীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের আরেকটি দল গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা প্রশাসন ১৫ দিন ধরেই নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারের ‘ডে কেয়ার সেন্টার’ ঘষে-মেজে পরিষ্কার করে। ডিভিশনের আদেশ পাওয়ার পরই তাঁকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। এর মধ্যে গত বুধবার কারাগারের আশপাশে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে কারা প্রশাসন।

দেখা করলেন ভাইবোনেরা
গতকাল বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে আসেন তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দার, তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, ছেলে অভি এস্কান্দার ও বোন সেলিনা ইসলাম। বিকেল চারটার পর তাঁরা গাড়ি নিয়ে কারা ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। কারাগার সূত্র জানায়, স্বজনেরা প্রায় ৫০ মিনিট খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। বিকেল পাঁচটা পাঁচ মিনিটে তাঁরা কারাগার থেকে বেরিয়ে বংশাল রোড দিয়ে চলে যান। এ সময় সংবাদকর্মীরা তাঁদের ঘিরে ধরলেও কেউ কোনো কথা বলতে চাননি।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কয়েকজন নেত্রী একটি ফলের ডালায় সাজিয়ে পেঁপে, আম, আপেল, কমলা, বেদানা, আঙুর, কলা, নাশপাতি নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু কারা ফটক থেকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, এস এম জুলফিকার গতকাল সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। তাঁরা সাড়ে ছয়টার দিকে কারা ফটকে আসেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কারও সাক্ষাৎ না পেয়ে চলে যান।

কড়া নিরাপত্তা
খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার আগে থেকেই পুরোনো কারাগার ঘিরে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, গতকালও তা বহাল ছিল। কারাগারের প্রধান ফটক থেকে দুই পাশে এক শ গজ দূরে রয়েছে পুলিশের ব্যারিকেড। চকবাজার, বেগমবাজার মোড়, আবুল হাসনাত রোডে ও নাজিমুদ্দিন রোডের সামনেও ব্যারিকেড রয়েছে। সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নাজিমুদ্দিন রোডের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুব দরকার না হলে কেউ বাসা থেকে বের হচ্ছেন না।