ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

বিবিসি নিউজ

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

রুশ বিপ্লবের ১০০ বছর: কীভাবে দেখছে রাশিয়া

1200_12.JPG
রুশ বিপ্লবের পর একশো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ভ্লদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে কম্যুনিস্ট বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করে নিয়েছিলো রাশিয়ায়। ভূমিকম্পের মতো এই ঘটনা পরে বদলে দিয়েছিলো সারা দুনিয়ার মানচিত্র
এই বিপ্লবের শতবার্ষিকী উপলক্ষে মস্কোয় বিবিসির সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ চার হাজার মাইল ধরে রাশিয়ার বড় বড় চার চারটি শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এসব শহরের সাথে রুশ বিপ্লবের গভীর সম্পর্ক ছিলো। এই শহরগুলোতে ঘুরে ঘুরে তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন রুশরা এখন ওই বিপ্লবকে কিভাবে দেখছেন।
সেন্ট পিটার্সবার্গে
প্রথমে তিনি গিয়েছিলেন সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে। সেখানে তার দেখা হলো রাশিয়ায় প্রখ্যাত একজন সঙ্গীত শিল্পী পিয়েতোরের সাথে।
অভিনব এক বাদ্য যন্ত্র দিয়ে পিয়েতোর সুরের মূর্ছনা তৈরি করেন। এই যন্ত্রটির নাম থেরামিন। পৃথিবীতে প্রথম দিককার ইলেকট্রনিক বাদ্যযন্ত্রগুলোর একটি এই যন্ত্রটি। পিয়েতোরের প্রপিতামহ লিওন রুশ বিপ্লবের ঠিক পরপরই থেরামিন তৈরি করেছিলেন। আর এই সুর দারুণভাবে পছন্দ করেছিলেন বিপ্লবের নায়ক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন। বিপ্লবের পর বলশেভিক দুনিয়ার প্রতীক হয়ে উঠেছিলো এই বাদ্যযন্ত্রটি।
কিন্তু পরে এই একই যন্ত্রটি রুশ বিপ্লবের ট্র্যাজেডিরও প্রতীক হয়ে উঠেছিলো। জোসেফ স্টালিন ক্ষমতায় আসার পর থেরামিনের আবিষ্কারক লিওনকে প্রতিবিপ্লবী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে গুলাগে পাঠিয়ে দিলেন। এসময় ১৫ লাখেরও বেশি সোভিয়েত নাগরিকের ঠিকানা হয়েছিলো শ্রম শিবিরে।
শিল্পী পিয়েতোর বলেন, রুশ বিপ্লবের কিছু ইতিবাচক দিকও ছিলো। "যেমন শিক্ষার হার বেড়ে গিয়েছিলো। সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। কিন্তু বলশেভিকদের এই ক্ষমতা দখল করা ছিলো একটা ট্র্যাজেডি। আমাদের গণতন্ত্রের প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু আমরা যেটা পেয়েছিলাম সেটা হলো- বিপর্যয়," বলেন তিনি।
সেন্ট পিটার্সবার্গে রাষ্ট্রীয় যাদুঘর
এই রেড অক্টোবরকে কমিউনিস্টরা দেখিয়েছিলেন রাশিয়ায় শ্রমিক, সৈন্য ও কৃষকের গণঅভ্যুত্থান হিসেবে। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিলো ক্ষমতা দখলের অভ্যুত্থান যা পরে পৃথিবীর রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গে রাষ্ট্রীয় একটি জাদুঘরের পরিচালক মিখাইল পিয়েট্রোভস্কি বলেন, বিংশ শতাব্দীর একটি প্রধান ঐতিহাসিক ঘটনা ছিলো এই রুশ বিপ্লব।
"এটা হয়েছিলো শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে। ফলে এর পর বড় বড় যা কিছু ঘটেছে সেসব ওই বিপ্লবের কারণেই হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক এই বিপ্লবের কারণেই সৃষ্টি হয়েছিলো নাৎসি জার্মানির। একই কারণে পশ্চিমা বিশ্বে- ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রেও- সমাজকল্যাণের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কারণ তারাও ভয় পেয়ে গিয়েছিলো। মনে করেছিলো, শ্রমিকদের জীবন-মানের উন্নতি না হলে এখানেও বিপ্লব হতে পারে। ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থায় কিছু সংস্কার ঘটিয়ে সেখানে বলশেভিকদের ঠেকানো হয়েছে," বলেন তিনি।
কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে, ইতিহাসের এতো গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত হওয়া সত্ত্বেও, সেন্ট পিটার্সবার্গে বলশেভিক বিপ্লবের এই শতবর্ষ উদযাপনের কোন চিহ্নও পর্যন্ত নেই।
সেন্ট পিটার্সবার্গে
এর কারণ হিসেবে ইতিহাসবিদ সের্গেই পাদমালোটফ বলেন, ক্রেমলিন এরকমটাই চেয়েছে। "রুশ বিপ্লবের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নীরবতা পালন করছে। ওই বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিলো- ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলুপ্তি ঘটানো। কিন্তু বর্তমান শাসকদের জন্যে এটি একেবারেই অকল্পনীয়। জনগণের ক্ষমতার পরিবর্তে এখন হচ্ছে বন্দুক এবং ক্ষমতাধরদের বন্দনা করা। এর ব্যত্যয় ঘটলে তাদের ওপর ঘটে পুলিশের আক্রমণ," বলেন তিনি।
এখন, বিপ্লবের ১০০ বছর পর এই সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরেও প্রায়শ বিক্ষোভ হয় মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের দাবীতে। তাদের শান্তিপূর্ণও আন্দোলনেও বাধা দিতে ছাড়ে না পুলিশ।

একটি পার্কে বিক্ষোভ করতে আসা একজন বলছিলেন, তিনি শুধু নির্বাচন চান। কোন বিপ্লব নয়। আরেকজন বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবেই সবকিছু হওয়া উচিত। কোন সহিংসতা নয় - সরকার ও জনগণ - উভয়ের দিক থেকেই। "একবিংশ শতাব্দীতে বড় রকমের কোন পরিবর্তন ঘটাতে হলে কাউকে হত্যা করতে হবে না," বলেন তিনি।
বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে শ্লোগান দেন- জনগণই ক্ষমতা। বলেন, ভ্লাদিমির পুতিন একজন চোর। তারপর দাঙ্গা পুলিশ তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং অনেককে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

২০১৭ আর ১৯১৭ এক নয়। রাশিয়ায় নতুন কোন বিপ্লবের ভীতি নেই। কিন্তু তারপরেও মানুষের আয় যখন কমছে, বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম, তখন মানুষের ক্ষোভ, প্রতিবাদও বাড়ছে। আর তখনই রুশ কর্তৃপক্ষ কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ছে।

রাজধানী মস্কোতে
স্টিভ রোজেনবার্গ এরপর গিয়েছিলেন রাজধানী মস্কোর একটি কারখানায় যেখানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সরঞ্জামাদি তৈরি করা হয়।
এই কারখানার মালিক স্টানিস্লাভ পিস্টোনফ। তার বংশলতিকার একটি লম্বা তালিকা দেখিয়ে বললেন, তিনি হচ্ছেন ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের একজন বংশধর।
স্টানিৎস্লাভ বলেন, তার পরিবারে মাত্র একজন পূর্বপুরুষ লেনিনের পরিচয় দিয়ে কিছুটা হলেও লাভবান হয়েছেন।এক রুশ নাগরিক বলশেভিকদের স্মরণ করছেন এভাবেই
তিনি বলেন, "১৯৩০ এর দশকে, কোন এক বছর শীতকালে এতো ঠাণ্ডা পড়েছিলো যে আমার প্রপিতামহ এবং প্রপিতামহী- ঘর উষ্ণ করতে নিজেদের কিছু আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর তাদের পারিবারিক পদবী লেনিনের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে তারা যোগাযোগ করেছিলেন। তখন একগাদা জ্বালানী কাঠ নিয়ে একটি লরি বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিলো। তাদেরকে বলা হয়েছিলো এই ঘটনা গোপন রাখতে।"
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে এমন একটা সময় ছিলো যখন সবাই মনে করতো যে ভ্লাদিমির লেনিনের সাথে তাদের প্রত্যেকের কোন না কোন সম্পর্ক আছে। সঙ্গীত, কবিতা, পাঠ্যবই - সবকিছুতেই লেনিন ছিলেন মহান এক ব্যক্তি। সর্বত্র তার মূর্তি গড়ে তোলা হয়েছিলো। রেড স্কয়ারের এক সমাধি সৌধে, প্রদর্শনীর জন্যে সংরক্ষিত আছে লেনিনের মরদেহ।
রুশ বিপ্লবের জন্যে এটিও ট্র্যাজিক এক ঘটনা - যে বলশেভিকরা গির্জার বিরোধী ছিলেন তারাই এখন ঈশ্বরের অনুরাগী হয়ে উঠেছেন।
এক রুশ নাগরিক বলশেভিকদের স্মরণ করছেন এভাবেই
রুশ টেলিভিশনে এখন যেসব টকশো হয় সেখানে তুলোধুনো করা হয় লেনিনের। এরকমই এক অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিক বলেন, লেনিনই বন্দী শিবির তৈরি করেছিলেন। আরেকজন উগ্র জাতীয়তাবাদী এমপি চিৎকার করে উঠেন- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্যে লেনিনই দায়ী।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রুশ বিপ্লবের ১০০ বছর পর রাশিয়া কি পারবে ভ্লাদিমির লেনিনের সমাধিকে শুধু ইতিহাসের অংশে পরিণত করে তার মরদেহ মাটিতে সমাহিত করতে?

রাশান অর্থোডক্স চার্চের একজন কর্মকর্তা মেট্রোপলিটন হিলারিয়ন বলেন, "আমি মনে করি, তাকে সমাহিত করা উচিত। রুশ বিপ্লবের এই প্রতীকের স্থান হওয়া উচিত তার জায়গাতেই, রেড স্কয়ারে নয়।"
"১৯৯০ এর দশকের শুরুতেই এই কাজটা কেন করা হয়নি সেটা নিয়ে আমার দুঃখ হয়। কিন্তু এখন এই কাজটা করা কঠিন। কারণ এখন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হতে পারে।"
কিন্তু এধরনের চিন্তাভাবনার ঘোর বিরোধিতা করছে কমিউনিস্ট পার্টি। দলের নেতা কেনারি জুগানফ বলছেন, সেরকম যদি কিছু করতে হয় তাহলে সেটা করতে হবে তাদের লাশের ওপর দিয়ে।
ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের ভাস্কর্য
কিন্তু লেনিনের বংশধর স্টানিস্লাভ একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "সমাধি সৌধের ভেতরেই লেনিনকে সমাহিত করা যেতে পারে। যারা মনে করেন যে তার জায়গা হওয়া উচিত মাটিতে, এতে তারা খুশি হবেন। অন্যদিকে, অন্যদিকে যারা বিশ্বাস করেন যে তার মরদেহ রেড স্কয়ারেই থাকা উচিত তারাও এতে আশ্বস্ত হবেন।"
তবে লেনিনের মরদেহ যেখানেই থাকুক না কেন, বেশিরভাগ রুশ নাগরিকই মনে করেন, বিপ্লবের ওই কারিগর এখনও জাদুঘরের রাখা কোন বস্তুর চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, লেনিন হয়তো হারিয়ে যাওয়া এক বিশ্বের প্রতিধ্বনি।
ইয়েকেতারিনবার্গে
স্টিভ রোজেনবার্গের পরের গন্তব্য ছিলো ইয়েকেতারিনবার্গ। তিনি যখন সেখানকার একটি গির্জায় গিয়ে হাজির হন সেখানে তখন প্রার্থনা চলছিলো।

এই গির্জাটিকে বলা হয় রক্তের উপর গড়ে উঠা গির্জা বা চার্চ অন দ্যা ব্লাড। ১৯১৮ সালের জুলাই মাসে এখানেই জার নেতা দ্বিতীয় নিকোলাস, তার স্ত্রী, সন্তান ও দাস দাসীদেরকে বলশেভিকরা হত্যা করেছিলো। তারপর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে বিকৃত করা তাদের মরদেহ একটি ট্রাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো শহরের বাইরে।
এই হত্যাকাণ্ডের বহু বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় নিকোলাস, তার স্ত্রী আলেকজান্দ্রা এবং তাদের তিন কন্যার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে তাদেরকে সমাহিত করা হয়েছিলো। কিন্তু এগুলোকে অর্থোডক্স চার্চ জার নিকোলাসের দেহাবশেষ বলে মেনে নেয়নি।

কিন্তু মেট্রোপলিটন হিলারিয়ন বলছেন, গির্জার সেই অবস্থানেরও এখন পরিবর্তন হয়েছে। "আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এখন নতুন করে আরো তদন্ত চলছে। এই তদন্তে গির্জাও সহযোগিতা করছে। আমার বিশ্বাস যে অর্থোডক্স চার্চ এগুলোকে রাজ পরিবারের মরদেহ হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে পারে।"
ইয়েকাতারিনবার্গ-এর যেখানে জার নিকোলাসকে সপরিবারে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়,
সেই 'চার্চ অন দ্য ব্লাড' নামের অর্থোডক্স গির্জা
ইয়েকাতারিনবার্গ-এর যেখানে জার নিকোলাসকে সপরিবারে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয় সেই 'চার্চ অন দ্য ব্লাড' নামের
ইয়েকাতারিনবার্গ-এর যেখানে জার নিকোলাসকে সপরিবারে ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয় সেই 'চার্চ অন দ্য ব্লাড' নামের অর্থোডক্স গির্জা
যে দ্বিতীয় নিকোলাসকে বলশেভিক কমিউনিস্টরা দেখতো একজন স্বৈরাচার হিসেবে, তাকেই আধুনিক রাশিয়া এখন দেখছে একটু ভিন্ন চোখে।
ওই গির্জায় প্রার্থনা করতে আসা একজন নারী বলেন, "আমি তাকে দেখি রাশিয়া নামক একটি বিশাল জাহাজের নাবিক হিসেবে। দেশটির একেবারে শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এই জাহাজেই অবস্থান করেছেন। "
ইয়েকেতারিনবার্গের একটি স্কুলে গিয়েছিলেন রোজেনবার্গ। সেখানে জার শাসিত রাশিয়ার কিছু প্রথা এখনও অনুসরণ করা হয়। অতীতের সাথে সম্পর্ক রাখার চেষ্টায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নিয়ে যাওয়া হয় ওই চার্চ অন দ্য ব্লাড পরিদর্শনে।। কিন্তু তারপরেও তারা কেউই ওই রাজতন্ত্রকে আর ফিরিয়ে আনতে চান না।
একজন শিক্ষক ওলগা প্রশ্ন করেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন থাকতে জারের প্রয়োজন পড়বে কেন? "জার শাসকরা যেভাবে শাসন করতে চাইতো আমাদের প্রেসিডেন্ট এখন ঠিক সেভাবেই দেশ পরিচালনা করছেন। তিনি একজন আদর্শ শাসক, একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক," বলেন তিনি।

শেষ গন্তব্য খাভারাস্ক
বিবিসির সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গের সবশেষ গন্তব্য ছিলো খাভারাস্ক। এই শহরটি রাশিয়ার এক প্রান্তে। সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে প্রায় ৪,০০০ মাইল দূরে। এতো দূরে যে রুশ বিপ্লবের পর এই শহরটি জয় করতে বলশেভিকদের পাঁচ বছরের মতো সময় লেগেছিলো।
এই শহরে তিনি দেখা পেলেন রুশ বিপ্লবের সমান বয়সী লেভ লেপোভিচের। তাদের দু'জনেরই বয়সই এখন ১০০।
লেপোভিচের জন্ম ১৯১৭ সালে। তার জীবদ্দশায় তিনটি দুর্ভিক্ষ দেখেছেন, অংশ নিয়েছেন চারটি যুদ্ধে। তার দেশ দুবার বিলুপ্ত হয়েছে - একবার জার রাশিয়া, আরেকবার সোভিয়েত রাশিয়া। একটি দেশ এরকম একটা শতক পার করলো কিভাবে?
সপরিবারে জার দ্বিতীয় নিকোলাস
এর উত্তরে তিনি বলেন, "এর কারণ হলো- আমাদের দেশের মানুষের মনোবল খুব দৃঢ়। তারা প্রচণ্ড দেশপ্রেমিক। আমরা আমাদের মাতৃভূমিকে ভালোবাসি এবং এই দেশের জন্যে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত।"
এতো দূরের একটি শহর দখল করতে গিয়ে রেড কমিউনিস্টদের সাথে কমিউনিস্টবিরোধী হোয়াইট আর্মির তীব্র লড়াই হয়েছিলো। রুশ পুরাণে যারা রেড তারা হচ্ছেন বীর আর শাদাদের পরিণতি ধ্বংস। কিন্তু এখন তাদের বলা হচ্ছে, গৃহযুদ্ধে কেউই ভালো বা খারাপ ছিলো না, বরং ওই যুদ্ধ ছিলো একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এতোদিন পর ঠিক একইভাবে বদলে গেছে লেনিন ও জার সম্পর্কে তাদের ধারণাও।

এভাবেই বদলে যাচ্ছে রাশিয়ায় অতীত । একসময় বলা হতো রুশ বিপ্লব ছিলো একটি বিশাল ঘটনা। পরে বলা হলো না, সেটা ওরকম মহান কিছু নয়। একসময় ধর্ম ছিলো মানুষকে বুঁদ করে রাখার আফিম। কিন্তু পরে এই ধর্মই হয়ে উঠলো রাশিয়ার প্রাণ।
ফলে যে যখন ক্ষমতায় আসছেন তার চাওয়ার মতো করেই লেখা হচ্ছে এর ইতিহাস। সেকারণে রাশিয়া এমন একটি দেশ যেখানে শুধু ভবিষ্যৎই নয়, অতীত সম্পর্কেও নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন।