ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

পুলিশ বাহিনীকে অবশ্যই জনবান্ধব হতে হবে

পুলিশ বাহিনীর একশ্রেণির অসাধু সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয় বরং এইসব অসৎপ্রবণ সদস্যদের জন্যই পুলিশ বাহিনী আজ বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। কেউ কেউ অবশ্য একজন্য গোটা বাহিনীকে দোষ দিয়ে থাকেন। অবশ্য আমরা কিছু সংখ্যক সদস্যদের অপকর্মের দায়ভাব গোটা বাহিনীর ওপর চাপাতে চাই না। কারণ, শুধু পুলিশ বাহিনীর মধ্যেই যে অসাধু লোকজনের পদচারণা একথা বলা মোটেই যৌক্তিক হবে না বরং সকল পেশা ও শ্রেণির লোকদের মধ্যেই অসৎপদ প্রবণ ও ভাল দু’শ্রেণির লোকই আছে। তাবে একথা অনস্বীকার্য যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীতে এ ধরনের অসাধু লোকদের উপস্থিতি কোন ভাবেই কাম্য নয়। তাই এই বাহিনীতে  জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া আরও নিখুঁত ও গতিশীল হওয়া  উচিত। এক্ষেত্রে ব্যক্তির পারিবারিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা দরকার বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
যাহোক একশ্রেণির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগের তুলনায় বেশ বেড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজের অভিযোগও আছে বেশ জোড়ালোভাবে। যা গোটা বাহিনীকে জনগণের কাঠকড়ায় দাঁড় করিয়েছে। ফলে এই বাহিনীর জনবান্ধ হয়ে ওঠার স্বপ্নটা অনেকটা অধরায় থেকে যাচ্ছে। কারণ, এসব পুলিশ সদস্য এমন কোন অপরাধ বা অনৈতিক কাজ নেই যা তারা করছে না। এমনকি অপরাধীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে তাদেরকে অনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগ তো আছেই। শুধু তাই নয় একশ্রণির পুলিশ সদস্য নিজেরাই বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়ছেন।
কয়েক বছর আগে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঢাকার মিরপুর চা দোকানীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে নিরীহ লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, আটক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের লেজুরবৃত্তির অভিযোগও আছে ব্যাপকভাবে। পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী নিগ্রহ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগও বেশ প্রবল। মূলত একশ্রেণির অসাধু পুলিশ সদস্যদের জন্য গোটা বাহিনীই জনগণের কাছে বিতর্কিত হয়েছে বা হচ্ছে। যা কারো কাম্য নয়।
কয়েকদিন আগে বঙ্গভবনের সামনে অকারণে পুলিশ কর্তৃক কিশোরী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। যার কোন সদুত্তর সংশ্লিষ্টরা এখনও দিতে পারেন বা পুলিশ সদরদপ্তরও এর কোন ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে জানা যায়নি। যা আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। ঘটনাটি সারাদেশেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং তা পুরো বাহিনীকেই ভাবমূর্তি সংকটে ফেলে দিয়েছে। এঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বাংলা একাডেমির বই মেলায় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, মেলায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য দু’পথ শিুশুর ফুল বিক্রি করা টাকা কেড়ে নিয়েছে। যা বিবেকবান মানুষকে রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে।
এঘটনা ঘটার পর লোকজন এসে পুলিশ সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করলে তার কেড়ে নেয়া ৩২০ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কথা হলো কোন ব্যক্তি যদি কোন হয়রানী বা প্রতারণার শিকার হন তাহলে তো পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব নিগৃহীত বা ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে সার্বিক সহযোগিতা করা। কিন্তু এখানে ঘটেছে পুরো উল্টো ঘটনা। পুলিশ সদস্যদের দ্বারা অনাথ পথশিশুরা নিগ্রহের শিকার হওয়ার পর জনতায় তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।  মূলত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে দেশে সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা আইনশৃঙ্খলা তথা পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও তারা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের পরিবর্তে একশ্রেণির পুলিশ সদস্য নিজেরাই জননিরাপত্তায় বিঘœ সৃষ্টি করছে এবং অনাকাঙ্খিতভাবে নানাবিধ অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পরছে।  যা কারো কাম্য নয়।
একশ্রেণির পুলশি সদস্যদের বিরুদ্ধে এধরনের অভিযোগ ক্রমাগত বাড়ছে বৈ কমছে না। এমনকি এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এসব অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা খুব কমই হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে সাময়িক বরখাস্ত ও বদলীর খবর শোনা গেলেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। মূলত অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই এসব অসৎপ্রবণ পুলিশ সদস্য অবলীলায় অপরাধ প্রবণতা চালিয়ে যায়। সঙ্গত কারণেই এরা এখন রীতিমত অপ্রতিরোধ্য।
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্য যদি এধরনের নানাবিধ অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়েন তাহলে আমাদের আগামী দিনের গন্তব্য কোথায় তা এখনই ভাবতে হবে। মূলত একশ্রেণির দুষ্ট প্রকৃতির লোকের কারণেই পুরো বাহিনীকেই বিতর্কিত হতে দেয়া মোটেই সমীচিন হবে না। তাই দেশে আইন ও সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হলে পুলিশ বাহিনীকে অবশ্যই জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করতে হবে। অন্যথায় আমাদের কোন অর্জনই ফলবতী হবে না।