ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

খালেদা জিয়ার কারাবাস ও আগামী নির্বাচন ভাবনা

1233_3.jpg
ফাইল ছবি
“রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই”এ কথা প্রবাদবাক্যে পরিনত হয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা কঠিন।যদিও রাজনীতি এখন আগের জায়গায় নেই। রাজনীতির ভাবনাগুলোর বাস্তবায়ন অনেকটাই চলে গেছে আদালতে।তারপরেও বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসকে ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা দাঁনা বেধে উঠেছে। বিশেষ করে কথা এসেছে তিনি আগামী ১১শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কিনা।বিষয়টি আদালতের হাতে হলেও মানুষের ভাবনা তাকে ঘিরেই।
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারী ঢাকার বকশি বাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদন্ড দিয়েছেন। বেগম জিয়ার ছেলে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানসহ অন্যদের ১০ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন।৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত সার বা সামারি অল্প সময়ের মধ্যেই বিচারক পড়ে শুনান। ফলে দন্ড জানার জন্য খালেদা জিয়াকে আদালতের কাঁঠগড়ায় বেশিক্ষণ বসে থাকতে হয়নি। রায়ের পর তাকে আলিয়া মাদ্রাসার অতি নিকটবর্তি নাজিম উদ্দিন রোডস্থ পুরাতন ও পরিত্যাক্ত কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।তিনি এখন সেখানেই নির্জন কারাবাসে আছেন। কাশিমপুর, কেরানীগঞ্জ বা অন্য যেকোন কারাগারে থাকলে ৭২ বছর বয়স্কা খালেদা জিয়া হয়তো মাঝে মধ্যে অন্যান্য বন্দীদের সাথে কথা বার্তাও বলতে পারতেন। এখন তিনি তাও পারছেন না। যা এখন ঐপনিবেশিক আমলের নির্জন কারাবাসের মতই। বিএনপির নেতারা সেই অভিযোগই করেছেন।

বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পরপরই তার রায়ের সার্টিফাইড কপি দ্রুত পাওয়ার জন্য তার আইনজীবিরা অতিরিক্ত ফিসহ আবেদন করেন। তারা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং বিশেষ নি¤œ আদালতের এই রায়ের কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ চাইতে পারেন।তারা দ্রুত বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে আইনী লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন। রোববার যখন এই প্রতিবেদন লিখছি তখন খবর আসে যে,কারাগারে বেগম জিয়াকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার আইনজীবিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে দন্ড দেয়া আদালতের বিচারক ড.আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে কারাবিধি অনুসারে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন।

এবার আসি আপিলের কথায়। হাইকোর্টে এই মামলার দ্রুত শুনানী ও নিষ্পত্তি করতে চান বিএনপির আইনজীবিরা।বর্তমানে হাইকোর্টে ইচ্ছা করলেই যেকোন বেঞ্চে যেকোন মামলা নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দুদকের মামলা নিষ্পত্তির বেঞ্চ কয়েকটি নির্দিষ্ট আছে, যার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইনজীবিরা বলছেন, আপিল পেন্ডিং থাকা অবস্থায় নির্বাচন এসে গেলে সেই নির্বাচন সাধারণত অংশগ্রহন করা যায়। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দন্ডপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নাও হতে পারে।তাদের মতে নিম্ন আদালতের সাজার উপর যদি স্টে অর্ডার পান বেগম জিয়া তাহলে তিনি জামিনও পাবেন এবং নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারবেন।স্টে অর্ডার বা স্থগিতাদেশ যদি তিনি না পান তাহলে কারাগারে থাকা অবস্থায়ই হাইকোর্টে আপিলের কার্যক্রম চলবে।রায় তার পক্ষে আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই তার পক্ষে আসলো সেক্ষেত্রে সরকার আপিল করবেন এবং হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ চাইবে।এমতাবস্থায় আপিল বিভাগের চুড়ান্ত রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চুড়ান্ত রায়ে যদি তিনি হেরে যান তাহলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেননা।দলীয় কর্মীদের বাহবা পাওয়ার জন্য বিএনপির আইনজীবিরা তাড়াতাড়ি আপিল নিষ্পত্তি করতে চাইছেন।আর সরকারও হয়তো তাতে আপত্তি করবেনা।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই মামলা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দ্রুত নিষ্পত্তির অর্থই হবে বেগম খালেদা জিয়াকে দ্রুত নির্বাচনের অযোগ্য বলে আদালতের সার্টিফিকেট দেয়া।

পর্যবেক্ষক মহল বলছেন,পর্দার অন্তরালে কোন রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ৫ বছর জেলেই কাটাতে হবে। তাদের মতে এই কারাবাসের মেয়াদ আরো বাড়তে পারে।কারণ জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। একই আদালতে জিয়া চেরিটেবল ট্রাষ্ট মামলার কার্যক্রম চলছে। আবার অন্য তিনটি মামলায় তাকে শ্যোণ এরেষ্ট দেখানোর তথ্যও ইতোমধ্যে মিডিয়াতে এসেছে। বর্তমান সরকারের আমলেই গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যায় হুকুম দেয়াসহ বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৫ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট, জিয়া চেরিটেবল ট্রাষ্টসহ ৪ টি মামলা পূর্ববর্তি ১/১১ সরকারের সময়ে দায়ের করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ,৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন পটুয়াখালিতে প্রধানমন্ত্রী তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত সেনানিবাস উদ্বোধন করেন। পরে বিকেলে এক জনসভায় তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতই বলেন,“২০১৫ সালে খালেদা জিয়া আমাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিলেন। তিনি আজ কোথায়।”সিরাজ সিকদার নিহত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টে বলেছিলেন ,“কোথায় আজ সিরাজ সিকদার”। এতে ধারনা করা যায়,বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলাই দ্রুত সক্রিয় হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণামতে,আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।তবে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে বেগম জিয়ার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে তিনি দন্ডিত বা সাজা বহাল থাকলে আগাম নির্বাচনও হতে পারে। সরকার আবার ক্ষমতায় আসার সুবিধার্থে এমনটিও করতে পারে।

shahidjournalist67@gmail.com