ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:০২

খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী নির্বাচন হবে: ফখরুল

1252_24.jpg
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল সহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাঁকে ছাড়া এ দেশের কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আসুন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করি।’

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ফখরুল এসব কথা বলেন। একই দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সারা দেশে দলটি মানববন্ধন করছে।

সকাল ১০টার পর থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সামনের রাস্তার একটি অংশ দিয়ে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তোপখানার মোড় থেকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত পুরো এলাকায় বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক মানববন্ধনে অংশ নেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে একপর্যায়ে মাইকের তার ছিঁড়ে যায়। এরপর নেতারা মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে দেশের মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, আজ জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করে, খালেদা জিয়া দেশে জনপ্রিয় নেত্রী। তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি কোনো দিন কারাগারে থাকবেন না। তিনি অবশ্যই নিঃসন্দেহে অতি দ্রুত কারাগার থেকে বেরিয়ে আসবেন।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া রায়ের আগে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে ও শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে বলেছেন। এ কর্মসূচি তাঁকে মুক্ত করার জন্য, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজ সারা দেশের একটিই আওয়াজ, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখে জনগণের গণতন্ত্রের যে আন্দোলন, তা দমিয়ে রাখা যাবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘আজ এই মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে খালেদা জিয়া এ দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, দেশনেত্রীর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটা দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে, বিএনপির সকল নেতার সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চার দিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার আমাদের নেত্রীকে একজন সাধারণ বন্দী হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকার জেলকোড ভঙ্গ করেছে। সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যত ষড়যন্ত্র হোক, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাঁকে ছাড়া কেউ নির্বাচন চিন্তা করলে সেটা হবে দুঃস্বপ্ন।’
বিএনপির মানববন্ধন কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জলকামানের গাড়িসহ কয়েকটি মাইক্রোবাস এনে প্রেসক্লাবের পাশে রাখে। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি দুই দিন বিক্ষোভ কর্মসূচির পর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনের টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার প্রথম দিনের কর্মসূচি হিসেবে এই মানববন্ধন করা হয়। কাল মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান এবং পরদিন বুধবার অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, মাহমুদুল হাসান, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নাল আবেদিন, জয়নুল আবদিন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন, সৈয়দ এমরান সালেহ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আালিম, শামীমুর রহমান শামীম, নিলোফার চৌধুরী, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতার, রাশেদা বেগম হীরা, আবদুল আউয়াল খান, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, বেবী নাজনীন, নেওয়াজ হালিমা আরজু, অপর্ণা রায়, মহানগর বিএনপির কাজী আবদুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত, আহসানউল্লাহ হাসান, তানজীর আহমেদ রবিন, যুবদলের সাইফুল ইসলাম, সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, জাসাসের অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শায়রুল কবির খান, শাহিনুল ইসলাম শায়লা, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, উলামা দলের এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক প্রমুখ।

এ ছাড়া ২০-দলীয় জোটের কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির একাংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অপর অংশের হামদুল্লাহ মেহেদি, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনপিযির গোলাম মূর্তজা, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ডিএলএর সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।