ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:০২

রুটি-মদ ফুরিয়ে যাবে.....

মানবজীবনের গতিধারা ক্রমবিবর্তনশীল। মূলত বৈচিত্রময় মানব জীবন এক চলমান ঘটনা প্রবাহের নাম। যা ক্রমপ্রবাহমান কিন্তু চলৎশক্তিহীন নয়।  মানুষের জীবনে পর্যায়েক্রমে আসে শৈশব,  কৈশোর, যৌবন, প্রৌঢ়ত্ব এবং শেষ সময়ে বার্ধক্য। তাই চলমান মানবজীবনে বিস্তর রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়। আর এই রূপান্তরটা অতিপ্রাকৃতিক। এর কোন ব্যত্যয় ঘটার কোন সুযোগ নেই। আর চিরাচরিত নিয়মেই মানব জীবনের এই ক্রমবিবর্তনকে মেনে নেয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকে না। তাই এই ক্রমবিবর্তন মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। 
যৌবন কাল মানুষের অতিগুরুত্ব অধ্যায়। এ সময় জীবন যেমন কানায় কানায় উপভোগ করার সুযোগ থাকে, ঠিক তেমনিভাবে আর্ত-মানবতার কল্যাণে সৃজনশীল অনেক কিছুই করার মোক্ষম সময় এটিই। বাদ বাকি সময় এ কাজের জন্য মোটেই উপযোগি নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোগবাদী মানসিকতাসম্মন্ন হওয়ায় যৌবন তথা জীবনের এই সোনালী সময়ে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে তেমন কিছু করতে পারি না বা প্রায় ক্ষেত্রেই করার চেষ্টাও করি না।
মূলত অনেকটা আত্মপুঁজারী হওয়ার কারণেই যৌবনের  উত্তাল তরঙ্গের দিনগুলোতে আত্মগঠন ও আত্মপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি না। আর অতিমাত্রার আত্মকেন্দ্রীকতায় এই নেতিবাচক চিন্তা-চেতনার মূল কারণ। মূলত নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উদাসীন ও জ্ঞানের অপ্রতুলতার কারণেই আমরা একটা সংকীর্ণ বৃত্তের মধ্যে আটকা পরে আছি। আর এই বৃত্ত ভেঙে নিজের আত্মোপলব্ধি ও আপন দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে জ্ঞান সাগরে সন্তরণের কোন বিকল্প নেই। কারণ, দেশ ও জাতি একজন সুনাগরিকের কাছে অনেক কিছু আশা করে।
জ্ঞানের প্রধান উৎসই হলো বই-পুস্তক বা গ্রন্থাদি। তাই জ্ঞান সাগর থেকে কিছু আহরণ করে তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হলে বই-পুস্তক তথা গ্রন্থাদির সাথে নিবির সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। গড়ে তুলবে হবে নিয়মিতভাবে পাঠ অভ্যাস। বেশী বেশী গ্রন্থাদি কেনার অভ্যাস গড়ে তুলবে হবে। জীবনের কোন ক্ষেত্রেই আবেগ নির্ভর না হয়ে সকল ক্ষেত্রে মেধা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে।  কারণ, জ্ঞান মানুষকে মহান হিসেবে গড়ে তোলে। পাঠ অভ্যাস মানুষের সৃজনশীলতা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হয়।
সর্বপরি মানুষের মধ্যে কল্যাণকামীতা ও সৃজনশীলতা সৃষ্টি করে। মূলত মানুষের জীবনে ক্রমবিবর্তন থাকলেও বই বা গ্রন্থাদির ক্ষেত্রে কোন বিবর্তন হয় না। জ্ঞান ভান্ডারে কখনো মরিচাও ধরে না। দুনিয়ার সকল উপকরণই ধ্বংসশীল হলেও জ্ঞানের কোন ধ্বংস নেই। এমনকি তা কখনো নিঃশেষও হয় না। তা যত দান করা যায় ততই তার প্রবৃদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। তাই কোন ব্যক্তি যদি আর্ত মানবতার কল্যাণে কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় তাহলে তার জ্ঞানের  পরিধির সম্প্রসারণ করতে হবে। সবার আগে নিজেকে চিনতে হবে এবং নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে হবে এবং সে অনুযায়ি নিজের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
মানুষের জীবনে ক্রমবিবর্তন থাকলেও বই তথা জ্ঞান ভান্ডার কিন্তু অপরিবর্তিত থাকে। এমনকি সুস্থ্যধারার জ্ঞান চর্চা জ্ঞানের  পরিশুদ্ধি ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটায়। তাই মহাত্মা ওমর খৈয়াম বলেছেন, ‘রুটি-মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বই অনন্ত যৌবনা; যদি তেমন বই হয়’। মূলত মহাত্মা ওমর খৈয়াম তার এই ওমর উক্তির মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও অধ্যবসায়ের ওপর বেশী গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তার এই মহান উক্তিই তাকে কাল জয়ী ও অমর করে রেখেছে।
প্রতি বছরের মত এবারও আমাদের দেশে একুশে বই মেলা শুরু হয়েছে। লেখক-প্রকাশকরা পাঠকদের জন্য অনেক সুন্দর বই তথা গ্রন্থাদির পসরা সাজিয়েছেন। তাই জ্ঞানের এই মহাসমুদ্র থেকে কিছু আহরণ করে নিজেকে সহ দেশ ও জাতিকে ধন্য করতে হলে বেশি বেশি বই কেনা ও পাঠ অভ্যাস তৈরি করতে হবে। লেখক-প্রকাশক ও মেলার আয়োজকরা যাতে তাদের কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ না হারান দেখিকে খেয়াল রাখা দরকার। আর প্রকাশক ও লেখকদের দায়িত্ব হবে বই-পুস্তকের মূল্য খুবই সহনীয় পর্যায়ে রাখা। অতিমুনাফার জন্য ক্রেতা ও পাঠকদের ওপর অধিক চাপ সৃষ্টি করাও ঠিক হবে না। এবারের বই মেলা লেখক, প্রকাশক, আয়োজন, ক্রেতা ও পাঠকদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠুক এ প্রত্যাশা আমাদের সকলের।