ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:০২

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখা দরকার

আমাদের দেশের রাজনীতিতে একটা বন্ধাত্ব চলছে দীর্ঘদিন থেকেই। একে রাজনৈতিক সংকট বলাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত বলেই মনে হয়। মূলত নির্বাচন পদ্ধতিকে কেন্দ্র করেই আমাদের এই রাজনৈতিক সংকট। কিন্তু এই সংকট সমাধানে রাজনৈতিক শক্তিগুলো এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর সমাধানে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত পরস্পপর অবিশ^াস ও অনাস্থা এর অন্যতম কারণ। আর এই অবিশ^াস আমাদের দেশে রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত। কিন্তু তা সমাধানে কেউ খোলা মন নিয়ে এগিয়ে আসছে না। তাই নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ফর্মূলা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে যাচ্ছে। আসলে ক্ষমতাশ্রয়ী রাজনীতিই আমাদের দেশে অচলাবস্থার জন্য প্রধানত দায়ি। কিন্তু আমরা কেউই এই সংকীর্ণ বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছি না।
শুধু বাংলাদেশ নয় বরং তৃতীয় বিশে^র দেশগুলোতেই এ ধরনের ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু আছে। ফলে এসব দেশে যারা একবার ক্ষমতায় আসেন তার আর কোন দিন ক্ষমতা থেকে বিদায় কথা স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন না। আর যারা কালের পরিক্রমায় ক্ষমতার প্রভাব বলয়ের বাইরে চলে যান তারাও নিজেদের অভিশপ্ত মনে করেন। ফলে ক্ষমতা রক্ষা আর ক্ষমতা দখলের অনাকাঙ্খিত একটা লড়াই রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে তারা কোন নীতি-নৈতিকতা, আইন, কানুন ও সংবিধানের ধার ধারেন না। ক্ষমতা রক্ষা আর ক্ষমতা দখলের জন্য যা করা দরকার সবই তাদের জন্য বৈধ হয়ে যায়। সার্বিক দিক বিবেচনায় আমাদের দেশে এই অপসংস্কৃতিই চালু হয়েছে এবং তা আরও জোড়ালো ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আর এটিই আমাদের জাতীয় সমস্যা।
আসলে ক্ষমতা কারো জন্যই চিরস্থায়ী নয়। অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা এখন কিন্তু ক্ষমতায় নেই। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন তারা আগামী দিনে ক্ষমতায় থাকবেন না। প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মেই তাদেরকে একদিন ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। কিন্তু এই রূঢ় বাস্তবতাকে আমরা কেউ স্বীকার করছি না বরং ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতা রক্ষার জন্য উদভ্রান্তের মত ছুটে চলেছি। আর এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ মোটেই প্রাধান্য পাচ্ছে না। শুধুই রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস চারিতার্থ করার জন্য যা করা দরকার তাই করা হচ্ছে। মূলত এটি রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়। রাজনীতি সেবামূলক কাজ। সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র বা সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু আমরা সে কথা ভুলে গিয়ে রাজনীতিকে এমন প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছি যে রাজনীতি জনগণের কল্যাণে খুব একটা কাজে আসছে না। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই অশুভ বৃত্ত থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বেড়িয়ে আসতে হবে।
সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজায় রাজনীতিতে নতুন সংকটের শুরু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগে দন্ডকে কোন পক্ষই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচেছন না কোন পক্ষই। রায়ের পর সরকার এই রায় নিয়ে অতিপ্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিএনপিও এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে রাজপথে আন্দোলন ঘোষণা করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার দন্ডাদেশের পর সরকার অতিপ্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপিও আদালতের রায় নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাও ত্রুটিপূর্ণ মনে করছেন আত্মসচেতন মানুষ। তারা বলছেন, বিএনপিকে আইনী সমাধান আইনের মাধ্যমে করাই অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু দলটির পক্ষে বলা হচ্ছে, বেগম জিয়ার দন্ডাদেশ আইনী প্রক্রিয়ায় হয়নি বরং এই রায়ের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছিল। তাই তারা এই সমস্যার সমাধান আদালতের পাশাপাশি রাজপথের মাধ্যমেও খুঁজছেন।
যাহোক বেগম জিয়ার দন্ডাদেশের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ আরেক জন্য সতর্ক বার্তা পাঠাচ্ছেন। যা আমাদের জন্য মোটেই সুখবর নয়। কেউ কেউ নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আবার ষড়যন্ত্রের গন্ধও পাচ্ছেন। তারা মনে করছেন, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যেই এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি আগামী নির্বাচনের ওপর রীতিমত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কেউ কেউ আবার নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন। তারা মনে করেন উভয় রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে যদি চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে তাহলে আগামী দিনে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। তাই দেশে যাইহোক না কেন অন্তত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখা দরকার বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল। জনগণ রাজনীতিকদের কাছে এমন দায়িত্বশীল আচরণই আশা করে।