ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:০২

ভালবাসা দিবসের নামে বেহায়াপনা

আজ তথাকথিত বিশ্ব ভালবাসা দিবস। আসলে ভালবাসা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু মানুষ নয় বরং শ্রষ্টার শ্রেষ্ট জীব হিসেবে সকল জীবের প্রতি দয়া বা ভালবাসা প্রদর্শন মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যে মধ্যেই পরে। তাই ভালবাসার পরিসরটা বেশ বিস্তৃত। তাই কোন ভাবেই সংকীর্ণ বৃত্তের মধ্যে এটিকে আবদ্ধ করা কথিত ভালবাসার নামে তামাশা ছাড়া কিছু নয়। বছরের কোন নির্দিষ্ট দিনে ভালবাসার রিহার্সেল দিতে হবে এটাও এক ধরনের আত্মপ্রতারণা। তাই কথিত ভালবাসার নামে আত্মপ্রবঞ্চনা থেকে অবশ্যই আমাদেরকে বেড়িয়ে আসতে হবে এবং মানুষে মানুষে ভালবাসার বিস্তৃতি ঘটিয়ে আর্ত-মানবতার কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। আর এ দায়িত্ব আমরা কোন ভাবেই এড়াতে পারি না।
মূলত বিশ্ব ভালবাসা দিবস প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতির অংশ। আর তা দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বোধ-বিশ্বাস, আবেগ-অনুভূতি, তাহজিব-তামুদ্দনকে উপেক্ষা ১৯৯৩ সালে আমদানী করা হয়। এটি আমদানী করেন আমাদের দেশের একজন খ্যাতনামা বলে খ্যাত বুদ্ধিজীবী। মূলত কথিত সংস্কৃতির নামে আমাদের দেশে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে আমদানী করে দেশে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা প্রচার ও প্রসার ঘটানো হয়। দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ এবং নতুন শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যখন নতুন প্রজন্মকে নৈতিক, আদর্শিক ও মূল্যবোধের শিক্ষায় গড়ে তোলা জরুরি তখন এই বিজাতীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে তাদেরকে যৌনোম্মাদ বানানোর পরিকল্পনা আর যাইহোক দেশ ও জাতির জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। জানা যায়, আমাদের দেশে এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আমদানী করে দেশে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতাকে উস্কে দেয়ার জন্য নাকি এর আমদানী কারক অনুশোচনা করেন। কিন্তু এই তথাকথিত অনুশোচনা আমাদের কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। কারণ, সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে। শুধুমাত্র অনুশোচনার মাধ্যমে বিপথগামীদের আর কোন ভাবেই সুপথে ফিরিয়ে আসার তেমন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।
মানুষে মানুষে ভালবাসা ও সম্পৃতি বৃদ্ধির বিরোধী মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। কিন্তু কথিত ভালবাসা দিবসের নামে অশ্লীলতা, বেলেল্লাপনা ও অবাধ যৌনাচারের প্রেক্ষাপট তৈরি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আজ সকালেও অন্য দিনের চেয়ে ভিন্নতর চিত্রই আমার গোচরিভূত হলো। দেখা গেল রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফুলের পসরা। ক্রেতাদের সকলকেই উঠতি বয়সের। তারা তাদের প্রিয়জনের জন্য ফুল কিনছেন। আর এদিনে প্রিয়জন বলতে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজনকে বোঝায় বলে মনে হয় না বরং উঠতি বয়সের কপোত-কপোতীর মধ্যে অভিসারকেই বোঝায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই। যার প্রমাণ মিলতেও খুব একটা বিলম্ব হলো না। দেখা গেল এসব যুবারা ফুল কিনে তাদের প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে। তাদের পড়নে বিশেষ ধরনের পোষাক দেখেই অনুমান করার যথেষ্ঠ সুযোগ থাকছে যে, প্রকৃত পক্ষে কোন ভালবাসা নয় বরং একটা অনাকাঙ্খিত আকর্ষণের মধ্যেই সবকিছু সীমাবদ্ধ থাকছে। যা কোন ভাবেই কাঙ্খিত হতে পারে না।
মূলত কথিত ভালবাসা দিবসের নামে আমাদের দেশে বিজাতীয় সংস্কৃতি আমদানী করে তরুণ সমাজকে বিপথগামী হতে সহায়তা করা হয়েছে। এমনতিই আমাদের দেশে অবক্ষয়ের রীতিমত জয়জয়কার চলছে। তার ওপর আবার ভালবাসা দিবসের নামে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার ওপেন লাইসেন্স দেয়া সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। আর দেশের তরুণ সমাজের একটি অংশ সে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজেদের যেমন ধ্বংস করছে, ঠিক তেমনিভাবে দেশীয় সংস্কৃতি ও আদর্শের বিকাশ, প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রেও তৈরি করছেন প্রতিবন্ধকতা। তাই দেশ ও জাতিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা, বোধ-বিশ্বাস, আবেগ-অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবশ্যই বিজাতীয় সংস্কৃতি পরিহার করে দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। মূল্যবোধ সৃষ্টি ও অবক্ষয় রোধে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ও সুকুমার বৃত্তির চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জীবের প্রতি দয়া ও মানুষের প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধির প্রত্যয় জাগিয়ে তুলতে হবে নতুন প্রজন্মে র মধ্যে। সর্বপরি তারা যাতে মূল্যবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা যথাযথ পরিবেশ পায় সেদিকেও দৃষ্টি রাখা দরকার।
কথিত ভালবাসা দিসবের নামে বছরের বিশেষ দিনে যাতে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সরকার, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মানুষে মানুষে যাতে ভালবাসার মেল বন্ধন সৃষ্টি হয় সে লক্ষ্যে কাজ করতে হবে সকলকে। এ দায়িত্ব বিশেষ কোন দল বা গোষ্ঠির নয় বরং সে দায়িত্ব আপনার আমার সকলের। তাই যার যার অবস্থান থেকে সেই মহতি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্মে ধ্বংস কোন ভাবেই রোধ করা যাবে না।