ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২

মাঠেই থাকবে বিএনপি

1292_2.jpg
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠেই থাকবে বিএনপি। কারাদণ্ডের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দফায় ঘোষিত কর্মসূচি শেষ হচ্ছে আজ, আসছে নতুন কর্মসূচি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। দলের চলমান কর্মসূচি লন্ডনে বসে মনিটর করছেন তিনি। সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপকালে তারেক রহমান কারাবন্দী চেয়ারপারসনের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলেছেন পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।

খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কঠোর কোনো কর্মসূচিতে না গেলেও বসে নেই বিএনপি। তারেক রহমানের পরামর্শে নানামুখী সাংগঠনিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতোমধ্যে দলের সিনিয়র নেতা এবং ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমান। জেলাপর্যায়ের নেতাদের সাথেও প্রতিদিন কথা বলছেন তিনি। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার তাগিদ দিচ্ছেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র নেতাদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছেন।

বিএনপি প্রধানের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার চাপ রয়েছে দলের বিভিন্ন স্তর থেকে। কিন্তু কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এগোতে চায় হাইকমান্ড। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পরেও কঠোর কর্মসূচি না দেয়ায় দলের তৃণমূলে এক ধরনের ক্ষোভ আছে।
কিন্তু এ ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, কোনো অবস্থাতেই তারা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেবে না। সিনিয়র এই নেতা আরো বলেন, বিএনপির চলমান আন্দোলনে জনগণ সম্পৃক্ত হয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাবরণ কেউই মেনে নিতে পারেনি। বিএনপি এই ইস্যুতে যে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, তা প্রশংসিত হয়েছে।
বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, নির্বাচনের বাকি আরো ১০ মাস। এখন হার্ডলাইনে গিয়ে দীর্ঘ এক বছর আন্দোলনের কর্মসূচি টেনে নেয়া কঠিন। বিশেষ করে নেতাকর্মীরা মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে পড়লে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে এ বছরের মাঝামাঝিতে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করছে। সেই আন্দোলনে দরকার হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন সফল করতেই নেতাকর্মীদের নিরাপদে রাখতে চায় তারা। চলমান কর্মসূচি ও গ্রেফতার এড়িয়ে সফল করার নির্দেশনা রয়েছে।খালেদা জিয়া কবে নাগাদ জামিন পেতে পারেন, তা নিয়ে আইনজীবীদের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তবে তারা বলছেন, দুই এক দিনের মধ্যেই নি¤œ আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া যাবে। এরপর তারা হাইকোর্টে যাবেন। আগামী সপ্তাহে জামিন প্রাপ্তির বিষয়ে সুখবর আসতে পারে বলে আইনজীবীদের আশা। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনায় রয়েছে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, কর্মসূচিগুলোতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরে কৌশলে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালানো, ঢাকার পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় জমায়েতের মাধ্যমে কর্মসূচি সফল করা।
জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে এক কাতারে আনার তৎপরতাও শুরু করেছে বিএনপি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনগণের একটি প্লাটফর্ম তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জোটের ঐক্য আরো প্রসারিত করার জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে কথা বলা হবে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ভালোভাবে অগ্রসর হলে ক্ষমতাসীন মহাজোটের বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একটি প্লাটফর্মে আসতে পারে। ওই সব দলের সাথে বিএনপির আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও জাতীয় সঙ্কট উত্তরণে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলছে বলে জানা গেছে।

সাংগঠনিক এসব তৎপরতার বাইরে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মামলা এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।