ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২

হাতিরঝিলে খোলা পায়খানা!

1293_3.jpg
  • নকশাবহির্ভূত স্থাপনা।
  • মূল নকশায় কোনো দোকান রাখার পরিকল্পনা ছিল না।
  • পরে দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভ্রাম্যমাণ কিছু দোকান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়।
  • এখন স্থায়ী দোকানই বসানো হয়েছে ১১টি।
সোয়া দুই হাজার কোটি টাকার দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল প্রকল্প। তার মাঝখানে একটি খোলা পায়খানা!
মূল পরিকল্পনা কিংবা নকশায় হাতিরঝিল এলাকায় দোকান বরাদ্দের কোনো বিষয় উল্লেখ ছিল না। এখন হাতিরঝিলের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী মিলে ২৯টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুটি দোকান আবার প্রায় ঝিলের মধ্যে। এমন একটি খাবারের দোকানের কর্মীদের জন্য বানানো হয়েছে খোলা পায়খানাও।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, হাতিরঝিলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের চাহিদা এবং প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানোর জন্য শর্ত সাপেক্ষে দোকানগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, মূল নকশায় না থাকলেও দর্শনার্থীদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে অল্পসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ দোকান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। ঝিলের ওপর ও আশপাশে যে স্থায়ী দোকানগুলো গড়ে উঠেছে, তা পুরোপুরি অবৈধভাবে দেওয়া। এতে হাতিরঝিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, গোটা হাতিরঝিল এলাকায় স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা দোকানের সংখ্যা অন্তত ১১টি। এর মধ্যে গুলশান অংশে পুলিশ কনকর্ড প্লাজার বিপরীতে তন্দুরি কাবাব নামের একটি রেস্তোরাঁ বানানো হয়েছে ঝিলের পাড় ঘেঁষে। সিমেন্টের খাম্বার ওপর তৈরি ওই রেস্তোরাঁর পেছনে টিনের বেড়া দেওয়া একটি খোলা পায়খানা চোখে পড়ে। রুবেল নামের ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মী জানান, এটি বানানো হয়েছে রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য।
এই দোকানের কাছাকাছিই আছে একটি পাবলিক টয়লেট। ঝিল এলাকায় এমন টয়লেট আছে তিনটি।
এখান থেকে বাড্ডার দিকে এগোলে ঝিলমিল নামের আরেকটি পাকা রেস্তোরাঁ দেখা গেল। এটিও ফুটপাত থেকে ঝিলের ভেতরের অংশে পড়েছে। আরেকটু এগিয়ে রামপুরা অংশে ফুড মোবাইল নামের একটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের ট্রাক। তবে ট্রাকটি মূল সড়কে থাকলেও এই ক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে তন্দুরি কাবাবের আদলে স্থায়ী করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা জামাল আক্তার ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন কোনো ব্যবস্থা চালুর শুরুতে কিছু কিছু সমস্যা দেখা যায়। সামনের সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি সভা আছে। সেখানে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে কথা হয় প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী ও তদারককারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যত মানুষ সেখানে বেড়াতে যায়, তাতে নিয়মিত নজরদারির ভেতরে অল্প কিছু ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান থাকতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে যতগুলো স্থায়ী দোকান এখানে গড়ে উঠেছে, তাতে হাতিরঝিলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
খোলা পায়খানা স্থাপনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘এটা কীভাবে সম্ভব বুঝতে পারছি না। এমনিতে ঝিলের পানির মান ঠিক রাখার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

স্থায়ী দোকান বরাদ্দের বিষয়টি হাতিরঝিল প্রকল্পের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন প্রকল্পের স্থাপত্য ও নিসর্গবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, ‘হাতিরঝিল প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আয় থেকে ব্যয় নির্বাহ করা। তবে প্রকল্প শেষ করার পর আমরা লক্ষ করলাম, যাঁরা এখানে বেড়াতে আসবেন তাঁদের জন্য খাবার-দাবারের মতো কিছু সুবিধা থাকা দরকার। তখন ভ্রাম্যমাণ কিছু দোকান বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই দোকানের বদলে যে কর্তৃপক্ষই স্থায়ী দোকান বসানোর অনুমতি দেন না কেন, তা অবৈধ।’

ইকবাল হাবিব আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার জন্য দুই স্তরবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটির একজন সদস্য হিসেবে বলছি, এই দোকানগুলো অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।’
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ইকবাল হাবিব জানান, আগামী শনিবার রাজউকে অনুষ্ঠেয় এক সভায় তাঁরা এসব স্থায়ী দোকান অপসারণের বিষয়ে কথা বলবেন। কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান যদি রাখতেই হয়, সেগুলো কীভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, সে ব্যাপারেও কথা বলবেন তাঁরা।
সৌজন্যে:  প্রথম আলো