ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০২

তিনটি তদন্ত কমিটির একটিও প্রতিবেদন দেয়নি

1302_12.jpg
  • ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগে একটি কমিটি।
  • প্রক্টর ও উপাচার্যের কার্যালয়ের ফটক ভাঙার দুটি কমিটি।
  • তদন্ত কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি।
  • কবে তদন্ত শেষ হবে, তা কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনার এক মাস হতে চললেও প্রতিবেদন দেয়নি তদন্ত কমিটি। প্রক্টরের কার্যালয়ের ফটক ভাঙচুর ও উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনার পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও জমা পড়েনি।
কবে নাগাদ এসব তদন্ত শেষ হবে, তা কেউই সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্ত কমিটিকে সময় বেঁধে না দেওয়ায় কালক্ষেপণ হচ্ছে। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটিকে দলমত–নির্বিশেষে পক্ষপাতহীন প্রতিবেদন দিতে হবে। কমিটিকে তদন্তের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া দরকার। তাঁর মতে, বিলম্বিত বিচারে অনেক সময় ন্যায়বিচার হয় না।

গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ঘিরে অশোভন আচরণ করেন ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার আগের দিন নিপীড়নের বিচার চাইতে গিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙেছিলেন আন্দোলনকারীরা। ফটক ভাঙার ঘটনা খতিয়ে দেখতেও আরেকটি কমিটি করা হয়।

এরপর গত ২৩ জানুয়ারি ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা উপাচার্যকে মুক্ত করেন। এ ঘটনায় রাতেই আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ওই কমিটি গঠনেরও তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, নিপীড়নের অভিযোগ জানতে তদন্ত কমিটি উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু অভিযোগ এসেছে। কমিটি সেগুলো খতিয়ে দেখছে।

নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদাকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জিনাত হুদা গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি সরকারি কলেজের অধিভুক্তি প্রসঙ্গে ঘটনার সূত্রপাত। ১১ জানুয়ারি থেকে কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন একদল শিক্ষার্থী। ১৫ জানুয়ারি তাঁরা ক্লাস বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটে।

আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ যুক্ত হওয়ায় অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে যোগ দেন বামপন্থী কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনকারীরা। ১৭ জানুয়ারি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করেন। একই দিন প্রক্টর কার্যালয়ের ফটক ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর মো. মাকসুদুর রহমান গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির আয়োজন উপলক্ষে প্রক্টরিয়াল দলের সবাই ব্যস্ত। তাই চলতি মাসে তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়।

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, তথ্য-উপাত্ত তো সহজলভ্য নয়। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাচাই করার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তবে কবে তদন্ত শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাবেক প্রক্টর এম আমজাদ আলী, সিন্ডিকেট সদস্য নীলিমা আকতার ও সিনেট সদস্য বাহালুল মজনুনও আছেন। একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা খুব শিগগির কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পক্ষে।
সৌজন্যে : প্রথম আলো