ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০২

‘অসহায় ইসরাইল'

1309_20.jpg
লেবাননের হিজবুল্লাহ বলেছে, উদীয়মান এ শক্তিকে মোকাবেলার উপায় ইসরাইলের জানা নেই। রোববার এক অনুষ্ঠানে হিজবুল্লাহর উপ মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম একথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ইসরাইল একইসঙ্গে দুটি প্রতিকূল বিষয়ের মুখোমুখি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে- মারাত্মক পরিণতি বরণ করতে হবে সে কারণে তেল আবিব লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারছে না; অন্যদিকে হিজবুল্লাহর বেড়ে চলা শক্তিকে চেয়ে দেখা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই এবং হিজবুল্লাহর এই শক্তিকে মোকাবেলা করার পথ তাদের জানা নেই।
গত শনিবার সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, এর অর্থ হচ্ছে- বিনা জবাবে ইসরাইল আর পার পাবে না।

ইসরাইল এ পর্যন্ত লেবাননের ওপর তিনবার যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং লেবাননের ভেতরেই বহু গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদেশি আগ্রাসন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় হিজবুল্লাহ লেবাননের সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে আসছে।
খুব সম্প্রতি ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান বলেছেন, হিজবুল্লাহ ও লেবাননের সেনাবাহিনী এক কথা এবং নতুন কোনো যুদ্ধ হলে তাদের সবাইকে পূর্ণ মূল্য দিতে হবে। এর বিপরীতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বলেছেন, ইসরাইল হচ্ছে এ অঞ্চলের প্রকৃত হুমকি।

পাগল হয়ে গেছে ইসরাইল : সিরিয়া
সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বাসিনা শাবান বলেছেন, এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমান ভূপাতিত হওয়ায় ইসরাইল পাগল হয়ে গেছে। কারণ এর মধ্যদিয়ে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ইসরাইলি যুদ্ধাস্ত্রগুলোর টিকে থাকার ক্ষমতা নেই। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের ইসলামি বিপ্লব বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের উপদেষ্টা আরও বলেছেন, এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমানটি ইরান ভূপাতিত করেছে বলে ইসরাইল অভিযোগ করছে। কিন্তু এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই বিমানটি ভূপাতিত করেছে। শুধু জঙ্গিবিমান নয়, ইসরাইলের অনেক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে।
গত শনিবার সকালে সিরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন জঙ্গিবিমানকে ভূপাতিত করার পর তেল আবিব জনমতকে ধোকা দিতে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করে। ইসরাইল দাবি করছে, সিরিয়া নয় বরং ইরান জঙ্গিবিমানটি ভূপাতিত করেছে। তবে ইরান ইসরাইলের ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

হত্যার মিশনে ইসরাইল
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার ওপর গাড়িবোমা হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তিকে লেবাননের কাছে হস্তান্তর করেছে তুরস্ক সরকার। গত ১৪ জানুয়ারি সংঘটিত ওই হামলায় হামাস নেতা মুহাম্মাদ আবু হামজা হামদান সামান্য আহত হন।
লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তুর্কি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আঙ্কারার কর্মকর্তারা ওই সন্দেহভাজনকে বৈরুতের হাতে তুলে দেন। লেবাননের সরকারি বার্তা সংস্থা এ সন্দেহভাজনকে ৩৮ বছর বয়সী আহমাদ বাইতিয়া বলে পরিচয় দিয়েছে।

লেবাননের আল-আখবার পত্রিকার খবর অনুসারে, দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দারা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে হামাস নেতাকে হত্যা-প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত চক্রের প্রধানকে শণাক্ত করতে সমর্থ হন।
হামাস নেতাদের এ ধরনের হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয় বরং ইসরাইল সংগঠনটির বহু নেতাকে গোপনে হত্যা করেছে। গত বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল হামাস নেতা মাজেন ফুকাহাকে হত্যা করেছিল।
জানা যায় লেবাননে বসবাসরত হামাস নেতা মুহাম্মাদ আবু হামজা হামদানকে হত্যার জন্য গত ১৪ জানুয়ারি গাড়িবোমা হামলা চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন লেবাননে বসবাসকারী হামাসের এ নেতা; ওই হামলায় তিনি সামান্য আহত হন। লেবাননের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দারা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে ওই গুপ্তচরকে ৩৮ বছর বয়সী আহমাদ বাইতিয়া বলে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।

লেবাননের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, বাইতিয়াকে নিয়োগ দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের গুপ্তরচর সংস্থা মোসাদ এবং সে লেবানন ও নেদারল্যান্ডে যখন তখন ভ্রমণ করতে পারত। হামাস নেতাকে হত্যার মিশন নিয়ে বাইতিয়া নেদারল্যান্ড থেকে বৈরুতের রফিক হারিরি বিমানবন্দরে পৌঁছায় গত ৯ জানুয়ারি। পরে সে বৈরুতের ওয়াটার ফ্রন্ট সিটিতে এক সপ্তাহের জন্য একটি বাসা ভাড়া নেয় এবং বৈরুতে পৌঁছার দিনই ত্রিপোলি শহরে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আবার রাজধানীতে ফিরে আসে।

হামলাকারী চক্রের প্রধান হিসেবে ছদ্মবেশে বাইতিয়া কয়েকবার সিডন শহরে যায় এবং কঠোরভাবে হামাস নেতা হামদানের বাড়ির ওপর নজর রাখে। ১১ জানুয়ারি এ গ্রুপ হামদানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা স্থগিত করে। লেবাননের তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে- বাইতিয়া ও তার সহযোগীরা ১৪ জানুয়ারি আবার সিডন শহরে যায় এবং তাদের একজন রাত সাড়ে তিনটার দিকে হামদানের গাড়ির ড্রাইভিং সিটের নিচে বিস্ফোরক পাতে।

এরপর সন্ত্রাসী চক্র হামদানের বাড়ি থেকে বের হওয়া ও গাড়িতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরে সকালে হামদান বাড়ি থেকে বের হন এবং গাড়িতে ওঠার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গেই ইসরাইলি এজেন্টরা ওই এলাকা ছেড়ে রাজধানী বৈরুতে চলে যায়।
বিস্ফোরণে হামদান তার পায়ে আাঘাত পান এবং তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণে হামদানের গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে বিধ্স্ত হয় এবং পাশের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুনে নেভান।