ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০২

সকলকেই দায়িত্বশীল হতে হবে

গত কয়েক দিন আগে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুনীতি মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। তিনি এখন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দীন রোডস্থ পরিত্যক্ত কারাগারে কয়েদি হিসেবে অন্তরীণ আছেন। প্রথম দিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডিভিশন না দিলেও আদালতের নির্দেশে পরে তাকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদায় ডিভিশন প্রদান করা হয়েছে। শরীর-স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে ফাতিমা নামীয়া গৃহকর্মীকে তার সাথে থাকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। 
যাহোক রায় ঘোষণার পর ঘোষিত রায় নিয়ে সরকার ও ভিকটিম পক্ষ তাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সরকার পক্ষ দাবি করছে যে, আইন সবার জন্যই সমান। তাই খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হলেও আইনের দৃষ্টিতে তার আলাদা কোন মর্যাদা নেই। মূলত একজন অভিযুক্ত হিসেবে খালেদা জিয়ার আদালতে বিচার হয়েছে এবং তিনি সাক্ষী-প্রমাণ ও তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে শাস্তি প্রাপ্ত হয়েছেন। আসলে বেগম খালেদা জিয়ার বিচারে সরকারের কোন অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ নেই। যা হয়েছে তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়।
কিন্তু বিএনপি বলছে ভিন্ন কথা। তারা দাবি করছেন যে, সরকার রাজনৈতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে দন্ডাদেশ দিয়েছে। তাদের দাবির পক্ষে তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তিও তুলে ধরেন। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যত কথায় বলা হোক না কেন বাস্তবতা হলো বেগম খালেদা জিয়া বিচারিক আদালতে দন্ডিত হয়েছেন। তাই তাকে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। এখানে রাজপথ গরম করে খুব একটা ফায়দা পাওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। আর এমনটা বোধহয় বিএনপিও ভাবছে না।
যাহোক বেগম খালেদা জিয়ার দন্ড ও কারাবাসে বিএনপির পক্ষ থেকে আইনী প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের নেত্রীর মু্িক্তর দাবিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালন করছে। বেগম জিয়ার আইনজীবীরা উচ্চতর আদালতে আইনী লড়াই করার জন্য যথাযথ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তারা ঘোষিত রায়ের সার্টিফায়েড কপি ওঠানোর জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যতদূর জানা গেছে এখন পর্যন্ত সে কাজে তারা সফল হতে না পেরে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সরকারের অনাকাঙ্খিত প্রভাবের কারণেই তারা রায়ের নকল তুলতে পারছেন না। ফলে তাদের নেত্রীর মামলার আপীলে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা ঘটনার সত্যসত্য জানি না। তবে সত্য হলেও তা দুঃখজনকই বলতে হবে। কারণ, সংবিধান অনুযায়ি আইনী প্রতিকার পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে। তাই এক নাগরিক হিসাবে তাকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার কোন সুযোগ নেই।
বেগম খালেদা জিয়া দন্ডিত হয়ে কয়েক দিন যাবৎ কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন। তার দল সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে বিভন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। মূলত সরকারের সাথে সংঘাত এড়িয়ে তারা গণঅবস্থান, অনশন ও পথসভার মত সাদামাটা কর্মসূচি পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছেন। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকেও ভিন্নমাত্রায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যা সত্যিই শুধু দুঃজনকই নয় বরং বেদনাদায়কও বলতে হবে।
বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে সরকারি দলের নেতারা বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছেন। কেউ কেউ বলছেন যে, বিএনপির একটা মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় আছে। তারা সুযোগ বুঝে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্ষমতাসীনদের বেকায়দায় ফেলার একটা রাস্তা খুঁজছে। তাই তারা অতি সন্তর্পণে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বললেন ভিন্নকথা। তিনি দাবি করছেন যে, বিএনপির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি তাদের অক্ষমতা। এতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিএনপির বড় ধরনের সংঘাতপূর্ণ আন্দোলনের ক্ষমতা নেই বলেই তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন।
এখন প্রশ্ন হলো বিএনপি যদি সহিংস আন্দোলন করতো তাহলেই কি সরকার খুশী হতো ? বিষয়টিকে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না বরং এর মধ্যে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত খুঁজছেন। তাই তারা বলছেন বিরোধী দলকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সংঘাতে জড়ানো মোটেই কাঙ্খিত নয়। আর তা কারো জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না।