ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০২

 চাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন

সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম কিছুটা খেদোক্তি করেই বলেছেন যে, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই সরকারি কর্মকর্তারা সৎ থাকতে পারেন না। যদিও আমাদের দেশের রাজনীতিরা বিষয়টি সরাসারি স্বীকার করতে চান না। কিন্তু রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ আমলার মুখ থেকেই এই রূঢ় বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে। একজন আমলার এমন সরল আত্মস্বীকৃতি যেমন সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আত্মসচেতন মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে বিষয়টি। কারণ, রাজনীতির আসল উদ্দেশ্য গণমানুষের কল্যাণ। কিন্তু যে রাজনীতি মানুষের কল্যাণে আসে না সে রাজনীতিকে আর যাইহোক ইতিবাচক বলার কোন সুযোগ নেই।
মাননীয় ক্যাবিনেট সচিবের সর্বসাম্প্রতিক কথার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, জনপ্রশাসন সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরে অনাকাঙ্খিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। আর এমন অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেই দেশে সুশাসন যে তিরোহিত হচ্ছে একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাই এই অশুভ বৃত্ত থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বেড়িয়ে আসতে হবে এবং দেশে আইন ও সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অন্যথায় আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা কখনোই অর্থবহ হয়ে উঠবে না। আর এজন্য রাজনীতিকদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় আমাদের দেশের রাজনীতি কোন ভাবেই গণমুখী হয়ে উঠবে না।
আমাদের দেশের জনপ্রশাসনে দলবাজীর অভিযোগটা খুবই পুরনো। বিশেষ করে যারা ক্ষমতা চর্চা করেন তাদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। মূলত যারা ক্ষমতার বাইরে তথা বিরোধী দলে থাকেন তারা বরাবরই এমন অভিযোগ করে থাকেন। আবার একশ্রেণি দলবাজ কর্মকর্তারাও দলবাজি করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। তারা ক্ষমতাসীনদের আনুকুল্য নিয়ে প্রশাসনে প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠা ও অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেন। ফলে সুবিধাবঞ্চিত হন দেশের সাধারণ মানুষ। পারিপাশির্^কতা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে তার প্রমাণও মেলে।
অভিযোগ আছে ক্ষমতাসীনরা দলবাজ কর্মকর্তাদের দিয়ে দেশের জনপ্রশাসন সহ রাষ্টের সকল সেক্টরই দলীয়করণ করে ফেলেন। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গগুলো নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। ফলে নাগরিকদের সাংবিধানিক ও আইনী অধিকার লঙ্ঘিত হয়। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ সার্বিক পরিস্থিতির অবণতি ঘটে। মানুষে মানুষে বৈষম্য সৃষ্টি হয়। তাই  দেশে সুশাসন উপহার দিতে হলে দলনিরপেক্ষ দক্ষ জনপ্রশাসনের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি বলে মনে হয় না বরং এ বিষয়ে আমরা এখনও বেশ নেতিবাচক। তাই আমরা এখনও অন্যসব জাতি-রাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চাদপদ।
আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়েও নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনী নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারণাটা বেশ প্রবল। অভিযোগ আছে যে, পুলিশ বাহিনীর জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব হলেও  তারা যথাযথভাবে সে দায়িত্ব পালন না করে ক্ষমতাসীনদের অঙ্গলী হেলনে সবকিছু করে থাকে। এমনকি ক্ষমতাসীনদের দলীয় রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত শোনা যায়। কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার কোন ভাবেই কাম্য নয় বা তা আমাদের জন্য কল্যাণকরও নয়।
পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের যেমন অভিযোগ আছে ঠিক তেমনিভাবে পুলিশ বাহিনীর একশ্রেণির সদস্যদের নৈতিক স্খলনের অভিযোগও জোড়ালো। মূলত এসব অসৎপ্রবণ পুলিশ সদস্যদের কারণেই পুরো বাহিনীই এখন ইমেজ সংকটে ভুগছে। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও আছে। তাই পুলিশ বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার যেমন কাম্য নয় ঠিক তেমনিভাবে একশ্রেণির অসাধু পুলিশ সদস্যের কারণে গোটা বাহিনীর ভাবমর্যাদাও নষ্ট হতে দেয়া যায় না। তাই চাই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত , জনবান্ধব ও সুশৃঙ্খল পুলিশ প্রশাসন। দেশের মানুষ রাজনীতিকদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।