ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:০২

 জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে

 
গণতন্ত্রের ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের জন্যই আমাদের মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আমরা দীর্ঘ ৯  মাস মরণপণ লড়াই করেই অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর বিনিময়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম। ফলে বিশ^মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের এক শিশু রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল। ধারণা করা হয়েছিল যে, সদ্য ভূমিষ্ঠ এই শিশু রাষ্ট্রটি কালের পরিক্রমায় পরিপুষ্ট হয়ে এক সময় সমৃদ্ধ ও পূর্ণতা লাভ করবে। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আমাদের সে স্বপ্ন অনেকটাই অধরায় রয়ে গেছে। ফলে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের জন্য পুরোপুরি অর্থবহ হয়ে ওঠেনি।
মূলত আমরা ভৌগলিকভাবে স্বাধীন হলেও মানসিক দাসত্ব থেকে এখনও মুক্ত হতে পারিনি। আর দাসপ্রবনদের জন্য স্বাধীনতা কখনো সুফল বয়ে আনে না। খুব সঙ্গত কারণেই আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এখনও ফুলে ফলে সুশোভিত হয় নি। আসলে ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও নেতিবাচক রাজনীতিই আমাদের মহাসর্বনাশটা করেছে। আমরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আজও   প্রকৃত গণতন্ত্রমনা হয়ে উঠতে পারিনি। ফলে গণতন্ত্রের সংকট আগে যে অবস্থায় ছিল তার চেয়ে খানিকটা অবনতিই ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে ববং সেই অবনমনের ধারা এখনও অব্যাহত আছে। আর এর শেষটা কোথায় গিয়ে ঠেকে তা এখনই দিব্যি দিয়ে বলার সময় আসেনি।
দেশ স্বাধীনের পর বারবারই ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। আমরা অনেক আশার বাণীও শুনেছি রাজনীতিবিদদের কাছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রাপ্তিটা একেবারে অশ^ডিম্বই থেকেছে। জনগণকে ভাগ্যপরিবর্তনের স্বপ্ন দেখানো হলেও ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে শ্রেণি বিশেষের। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক পরেও জনগণ এখনও অধিকার বঞ্চিত। এমনকি গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্কটা মোটেই পিছু ছাড়তে নি। ভোটে নয় ছয় করার অভিযোগ সব সরকারের বিরুদ্ধেই রয়ে গেছে। যা আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মোটেই সম্মান বৃদ্ধি করেনি। কিন্তু এ বিষয়ে তারা অনেকটাই অনুভূতিহীন।
বিশে^র সকল দেশেই বিদায়ী সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের অর্জনটা মোটেই সুখকর নয়। কারণ, বিদায়ী কোন সরকারই নির্বাচন অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। যা রাজনীতিকদের ব্যর্থতা বলা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে দলনিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবির যৌক্তিকতাটা মেনে নেয়াটাও রাজনীতিবিদদের আত্মপ্রবঞ্চনার দলিল। আমরা বিশ^দরকারে প্রমাণ করেছি যে, আমরা  আদর্শিকভাবে এতই দেউলিয়া যে একটা অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার মত যোগ্যতাও আমাদের নেই। তাই নির্বাচনকালীন সময়ে একটি দলনিরপেক্ষ সরকারের দাবি ওঠে এবং পর্যায়ক্রমে আমরা সকলেই এই প্রস্তাবের সাথে একমত হই। আর এটিই হচ্ছে আমাদের জাতীয় জীবনের ব্যর্থতার সুষ্পষ্ট দলিল। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে, যারা একটা নির্বাচনকে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন না তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কতখানি যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবেন?
নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেছিলেন তারা এখন ক্ষমতায়। কিন্তু আমাদের চরম দূর্ভাগ্য যে, যারা এই সরকার পদ্ধতির সুবিধাভোগী তারা এখন তার আবশ্যকতাকে পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। তারা কেয়ারটেকার সরকারকে অসাংবিধানিক মন করছেন। কিন্তু তারা নিকট অতীতে এই সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছিলেন। এখন যারা ক্ষমতার প্রভাব বলয়ের বাইরে রয়েছেন তারা অবশ্য কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির মহাত্ব বর্ণনায় ব্যস্ত। কিন্তু আমাদের দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেয়ারটেকার সরকারের আবেদনটা এখন নিঃশেষ হয়ে যায় নি বরং তা আমাদের রাজনৈতিক দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যাবশ্যক বলেই মনে করেন আত্মসচেতন মানুষ। আর জনগণের এমন উপলব্ধি রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও রূঢ় বাস্তবতার কারণেই। তাই এই আবেদন ও প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। 
দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চললে তা নির্বাচন পদ্ধতিকে কেন্দ্র করেই। আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে বা কোন ধরনের সরকারের অধীনে হবে সেটা নিয়েই বিতর্ক। বিরোধী দলগুলো আগের কেয়ারটেকার সরকারের দাবি থেকে কিছুটা সরে এসে এখন নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলছেন। কিন্তু সরকার পক্ষ সংবিধানিক দায়বদ্ধতার কথা বলে সে দাবি বরাবরই উপেক্ষা করে আসছেন। অবস্থা যাইহোক না কেন রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এ সমস্যার সমাধান খুব একটা কঠিন নয়। প্রশ্নটা হচ্ছে নির্বাচনে নিরপেক্ষতার। তাই বিবাদমান পক্ষগুলোর উচিত এমন একটি গ্রহণযোগ্য ফর্মূলা উদ্ভাবন করা যার ওপর জনগণের আস্থা রাখতে পারে। জনগণ যে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য পূর্ণ নিশ্চয়তা পায় এবং জনগণের অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়। তা যে পদ্ধতির সরকারের অধীনে হোক না কেন। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সাহসী পদক্ষেপই পারে দেশ ও জাতিকে এই স্বাশরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে।