ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

৪ মার্চ ২০১৮, ১৫:০৩

 ঢাকা নগরীতে মশার উপদ্রপ

সম্প্রতি ঢাকা নগরীতে মশার উপদ্রপ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। যা নগর জীবনকে রীতিমত দুর্বিসহ করে তুলেছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় মশার এমন অসহনীয় উপদ্রপ অতীতে কখনো দেখা যায় নি। বাসা-বাড়ী থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ সকল ক্ষেত্রে মশক বাহিনীর অপ্রতিরোধ্য গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক কথায় মানুষের সকল বিচরণ ক্ষেত্রেই মশার সরব উপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যা নগরবাসীর জীবনে বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এমতাবস্থায় নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে  সংশ্লিষ্টদের তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে ঢাকা মহানগরী এখন মশকবাহিনীর দখলেই চলে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যা থেকে পরিত্রাণ লাভের আপাত কোন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না।
মশার উপদ্রপ সকল ক্ষেত্রেই বেড়ে গেলেও নগরীর বস্তিগুলোতে একেবারে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আর এই পুঁথিগন্ধময় ঘিঞ্জি বস্তিগুলো থেকে মশার উপদ্রপ বেড়ে যায় বলে মনে করা হয়। আর এসব ভাগ্যাহত বনি আদমদের চরম প্রতিকুলতা ও বৈরিতার মধ্য দিয়েই দিনাতিপাত করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। ফলে এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ ও মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। যা নগর জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে বাধ্য। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিজেদের আবাসস্থল ও কর্মক্ষেত্রকে মশকমুক্ত করার সুযোগ থাকলেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সে সুযোগ একেবারেই নেই। কারণ, তাদের আবাসন ও কর্মক্ষেত্র তত সুরক্ষিত নয়। তাই এ ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা অন্যদের চেয়ে বেশি।
আসলে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণেই মশক সৃষ্টির উৎস বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর ড্রেনেজ ও পয়োঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা সেকেলে হওয়ায় নগর জীবনের ওপর পড়ছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব। নগরীতে অপ্রয়োজনীয় খানা-খন্দক ও কল-কলখানার বর্জ থেকেই মশনের উৎপত্তি হয়ে থাকে বেশি । বিশেষ করে বর্জ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক  প্রযুক্তি ব্যবহৃত না হওয়ায় ঢাকা নগরীকে কোন ভাবেই দুষণমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই মশক উৎপত্তির উৎসগুলো কোন ভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নগর জীবনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে মশার উপদ্রপ। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন ও নির্বিকার। যা কারো কাম্য নয়।
ঢাকা নগরীতে মশার উপদ্রপ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নগর জীবনের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নগর স্বাস্থ্যের জন্য তা রীতিমত আতঙ্কের। মূলত মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া সহ নানাবিধ অসুখের বিস্তার ঘটে এবং তা কখনো কখনো মহামারীর রূপ নেয়। অনেক ক্ষেত্রে তা প্রাণহানীর ঝুুঁকিও সৃষ্টি করে। মশার অনিয়ন্ত্রিত উপদ্রপের কারণেই গত বছর ঢাকা মহানগরীতে চিকনগুনিয়া রোগের ব্যাপক প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছিল। এতে কারো প্রাণহানীর খবর না পাওয়া গেলেও শত শত মানুষ এই রোগের ভিকটিম হয়েছেন এবং তারা দীর্ঘ রোগ ভোগ করেছেন। নগরবাসীর ওপর থেকে এ রোগের কুপ্রভাবটা এখনও কেটে যায়নি বরং আক্রান্তরা এখনও নানাবিধ শারিরীক সমস্যার মোকাবেলা করছেন। আর এ রোগের নেতিবাচক প্রভাবটা যে দীর্ঘ মেয়াদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু নগর প্রশাসনের এ বিষয়ে টনক নড়েছে বলে মনে হয় না।
কারণ, মশক নিধনে নগর প্রশাসন দৃশ্যমান কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে মনে হয় না। নগর প্রশাসন এখনও মশার উৎসগুলো বন্ধ করেনি বা করার কোন চেষ্টা করছে বলেও মনে হয় না। একথা সত্য যে, এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদ ও যুৎসই পরিকল্পনা গ্রহণ। কিন্তু সরকার ও নগর প্রশাসন সে ধরনের কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কিনা তা মোটেই স্পষ্ট নয়। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। ঢাকা নগরীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে প্রায়শই ফগার ষ্প্রে করতে দেখা যায়। যা মশক নিধনে স্থায়ী কোন কর্মপদ্ধতি নয়। এমনকি ফগারের যথাযথ মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। নগরীর অলি-গলিতে এসব ফগার ছিটানো হলেও মেশিনের বিকট শব্দ আর কেরোসিন পোড়া গন্ধের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু মশক নিধনে তা মোটেই যথেষ্ঠ কার্যকর মনে হয় না। তাই ঢাকা নগরীতে মশক এখন প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই মশার উপদ্রপ লাঘব করে নগর জীবনে স্বস্তি ফিরে আনতে সরকার ও নগর প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নগরবাসী সংশ্লিষ্টদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।