ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

৫ মার্চ ২০১৮, ১১:০৩

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন জরুরি

মূলত গতানুগতিক রাজনীতি আমাদের জন্য মোটেই কল্যাণকর হচ্ছে না। চলমান রাজনীতিতে কোথাও যেন একটা শূণ্যতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, এ শূণ্যতা তো কোন ভাবেই পূরুণ হচ্ছে না বরং আত্মকেন্দ্রিক ও নেতিবাচক রাজনীতির কারণে ক্রমেই তার পরিসরটা আরও বৃদ্ধিই পাচ্ছে। ফলে আমাদের আগামী দিনের গন্তব্যও অনিশ্চয়তার দিকেই ধাবিত হচ্ছে। বস্তুত  রাজনীতি ব্যবসায়িক পণ্য নয় বরং এটি একটি সেবামূলক কাজ। কিন্তু আমরা বোধহয় সেই আপ্তবাক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং একটা হীন স্বার্থপরতা আমাদের দেশের রাজনীতিকে রীতিমত গ্রাস করে ফেলেছে বলেই মনে হচ্ছে। আর এই অশুভ বৃত্ত থেকে কোন ভাবেই আমরা বেড়িয়ে আসতে পারছি না বা বের হয়ে আসার চেষ্টাও করছি না। যাকোন স্বাধীন ও সভ্য জাতির জন্য মোটেই কাঙ্খিত নয়।
একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের দেশের প্রচলিত রাজনীতির কক্ষচ্যুতি ঘটেছে অনেক আগেই। রাজনৈতিক পরিসরটা রাজনৈতিক বৃত্তের মধ্যে আটকা নেই বরং স্বার্থান্ধতা আমাদেরকে রীতিমত পেয়ে বসেছে। মূলত গণমানুষের কল্যাণকামীতা থেকে আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। আর এ ধারণার সুফলও বেশ বিস্তৃত। কিন্তু আমাদের দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে আমরা বেশ পশ্চাদপদ। পশ্চাদপদ এ জন্যই বলা হচ্ছে যে, আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এখনও আধুনিক ধারার রাষ্ট্র ব্যবস্থার আদলে প্রতিষ্ঠিত হয় নি বা করা যায়নি। আর এ ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হলো আমাদের দেশের প্রচলিত নেতিবাচক রাজনীতি। দেশ, জাতি ও নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে অবশ্যই বেড়িয়ে আসতে হবে। অন্যথায় আমাদের গন্তব্যই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
স্বাধীনতা উত্তর আমাদের দেশের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে আশার চেয়ে হতাশার দিকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ, স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়নি। আর আমরাও পুরোপুরি গণতন্ত্রমনা হয়েও উঠিনি। বেড়িয়ে আসতে পারিনি মানসিক দাসত্ব থেকে। আর দাসপ্রবণ মানসিকতায় আমাদের দেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে। এমনকি দেশে সুস্থ্যধারার রাজনীতির চর্চার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কটা বেশ জোড়ালো।
ফলে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ রাজনীতি ও রাজনীতিকদের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেছেন। কিন্তু কক্ষচ্যুত রাজনীতিকে কক্ষপথে এনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যাদের দায়িত্ব তাদেরকেই এই বিষয়ে অধিক উদাসীন বলেই মনে হয়। কারণ, একট্ াঅনৈতিক উচ্চাভিলাস আমাদেরকে রীতিমত তাড়া করে ফিরছে। আর এই রাহুগ্রাস থেকে আমরা কোন ভাবেই মুক্ত হতে পারছি না। এ অবস্থা যেমন ব্যক্তির জন্য আত্মপ্রতারণামূলক, ঠিক তেমনিভাবে দেশ ও জাতির জন্যও অকল্যাণকর।
স্বাধীনতার পর অনেকবারই ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। আর এজন্য দেশের মানুষ তাদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্নও দেখেছিলেন। কিন্তু তারা বারবারই প্রতারিত ও উপেক্ষিত হয়েছেন। স্বপ্নভঙের ঘটনাও ঘটেছে প্রতিবারই। কারণ, ক্ষমতার চলমান পালাবদলে জনগণের  ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি বরং ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে বিশেষ শ্রেণির। যারা রাজনীতিকে জনকল্যাণে ব্যবহার না করে আত্মস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করেছে প্রচলিত রাজনীতির তারাই সুবিধাভোগী। আর ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণেই এসব মুনাফা বা সুবিধাভোগীদের সংখ্যাটা মোটেই কমছে না বরং তা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। ফলে দেশের মানুষ একশ্রেণির রাজনীতিকদের ব্যবসায়িক কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। লাভবান হচ্ছে রাজনৈতিক ফরিয়া থেকে শুরু করে মহাজনেরা পর্যন্ত। আমাদের জাতীয় দুর্ভাগ্যতা এখানেই।
আসলে ক্ষমতাকেন্দ্রীক অপরাজনীতিই আমাদের জাতি স্বত্ত্বার মর্মমূল্যে আঘাত হানছে। আর এই পৌণপৌণিক আঘাতটা আর এখন মোটেই সহনীয় পর্যায়ে নেই বরং তা এখন সঙ্গীন অবস্থায় পৌঁছেছে। মূলত কোন দেশের রাজনীতি যখন ক্ষমতা রক্ষা ও ক্ষমতা দখলের অনুসঙ্গ হয়ে দেখা দেয় তখন সে দেশের রাজনীতি আর কোনভাবেই কল্যাণমুখী থাকে না বরং সে জাতির পতন অনেকটা অবশ্যাম্ভাবী হয়ে ওঠে। আমাদের দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একথা বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয় যে, আমাদের দেশের রাজনীতি ও একশ্রেণির রাজনীতিক একটা অনাকাঙ্খিত মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন।
তাই প্রচলিত রাজনীতি এখন গণবিচ্ছন্নতায় আচ্ছন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রচলিত ধারার রাজনীতির বিষয়ে জনগণের আগ্রহে ভাটির টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর নাগরিকরা যদি দেশের রাজনীতির ওপর আস্থা হরায় সে রাজনীতি কখনোই গণমুখী হয়ে ওঠেনা। মূলত আমাদের দেশের রাজনীতি গণমানুষের কল্যাণের পরিবর্তে শ্রেণি বিশেষের জন্য মনোরঞ্জিকা ও আত্মবিনোদনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে। আর জনগণ শুধুই উপলক্ষ মাত্র। যা আমাদের জাতিস্বত্ত্বার জন্য মারাত্মক হুমকী হয়ে দেখা দিতে পারে।
তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদেরকে ক্ষমতাকেন্দ্রীক ও আত্মপূঁজার নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এসে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। নিশ্চিত করতে হবে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার। দেশের আত্মসচেতন মানুষ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।