ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

৭ মার্চ ২০১৮, ১৩:০৩

নাগরিকদের  জানমালের নিরাপত্তা বিধান করতে হবে

অপরাধ সভ্যতার অবদান। মানব সভ্যতা যখন বিকশিত হয়নি তখন অপরাধের ধারাণারও সৃষ্টি হয়নি। তখন ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতিতেই সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হতো। সে সময় কোন কাজকে গর্হিত মনে করার কোন সুযোগ ছিল না।  কিন্তু ক্রমেই সভ্যতা যখন বিকশিত হতে শুরু করলো তখন অপরাধের সংজ্ঞায়ন হয়ে গেল। মানুষের দৈনিন্দিন কাজকর্মকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করে করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করা হলো। অপরাধ হিসেবে চিত্রিত হলো মানুষের জন্য বর্জনীয় কাজগুলো।
আর অপরাধের প্রতিবিধানের জন্য দন্ডবিধি, দন্ডবিধি প্রয়োগের জন্য বিচারালয় এবং বিচারকার্য পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক সহ বিচারবিভাগীয় অবকাঠামো তৈরি হলো। আর মানুষের দৈনিন্দিক কাজকে সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল করা এবং নাগিরক অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই আধুনিক রাষ্ট্রের ধারণার সৃষ্টি হলো। সভ্যতার বিকাশে গতিও এসেছিল যে সময় থেকেই। আর তা চলছে এখন অব্যাহত গতিতে।
সভ্যতার অন্যতম অবদান হলো আধুনিক রাষ্ট্রে ব্যবস্থা। আর আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকদের জনমালের নিরাপত্তা বিধানে কার্যকর ব্যবস্থা  গ্রহণ করা। উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশে^ নাগরিদের অধিকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এর চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। স্বল্পোন্নত সব দেশের চিত্রই একই সে কথা বলা যাবে না। তবে এ বিষয়ে আমাদের দেশের চিত্রটা খুবই ভয়াবহ। আইন ও সাংবিধানিক শাসনের দুর্বলতার কারণেই আমাদের জনজীবন এখন বিপর্যস্ত। যার বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে। যা শুধু হতাশাব্যঞ্জকই নয় বরং রীতিমত আতঙ্কের।
অধিকারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত দুই মাসে ২৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এ সময়ে গুম হয়েছেন সাতজন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত দুই মাস অর্থাৎ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ২৪ জন। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দুইজন। এ সময় কারাগারে মারা গেছেন ১১ জন। এদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে মারা গেছে ছয়জন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচজন। গত দুই মাসে বিএসএফের হাতে তিন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আট বাংলাদেশী। আর এ সময়ে বিএসএফর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন দুইজন বাংলাদেশী।
দুই মাসে ১৮ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। লাঞ্ছিত হয়েছেন চারজন সাংবাদিক। আর হুমকির শিকার হয়েছেন তিনজন। রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে বলে অধিকারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকারের হিসাব অনুযায়ী গত দুই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় খুন হয়েছেন ১৩ জন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ৯ জন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে চারজন নিহত হন। আহত হয়েছেন এক হাজার ৪৩ জন। গত দুই মাসে যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৩ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১৫ জন। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ২৬ জন। এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছেন তিনজন। এ সময় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১১ জন মানুষ।
মূলত রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো দুষ্টের দমন করে শিষ্টের লালন করা। কিন্তু আমাদের দেশের আর্ত-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সে দায়িত্ব পালনের পুরোপুরি সফল হচ্ছে বলে মনে হয় না। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা খুবই ভয়াবহ। মানব সভ্যতার এই চরম পর্যায়ে এসে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা কোন ভাবেই কাম্য নয়। মূলত অপরাধ প্রবণতা প্রতিটি জাতি-রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা দায়িত্ব রাষ্ট্রের তথা সরকারের।
অপরাধ চিহ্নিতকরণ ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আমাদের দেশে আইনের শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই অপরাধী চক্র লাগামহীনভাবে অপরাধ প্রবণতা চালিয়ে জনজীবনকে দুর্বিসহ করে তুলছে। সাথে সাথে যোগ হয়েছে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড। তাই জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাবিধান করতে হবে। আর এ দায়িত্ব রাষ্ট্র তথা সরকারেরই।