ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

৯ মার্চ ২০১৮, ১০:০৩

অতিথির সম্মান

অতিথির যথাযথ সম্মান ও আদোর-আপ্যায়ন মানব সভ্যতার অতি প্রাচীন ঐতিহ্য। এমনকি ঘোর তমাশার যুগেও অতিথির কখনোই অসম্মান করা হতো না বরং শত্রুও যদি সে সময় কারো কাছে আশ্রয় চাইতো বা আতিথ্য গ্রহণ করতো তারও অমর্যাদা করা হতো না বরং সর্বশক্তি দিয়ে হলে আশ্রিত বা অতিথির সম্মান ও নিরাপত্তা  প্রদান করা হতো। মানব সভ্যতার ক্রমবিকারের সাথে সাথে সবকিছুতে আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও মাঝে মধ্যে এমন কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনার সৃষ্টি হয় যা বিবেকবান মানুষকে একেবারে হতচকিত করে দেয়। যা সভ্যতার সংকট হিসেবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে।
এমনি এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এ্যাডভোকেট আন্তর্জাতিক সোলার জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৮ মার্চ ভারতে গুয়াহাটিতে পৌঁছেছেন এবং তিনি সেখানকার ৫ তারা হোটেল তাজ ভিভান্তায় অবস্থান করছেন। একটি স্বাধীন দেশের মাননীয় রাষ্ট্রপতি সেদেশের সম্মানিত অতিথি হয়েই সেখানে গেছেন।  ভারত সরকার সহ সংশ্লিষ্টরা তাকে যথাযথ সম্মান করবেন এটিই ছিল আত্মসচেতন মানুষের প্রত্যাশা।
প্রত্যাশিতভাবেই শিষ্টাচার ও ভব্যতার খাতিরেই আমাদের রাষ্ট্রপতি অতিথির হিসেবে সম্মানিত ও আপ্যায়িত হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভারতীয় উগ্রবাদী সংগঠন বিশ^ যুব পরিষদ সে ধরনের শিষ্টার প্রদর্শন করতে রীতিমত ব্যর্থ হয়েছে। তারা একজন রাষ্ট্র প্রধানকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে একজন সম্মানিত অতিথির কুশপুত্তলিকা দাহ ও তার নামে অসৌজন্যমূলক স্লোগান দিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে অপমানিত করেছে। যা একজন রাষ্ট্র প্রধানের জন্য অপমানজনক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য মারাত্মক অশোভন। যা ভারতের মত বৃহত্তর রাষ্ট্রের আদর্শিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।
ভারত আমাদের নিকট প্রতিবেশী ও বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্র। উভয় দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্কও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলেই মনে করা হয়। তাই উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় কর্তা ব্যক্তিদের দ্বিপক্ষীয় সফর নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। একথা বললে অতুক্তি হবে না যে, ভারতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সহ রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিরা যখন বাংলাদেশ সফরে আসেন তখন তাদের আদোর আপ্যায়নের কোন কমতি করি না। এমনকি ভারতীয়দের ক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহটা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশী এমন কথা সর্বসাধারণ্যে প্রচলিত আছে।
কিছু দিন আগেও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বাবু প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফলে এসেছিলেন। একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাকে যেভাবে আদোর-অপ্যায়ন করেছি তা রীতিমত অবিভূত হওয়ার মত। কিন্তু আমাদের মাননীয় রাষ্ট্রপতি যখন রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত গেলেন তখন তার উল্টো ঘটনা ঘটলো। তাকে যথাযথ সম্মান করার পরিবর্তে রীতিমত অসম্মান করা হলো। ঘটনার সাথে উগ্রবাদী বিশ^ যুব পরিষদ জড়িত হলেও প্রাদেশিক সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের এ বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই। যা শুধু দুঃখজনকই নয় বরং বিশে^র অন্যতম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতে জন্য অসম্মানজনক।
মূলত অতিথি যে-ই হোক না কেন তার সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু এ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলেই মনে হয়। যা কাঙ্খিত ও সংগত হয়নি।