ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৭ মার্চ ২০১৮, ১১:০৩

নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে

মূলত নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই কমিশনের মর্যাদা, দায়িত্ব ও গুরুত্ব অন্য সব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি। এই কমিশনের কর্তব্য নির্বাচন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কাজ দায়িত্বশীলতার সাথে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভা সম্পাদন করা। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের দেশে প্রায় ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনগুলো সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি বরং অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশন ও কমিশন কর্তাদের দলবাজীতে অবতীর্ণ হতে দেখা গেছে। ফলে অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয় নি বরং তা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে গেছে। ফলে দেশ ও জাতি বারবারই সংকটে পড়েছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যত রাজনৈতিক সংকট তৈরি হায়েছে বা যত আন্দোলন হয়েছে তার সবগুলোই হয়েছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা ও  নির্বাচন নিরপেক্ষ করার বিষয়কে কেন্দ্র করে। এমনকি এজন্য আমাদেরকে অনেক চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে জেনারেল এরশাদ সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে আমারা যা অর্জন করেছিলাম আমাদের দায়িত্বহীনতার কারণেই আমরা তা ধরে রাখতে পারেনি। আমাাদের দেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনকালীন সময়ে কেয়ারটেকার  সরকার পদ্ধতি রূঢ় বাস্তবতা হলেও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে আমরা তা উপেক্ষা করতে চেয়ে ছিলাম। সঙ্গত কারণেই ১৯৯৬ সালে একটি একতরফা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাদেরকে।  আর এর ফলটা মোটেই শুভ হয়নি এবং  আমরা ১৯৯০ সালের অর্জনটাকে মোটেই কাজে লাগাতে পারিনি। ফলে যা হবার হয়েছে। অনেক ক্ষয়ক্ষতির পর সে বাস্তবতাকে আবার মেনেও নিতে হয়েছে। আমরা বিষয়টির বুঝেছি কিন্তু বেশ বিলম্বে।
আমাদের চরম দূর্ভাগ্য একই খাদে বারবার পরার পরও আমরা সে ভুলের বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে আমাদের দেশের রাজনীতিতে পানি অনেক ঘোলা হলেও ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতিতে আমরা বারবার হেরে গেছি। নির্বাচন নিরপেক্ষ করার বিষয় নিয়ে ২০০৬ সালে অনেক অনাকাঙ্খিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার অপতারণা হলেও আমরা তা থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করিনি বরং যারা নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়ে এবং কেয়ারটেকার সরকারকে অধিকতর নিরপেক্ষ করার জন্য রাজপথে জোড়ালো আন্দোলন করেছিলেন তারা ক্ষমতায় আসার পর সে ধারণাকেই আস্তকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। তারা একটি কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতিই বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য সংবিধান সংশোধন করেছে। ফলে দেশে আবারও রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সংকট নিরসনে কোন পক্ষকেই আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে আমাদের যাত্রা অনেকটা অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
অতীতে কয়েকটি নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন নিয়ে মানুষের আগ্রহ আগের মত ছিল না। যেহেতু নির্বাচনকালীন সময়ে একটি দলনিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকে তাই কমিশনের পক্ষে বিশেষ দলের পক্ষে দলবাজী করা সহজসাধ্য ছিল না। কিন্তু  নির্বাচনকালীন সময়ে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির অবলুপ্তির পর নির্বাচন কমিশন নিয়ে মানুষের আগ্রহটা আগের তুলনায় বেড়েছে। বেড়েছে কমিশনের দায়িত্বও। কিন্তু কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল হওয়ার পর গঠিত রকিব কমিশন জনগণকে হতাশই করেছে। সে কমিশনের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তারা কোনটাই দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বরং সে কমিশনের বিরুদ্ধে মারাত্মক দলবাজির অভিযোগ রয়েছে। সার্বিক দিক পর্যালোচনায় তার প্রমাণও মিলেছে ঢের।
যাহোক মেয়াদান্তে রকিব কমিশন বিদায় নেয়ার পর হুদা কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা চাইনা নতুন কমিশন অতীত ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটাক। কিন্তু নতুন কমিশনের আচরণে দেশের মানুষ খুব একটা আশ^স্ত বা আস্থা রাখতে পারছে না। এই কমিশনের অধীনে যে কয়টি নির্বাচন হয়েছে তা বিদায়ী কমিশনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল হলেও নির্বাচনগুলো মোটেই ত্রুটিমুক্ত ছিল না। তাই সবার আগে বর্তমান কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো যাতে বর্তমান কমিশনের ওপর পুরোপুরি আস্থা রেখে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারে সেদিকেও সবিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে কমিশনকে। অন্যথায় দেশ নতুন করে সংকটে পড়বে। যা কারো কাম্য হতে পারে না।