ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২৪ মার্চ ২০১৮, ১৫:০৩

আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে

মূলত রাজনীতিকদের কথামালার ফুলঝুড়ির মধ্যেই আমাদের দেশের জনগণের ভাগ্য পেন্ডুলামের মত ঝুলছে। মনে হয় আমরা এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকেই অগ্রসর হচ্ছি। আমাদের দেশের রাজনীতির অনাকাঙ্খিত কক্ষচ্যুতির কারণেই আমরা তো বৈশি^ক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারছিই না বরং আমাদের জাতীয় সমস্যাগুলোর কোন সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রচলিত রাজনীতি হয়ে উঠেছে আত্মস্বার্থ ও গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থ করার মোক্ষম হাতিয়ার। তাই আমাদের ভাগ্যে কোন ভাবেই শিঁকে ছিড়ছে না বা সহসাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোন ক্ষীণ সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না। অবস্থা যে ক্রমেই অবনতিশীল হচ্ছে তা অন্তত দিব্যি দিয়ে বলা যায়।
দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। আর এ অর্জনটা আমাদের জন্য মোটেই সহজসাধ্য হয়নি বরং এজন্য আমাদেরকে চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় সংবিধানে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়-বিচারকে অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে। কিন্তু এর সুফল আমরা খুব একটা ভোগ করতে পারিনি। আমাদের দেশের গণতন্ত্র এখনও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর উপস্থিতি খুবই গৌণ বলেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। সামাজিক ন্যায়-বিচারের অন্যতম শর্ত হলো আইন ও সাংবিধানিক শাসন। এক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থা অন্য সব জাতি-রাষ্ট্রের চেয়ে খুবই পশ্চাদপদ। একবিংশ শতাব্দীতে এসে গোটা বিশ^ই যখন সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে তখন আমাদের এই পশ্চাদপদতা নিঃসন্দেহে উদে¦গের। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এ বিষয়ে দেশ ও জাতিকে যাদের দিক নির্দেশনার দেয়ার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তারাই বিষয়টি নিয়ে খুবই উদাসীন।
মূলত আমাদের দেশের প্রচলিত নেতিবাচক রাজনীতিই আমাদেরকে মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। রাজনীতি সেবামূলক কাজ হলেও আমাদের দেশের একশ্রেণির রাজনীতিক রাজনীতিকে ব্যবসার কাঁচামাল বানিয়ে ছেড়েছে। ফলে আমাদের দেশের আর্ত-সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতিতে কল্যাণমুখী ধারা প্রবর্তিত হয়নি বরং একটি অনাকাঙ্খিত অবস্থার সৃষ্টি করেছে। যে রাজনীতি ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা রক্ষা ও ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা অর্জনই মূখ্য হয়ে ওঠে সে রাজনীতি আর যাইহোক দেশ ও জনগণের জন্য কোন ভাবেই কল্যাণকর হতে পারে না। মূলত রাজনীতিকদের অতিমাত্রার ক্ষমতা লিপ্সায় আমাদের মহাসর্বনাশটা  করেছে। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কেউই চেষ্টা করছিনা। শুধুমাত্র বিশেষ শ্রেণি ও গোষ্ঠীর ওপর দায়-দায়িত্ব চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব শেষ করার ব্যর্থ চেষ্টা করছি। কিন্তু দেশে যে এক অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির  সৃষ্টি হয়েছে এর দায় সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষই এড়াতে পারে না।
একথা বললে অত্যুক্তি হবার কথা নয় যে, দেশে গণতন্ত্রের সংকট চলছে। এটা যে সর্বসাম্প্রতিক তা নয় বরং বেশ আগে থেকেই এই সংকট শুরু হয়েছে। দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকশিত করার মূল দায়িত্ব যাদের তারা আবার এমন সংকটকে স্বীকারই করতে চান না। আসল বিপত্তিটা তো সেখানেই। আর যারা বিষয়টি নিয়ে খুবই সোচ্চার সমস্যা সমাধানের মূল চাবিকাঠি তাদের হাতে নেই। মূলত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিপরীত মুখী ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণেই আমাদের দেশের চলমান জাতীয় সমস্যাগুলোর সমাধান তো হচ্ছেই না বরং ক্রমেই সমস্যার পহাড় তৈরি হচ্ছে। ফলে তা আমাদের জন্য ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠছে।
মূলত যে সমাজ রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত নয় সে সমাজে আইনের শাসনেরও কোন অস্তিত্ব থাকে না। মূলত আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নয়। সঙ্গত কারণেই আমাদের দেশে আইন ও সাংবিধানিক শাসনের অবস্থাও খুবই ভঙ্গুর। এমতাবস্থায় দেশের শাসন ব্যবস্থায় নানাবিধ উপসর্গ ও কুপ্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ন্যায়-বিচার ও সমতার অভাবে সমাজ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এমনকি শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরাচারি দৃষ্টিভঙ্গীর অভিযোগও ওঠেছে সাম্প্রতিক সময়ে। যা সত্যিই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ও বেদনাদায়ক।
অতিসম্প্রতি জার্মান থেকে প্রকাশিত এক জরিপ ফলাফলে বাংলাদেশে শাসন ব্যবস্থায় স্বৈরশাসনের উপস্থিতির কথা বেশ জোড়ালো ভাবেই বলা হয়েছে। মূলত অবাধ গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির কারণেই এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সরকার সংশ্লিষ্টরা এই অভিযোগ জোড়ালোভাবে অস্বীকার করছেন। কিন্তু কারো মুখ তো আর বন্ধ করা যাচ্ছে না। মূলত অভিযোগ করলে যেমন তা সত্য হয় না, ঠিক তেমনিভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি পাওয়া যায় না। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের আত্মসমালোচনা করে যুতসই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। যে কারণে এসব উপসংর্গের সৃষ্টি হয়েছে সেইসব ছিদ্রপথ সবার আগে বন্ধ করা উচিত। জাতিকে এই শ^াসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সবার আগে দেশে অবাধ গণতন্ত্রের চর্চা অবারিত করতে হবে। তাহলে স্বৈশাসন সহ নানাবিধ অভিযোগ এমনিতেই শুণ্যে মিলিয়ে যাবে। আর এজন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এজন্য দেশের মানুষ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।