ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আল আমিন মন্ডল (বগুড়া) থেকেঃ

২৫ মার্চ ২০১৮, ১৩:০৩

আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বগুড়া

2222_mangio.jpg
আল আমিন মন্ডল (বগুড়া) থেকেঃ আগে থেকেই বগুড়া জেলা’য় সেরা আমের বেশ কদর রয়েছে। ফলে বগুড়া জেলায় সর্বত্র গাছে গাছে শুধু আমের মুকুল।এ বছরে জেলাজুড়ে আমের বাম্পার ফলন আশা করছে কৃষি বিভাগ। বাতাসে মুকুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। সে সুবাদে মৌমাছি মধু সংগ্রহে পুরোদমে আনাগোনা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। আমের ফুলের পাশাপাশি ফাল্গুন মাসে পলাশ আর শিমুল ফুলের সমারাহ ঘটেছে। কোকিলের কুহু কুহু ডাক আর মন মাতানো নানাফুলে জেন ঋতু বসন্ত ও মধুমাসের আগমনী বার্তা বইছে। রঙ্গিন ফুলের সমারোহে প্রকৃতি জেন সেজেছে নতুন সাজে। তেমনি নতুন বর্নিল সাজে সেজেছে আম বাগানগুলো। মৌ মৌ গন্ধে মানুষের মনকে বিমোহিত করছে। আমের মুকুলগুলো জানিছে দিচ্ছে মধুর মাসের বার্তা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, আম বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। গাছ আর ডাল কোথাও জেন ফাঁকা নেই। ইতিমধ্যে কিছু সংখ্যক গাছে আমের গুটি আসতে শুরু করেছে। মুকুলগুলো হলুদ আর সবুজ বর্ন দেখে জেন মন জুড়িয়ে যায়। ফলে চারিদিকে ছড়াচ্ছে আমের মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ। তবে বিভিন্ন রোগ ও আবহাওয়া উপর নির্ভর করছে আমের ফলন ও উৎপাদন। প্রতিকুল আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টি না হলে এবছরে আমের বাম্পার ফলন হবে। তবে এ মৌসুমে আম বাগানে ছোট ও মাঝারি গাছে বেশি মুকুল এসেছে বলে জানা যায়। আমের গাছ আর ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আম বাগান মালিকদের চোখে এখন লাভবান হওয়ার স্বপ্ন ও সুখের বাতাস বইছে। এখন প্রায় সকল আদর্শ কৃষকের জমিতে ফজলি, ক্ষিরসা, মোহনা, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, রাজভোগ, বউভোলানি ও আম্রুপালি আম গাছ রয়েছে। কেউ কেউ উন্নতমানের আম গাছের বাগান করেছে। ইতিমধ্যে সে সব গাছে মুকুল থেকে গুটি আসতে শুরু করেছে।

কাগইল এলাকার আম বাগান মালিক আব্দুর রহিম মন্ডল জানান, এ বছরে বাগানের প্রতিটি আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। ভাল ফলন আশা করছি। এছাড়াও মুকুল আসার পর থেকে পরিচর্যা করছি। মুকুল ও আম’কে রোগ বালাই থেকে রক্ষা করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়মিত ঔষুধ স্প্রে করছি।রামেশ্বরপুর হোসেনপুর গ্রামের আম বাগান মালিক ময়নুল ইসলাম সেন্টু জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ভাল ফলন হবে। এখন আমি সবসময় আমগাছের পরিচর্যা করছি। এক সময় ছিল চাষিরা দেশের বিভিন্ন স্থনথেকে নিজ উদ্যোগে উন্নতজাতের আমের চারা গাছ সংগ্রহ করতো। সে সময়ের গাছ থেকে অনেকেই সুফল পাওয়ায় এখন প্রায় সবার বাড়িতে আমগাছ লাগিয়েছে।

 বগুড়া জেলা ১২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। তবে আম চাষ বেশী করা হয়েছে আদমদীঘি ও গাবতলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলায়। গাবতলী উপজেলায় আমের মুকুল বেশী এসেছে। দক্ষিনপাড়া উজগ্রামের রাসেল আহম্মেদ জানান, আম বাগান থেকে প্রতি বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়। কাগইল পীরপাড়া গ্রামের আম ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, আম বেচা কিনা করে যে টাকা আয় হয় তাদিয়ে চলে আমার পুরোসংসার। আম চাষে আয় বেশী হওয়ায় অনেকেই আম বাগান করেছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের পক্ষে থেকে আমের বাগান করা হয়েছে।

গাবতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহেল মোঃ শামসুদ্দীন ফিরোজ বিসিএস (কৃষি) জানান, এ বছরে গাবতলীতে আমগাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে আমের গুটি হতে শুরু হবে। ভাল মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছরে আমের বাম্পার ফলন হবে। সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ মৌসুমে ১৫দিন পরে মুকুল এলেও ফলন ভাল হবে। প্রতিবছরে আমের ভাল ফলন হওয়ায় কৃষক দিনদিন বাণিজ্যিক ভাবে কৃষক আম চাষ করছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান, এবছরে বগুড়ায় ব্যাপক ভাবে আম চাষ করা হয়েছে।

এছাড়াও বাণিজ্যিক ভাবে আম চাষ করার জন্য কৃষকদের তথ্য ও পরার্মশ দেওয়া হচ্ছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ ফরিদুল আলম জানান, এ বছরে বগুড়া জেলায় আম চাষের জমি বা বাগানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় ৩হাজার ৭শত ১৫হেক্টর জমিতে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় ৪৪হাজার ৫শ ৮০মেট্রিক টন।