ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

২ এপ্রিল ২০১৮, ১২:০৪

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ঐক্যমত জরুরি

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদও মেয়াদপূর্তির প্রায় কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। যদিও এই সংসদের নির্বাচনে স্বীকৃত বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না এবং ১৫৪ টি আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে বিনা ভোটেই সরকারি দল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছিল। ক্ষমতাসীনদের পক্ষে দাবি করা হয়েছিল যে, দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও নিয়মরক্ষার নির্বাচন। তাই জাতীয় সংসদকে জনপ্রতিনিধিত্বশীল করতে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে আরও একটি নির্বাচন করা হবে। আমরাও তেমনটিই আশা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সে আশায় গুড়েবালি পড়েছে।
যদিও সরকারি দল এখন এমন কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনায় বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা এ দাবি বেশ জোড়ালো ভাবেই করে আসছেন। আর জনগণ এমনটিই প্রত্যাশাও করেছিল। কিন্তু আমাদের চরম দূর্ভাগ্য যে সরকার তা অস্বীকার করছে বা তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। মূলত চলমান সংকটের শুরুটায় হয়েছে সেখানে।  খুব সঙ্গত কারণেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভিত্তি ধরেই দশম সংসদ এখন মেয়াদপূর্তির দ্বাড়প্রান্তে। দৈব-দূর্বিাপাক ও কাকতালীয়ভাবে কিছু না ঘটলে সংসদের মেয়াদপূর্তিতে আর কোন প্রতিবন্ধকতা দেখা যাচ্ছে না।
আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে, স্বাধীনতার দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও আমাদের দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় নি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও পুরোপুরি কার্যকর হয়ে ওঠেনি। অথচ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিল গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা। একথা বললে অত্যু্িক্ত হবার কথা নয় যে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশের গণতন্ত্র যেভাবে বাধাগ্রস্থ হয়েছে বিশে^র অন্যকোন রাষ্ট্রে এর নজীর খুঁজে পাওয়া বেশ মুসকিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে এবং সে ধারা এখনও অব্যাহত আছে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠন ও পরিবর্তন স্বীকৃত হলেও আমাদের দেশের একশ্রেণির স্বার্থান্ধ রাজনীতিকের কারণেই আমরা গণতন্ত্রের সুফলগুলো মোটেই কাজে লাগাতে পারিনি বরং আমাদেরকে বারবার হতাশই হতে হয়েছে। আর এ হতাশা সহসায় কেটে যাবে এমন কোন আলামত এখনও দেখা যাচ্ছে না। তবে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদেরকে এই বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আশা উচিত। দেশের মানুষ এ বিষয়ে সকল পক্ষের কাছেই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।
দীর্ঘদিন থেকেই দেশে রাজনৈতিক সংকট চলছে। আর এ সংকট তৈরি হয়েছে নির্বাচন পদ্ধতিতে কেন্দ্র করেই। বিশে^র প্রায় সকল রাষ্ট্রেই বিদায়ী সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বড় ধরনের কোন বিতর্ক সৃষ্টি হতে দেখা যায় না। ছোটখাট অভিযোগের কথা শোনা গেলেও তা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার তেমন সুযোগ থাকে না। কিন্তু আমাদের দেশ এ ক্ষেত্রে খুবই ব্যতিক্রম। মূলত আস্থার সংকট আমাদেরকে পেয়ে বসেছে। কেউ কাউকে বিশ^াস করি না। আর আস্থার সংকট দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর এর জন্য দায়ি আমরা সকলেই। কারণ, আমরা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় দিতে পারিনি। আর এ জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বও কম দায়ি নয়। কারণ, তারা ক্ষমতায় থেকে দেশ ও জাতির জন্য গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে সীমাহীন আস্থার সংকট থেকেই রাজনৈতিক সংকট। আর এ সংকট নিরসনে কেউই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি না।
আমরা গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে অনেক চটকদার কথা বললেও এখনও গণতন্ত্রমনা হয়ে উঠতে পারিনি। মূলত ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণেই আমাদের জাতীয় জীবনের এই মহাফেৎনা সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্র মানেই হলো জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার। কিন্তু অনৈতিক ক্ষমতালিপ্সার কারণেই আমাদের দেশে এর বিচ্যুতি ঘটেছে।  ক্ষমতার রাজনীতির কারণেই আমাদের দেশের গণতন্ত্র জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।  তাই দেশ ও জাতিকে এই চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
মূলত গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচনের সংকটই আমাদের চলমান সংকটের মূল কারণ। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে চলমান এই জাতীয় সংকটের সমাধান করতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যাসন্ন। কিন্তু কোন পদ্ধতি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো রীতিমত বিপরীতমুখী অবস্থানে। ফলে চলমান রাজনৈতিক সংকট আগামী দিনে আরও ঘনিভূত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। তাই দেশ ও জাতিকে এই মহাসংকট থেকে মুক্তি দিতে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা খুবই জরুরি। অন্যথায় আমাদের আগামী দিনে আমাদের পথচলা আরও সমস্যাসংঙ্কুল হয়ে ওঠবে।