ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

মুতাসিম বিল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার

১০ মার্চ ২০২২, ১৯:০৩

শেষ সপ্তাহে সাড়া জাগিয়েছে বইমেলা

26172_9+465564.jpg
করোনা মহামারীর শঙ্কা কাটিয়ে এবারের আয়োজিত বইমেলা শুরুতে তেমন সাড়া না জাগালেও শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গন। ঢল নেমেছে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী পাঠক ও ক্রেতাদের।

আজ বৃহস্পতিবার মেলার ২৪ তম দিনে পাঠক ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অমর একুশে বইমেলার আয়োজকরা বলছেন, এই বই মেলার মাধ্যমে করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবে লেখক ও প্রকাশকরা।

অন্যপ্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী সিরাজুল কবির চৌধুরী বলেন, বই কিনছে কি কিনছে না সেটা বড় কথা নয়, সবাই জানছে করোনা মহামারিকে ছাপিয়ে এবার বইমেলা হচ্ছে। সবার মাঝে সাড়া জাগিয়েছে এবারের মেলা। সবাই আসছে, ঘুরে ঘুরে দেখছে বিভিন্ন স্টলের বই।

আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি বলেন, ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটা বইমেলা হচ্ছে। তরুণ-তরণীসহ ও উঠতি বয়সীসহ সকলের চেতনার জায়গাকে শানিত করছে।

এবারের বইমেলায় কোন ধরণের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের এক বিক্রয়কর্মী জানান, আমাদের কমিকস আইটেম বেশি চলছে। বাচ্চাদের বইও বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

মেলায় পাঠকেরা এবারও খুঁজছে হুমায়ূন আহমেদের বই উল্লেখ করে অন্যপ্রকাশের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, অন্যপ্রকাশ মানেই পাঠকের কাছে হুমায়ূন আহমেদ। আহমেদ স্যার না থাকলেও পাঠকেরা বেশ উৎসাহের সাথে তার বই এখনো খুঁজছেন।

তরুণ লেখক সাদাত হোসাইন বলেন, বইমেলায় এসে তরুণদের যে সাড়া দেখেছি তা আমাকে আশাবাদী করেছে। পাঠকের সরব উপস্থিতি করোনার ধাক্কা ও শঙ্কার কালো মেঘকে উড়িয়ে দিচ্ছে।

মেলায় ঘুরতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ বলেন, সাধারণত নন ফিকশন ধরণের রচনাকে বেশি পছন্দ করি। তাই এবারের পছন্দের তালিকায় সে ধরণের বইকে এগিয়ে রেখেছি।

মেলায় আসা আরেক দর্শনার্থী হুমায়রা আহমেদ বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বইগুলো বেশ প্রিয়। কিছু বই কিনেছি। আর কিছু ঘুরে ঘুরে দেখছি। বেশ ভালো লাগছে মেলার পরিবেশ।

কলেজ শিক্ষক রিফাত রহমান বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যকে জানতে ভাল লাগে। মেলায় সে ধরণের বই খুঁজছি। এছাড়া কিছু সাইন্স ফিকশন ও রম্য রচনার বইও দেখেছি।

মেলায় কথা হয় কথাশিল্পী স্বকৃত নোমানের সাথে। তিনি বলেন, মেলায় আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল তার বাইরে চলে গেছে। লেখক ও প্রকাশকদের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবারের বইমেলা। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বই-পুস্তক বিক্রি হচ্ছে।

মোজাফফর হোসেন নামের আরেক প্রকাশক বলেন, গত কয়েক বৎসর মেলায় আমাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা এবারের অভিজ্ঞতায় আমরা বলতে পারি গত দুই-তিন বছরের সংকটকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের পিছনের ক্ষতি আমরা হয়তো এবার কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবো।

অনন্যা প্রকাশের প্রকাশক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রচুর পাঠক আসছে। বেচা-বিক্রিও বেশ ভালো। দুই বৎসর কোন বিক্রি করতে পারিনি। তবে সে তুলনায় এবারের বিক্রি অনেক ভালো।

এবার মেলায় মোট ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের জন্য রয়েছে ১৪২টি স্টল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ৬৩৪টি স্টল। প্যাভিলিয়ন রয়েছে ৩৫টি। উদ্যান অংশে পুরো মেলায় প্যাভিলিয়নগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এবার উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের পূর্ব পাশে মেলার মূল প্রাঙ্গণে লিটল ম্যাগাজিনের জন্য জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাদের ১২৭টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারের বইমেলায় আজকের আসর অর্থাৎ ২৪তম দিন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০৮ টি নতুন বই এসেছে। এছাড়া আজকে নতুন প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫২টি।