ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:
ব্রেকিং নিউজ
  • অমর একুশে বইমেলা চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত**
  • টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১ জন নিহত
  • গাইবান্ধায় পুলিশের সাথে বিএনপি’র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
  • ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ পাসপোর্ট কার্যক্রম, ভোগান্তিতে মানুষ

জায়েদ আনসারী

১৩ মার্চ ২০২২, ১৩:০৩

শিকড়ের সন্ধান

26266_5133.JPG
ভাই মশা কামড়ায় না? ধুর মিয়া কি যে কন। মশার রক্ত আর আমার রক্তের মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ কি মাইনসের রক্ত খায়? খায় না, মশাও তো আমারটা খাইবো না। ও আচ্ছা তাহলে ঠান্ডা লাগে না? যান তো মিয়া প্যাচাল পারতাছেন খালি খালি। আপনের লাগলে আমগো লাগবো না ক্যান? আপনেগো তো টেহা আছে, থাহার দালান আছে, আর আমগো তো স্টেশনই শেষ ঠিকানা।

এইখানে খাই, ঘুমাই, দিন-রাত কাটে। এইডাই মোগো সংসার। বাবা-মা অথবা পরিবার বলতে স্টেশনে যারা থাকি তারাই। এর চেয়ে আর কোনো পরিচয় নেই আমগো। শীত আসলে আপনাগো মতন ভদ্রলোকরা মাঝে মধ্যে কম্বল লইয়া আহে। ফটো তোলে। আসলে আমগো যারা আছি এখানে হারা জীবন এমনি যাবে। ঠান্ডায় হিম শীতল হই আর গরমে পুড়ে যাই। আর মশা-মাছির সাথে সংসার। আমগো মতন হাজার হাজার মানুষ আছে। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা কেউ করবে না। মাঝে মধ্যে এনজিও’র লোক আইসা খাবার দেয়, ছবি তোলে তখন খাই। হুনছি এনজিওগুলো নাকি বিদেশ থেকে টাহা পায় আমগোর জন্য। সরকারও নাকি আমগো মতন ছিন্নমূলদের জন্য অনেক উন্নয়ন করতাছে। ঘরবাড়ি করে দিতাছে। আমরা তো সেগুলো পাই না। তাহলে কারা পায়? এসব বলছিলেন এক আগুন্তকে।

বলছিলাম তেজগাঁও রেলস্টেশনে এক ছিন্নমূল মানুষের মনের আকুতির কথা। যিনি স্টেশনের দুটি রেললাইনের মাঝখানে বিছানা করে খোলা আকাশের নীচে রাতযাপন করছেন।  এটি তার নিত্যদিনের ঘটনা। মশার কামড়  ও নোংড়া পরিবেশে তার জীবনচক্র যেন সয়ে গেছে। রোগ-শোক বলতে তাদের কোনো বোধশক্তি নেই। হয়তো অসুস্থ হয়ে তাদের অনেকে মারা যান বুঝতেও পারেন না তিনি অসুস্থ। এভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি জেলা শহরের কিংবা দেশের সব স্টেশনে এরকম হাজারো ছিন্নমূল মানুষের দেখা মিলবে। যাদের জন্য নেই কোনো পুর্নবাসনের ব্যবস্থা। তারাও তো এদেশে জন্মেছে। তাহলে এসব শারীরিক কিংবা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের জীবনচক্র কি এভাবে চলবে।

এদের অনেকে আবার মাদকসেবী হয়ে থাকেন। করেন ছিনতাই। তবে তাদের এসব কর্মকান্ডের নেপথ্যে থাকেন এক শ্রেণির দুষ্ট মানুষ। যারা তাদের দ্বারা নানা অপরাধ সংঘটন করান। যেসকল মানুষ স্টেশনে কিংবা জনসমাগমের জায়গায় ছিনতাই কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখী হই  এরজন্য দায়ী এদের বিষয়ে অব্যবস্থাপনা। আমরা মজনু পাগলার কথা সকলে জানি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি মাদসক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছেন। যদিও এবিষয়ে মানুষের মাঝে কৌতূহল আছে।

ভবঘুরে কিংবা অনেক শিশু এখনো আছে যারা একটু পরিবেশ বা ব্যবস্থাপনার আওতায় আসলে কমে যেতে পারে কিশোর অপরাধ ও ছিনতাই। তারাও ফিরে পেতে পারে নাগরিক অধিকার। হতে পারে দেশের জন্য কল্যাণকর ব্যক্তি। সামগ্রিকভাবে সামাজিক উন্নয়নের সূচকে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে চাই। তবে তা হতে হবে সামগ্রিক অর্থে। বাদ থাকা উচিৎ হবে না কোনো শ্রেণির মানুষ। সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য সার্বিক সূচকে হতে হবে উন্নয়ন। আমাদের দেশের শিকড় হলো মানুষ। তাই মানুষের আত্মপরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। তবেই মিলবে সভ্য জাতির সংজ্ঞা।