ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৪

 বাংলা বর্ষবরণ

মোঘল স¤্রাট জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ আকবরের শাসনামলে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সাল গনণা শুরু হয়। মূলত হিজরী সালের সাথে একটা সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন সাল প্রবর্তন করা হয়েছিল। সেই যে মোঘল আমলে এই নতুন সালের প্রবর্তন হলো সে থেকে পথচলাটা অবিরাম। এর মধ্যে কয়েক শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদল ও ক্ষমতার উত্থান-পতনও ঘটেছে বারবার। মোঘল স¤্রাজ্য এখন আর অবশিষ্ট নেই। মূলত ১৭৫৭ সালে পলাশী ট্রাজেডির পর মূলত ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ছন্দপতন শুরু হয়। আর এর নেপথ্যের কুশিলব ছিলেন বিশ^াসঘাতক মীর জাফর গংরা। আর এই পরিবর্তনের হাওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি মুঘল স¤্রাজ্য। এক সময় আগ্রার লাল কেল্লার অধিপতিরাও ইংরেজদের আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যা উপমহাদেশীয়দের জন্য সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।
মোঘল স¤্রাজ্যের শেষ তিন স¤্রাট ছিলেন মূলত ইংরেজদের পেনশন ভোগী। এক সময় তাও টিকে থাকেনি। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সূত্রপাত এবং ১৮৫৮ সালে তা ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ মোঘল স¤্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে বার্মার রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানোর মাধ্যমে উপমহাদেশের  স্বাধীনতা ও স্বাধীনতা আন্দোলনকেই নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। আমরা প্রায় দু’শ বছর ইংরেজদের গোলামী করতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের চিরায়ত মাতৃভাষা বাংলা ও বাংলা সন ইংরেজরা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারেনি। তা আজও সমহিমায় ভাস্বর হয়ে আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে।
পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই বর্ষবরণের একটা রেওয়াজ চালু আছে। আমরা তা থেকেই মোটেই আলাদা নই। তাই সেই আবহমান কাল থেকেই বাংলা বর্ষ বরণের একটি ঐতিহ্য আমাদের সমাজেও চালু আছে। মূলত ১ বৈশাখই আমাদের বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। ঐ দিনেই বেশ ঘটা করেই বর্ষবরণের জন্য রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কিন্তু বর্ষবরণ নিয়ে কোন বিতর্ক না থাকলে বর্ষবরণ পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক অতীতে যেমন ছিল তেমনিভাবে এখনও আছে। মূলত বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে যে ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিতর্কের বিষয়গুলো সেসবকে কেন্দ্র করেই। ক্ষেত্র বিশেষে এমন কিছু করা হয় যা আমাদের আর্ত-সামাজিক প্রেক্ষাপটে কোন ভাবেই মানানসই নয়। তাই বর্ষবরণ কেন্দ্রীক অনুষ্ঠানগুলো যথাসম্ভব বিতর্কমুক্ত হওয়ায় কাম্য বলে মনে করেন দেশের আত্মসচেতন মানুষ।
মূলত বাংলা সাল মুসলিম শাসকদের আমলেই প্রবর্তন করা হয়। তাই বর্ষবরণের ক্ষেত্রে মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে এটায় স্বাভাবিক। কারণ, আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই মুসলমান। তাই বর্ষবরণ কেন্দ্রীক অনুষ্ঠানগুলোতে যাতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতি, বোধ-বিশ^াস, তাহজীব-তমুদ্দনের প্রতিফলন ঘটে এমনটিই মনে করেন দেশের সাধারণ মানুষ। আসলে বর্ষবরণকে যেমন নিরুৎসাহিত করার সুযোগ নেই ঠিক তেমনিভাবে বর্ষবরণের নামে বেলেল্লাপনা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আমদানী করাও কাঙ্খিত নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে যেসব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেসবের সাথে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা ও বোধ বিশ^াসের কোন সম্পর্ক নেই। মূলত বর্ষবরণের নামে আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি-কালচারের পরিবর্তে ভিনদেশী ও বিজাতীয় সংস্কৃতির কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্ষপরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে বাংলা নববর্ষ। অতীতের সব দুঃখ-বেদনা ভুলে আমরা আমাদের আবেগ-অনুভূতিকে উজার করে দিয়ে বাংলা নতুন সালকে বরণ করে নেব এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্ষবরণের নামে যাতে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতিকে আঘাত লাগে বা বিজাতীয় সংস্কৃতির চর্চা উৎসাহিত না হয়ে সেদিকে সবিশেষ দৃষ্টি রাখা জরুরি। দেশের মানুষ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ আশা করে।