ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

৩ মে ২০১৮, ১৪:০৫

আবারো ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার পরিকল্পনা

3102_download.jpg
আবারো ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারির মত একদরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত ২ মে’র সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে তা আবারো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে কোলামেলা কথা বলেন। সাম্প্রতিক সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না তা তাদের ব্যাপার। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র। কেউ না এলে তো বলতে পারি না, ধরে জেলে নেবো।

নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়া বিএনপির নিজেদের ব্যাপার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা আসেনি, নির্বাচন ঠেকাতে চেষ্টা করেছে। প্রায় তিন হাজারের ওপর মানুষকে হত্যাই করেছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালিয়েছে।’

নির্বাচনে মতাসীনদের আবার জয়ের বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে জেতাটা আমি জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। জনগণ যদি মনে করে যে তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকুক, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আমরা আবার ক্ষমতায় আসব। উন্নয়নশীল দেশ হয়েছে বাংলাদেশ, মধ্যম আয়ের দেশ হবেই, উন্নত দেশ হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

কারাবন্দী বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার সাজা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির এত বড় বড় আইনজীবী। কত বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী। তারা কিছুতেই খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি। কোর্ট রায় দিয়েছে, এখানে আমাদের কাছে দাবি করে কী লাভ? একটা মামলা ১০ বছর ধরে চলেছে। ১৫২ বার না ১৫৪ বার সময় নিয়েছে। তিনবার কোর্ট বদল হয়েছে। ২২ বার রিট হয়েছে। আমাদের কী করার আছে!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসব আমরা।’

লন্ডনে অবস্থানরত তারেকের বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে দেয়া এবং তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন মহলের বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি নিয়ে আসি। সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেকের বিষয়েও আমরা ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলোচনা করছি। নিশ্চয়ই আমরা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।’

গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন,আগামী অক্টোবরে ১১শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে।সেদিক বিবেচনায় আর সামনে সময় আছে মাত্র ৫ মাস। এখন বিএনপিকে বেগম জিয়ার মুক্তি ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। যে মামলায় তার সাজা হয়েছে তাতে হাইকোর্ট জামিন দিলেও উচ্চ আদালতে তা স্টে হয়ে আছে চলতি মে মাসে পূর্ণাঙ্গ শুনানীর পরে আদালত রায় দেবে।

তবে তার জামিন হলেও যে মুক্তি পাচ্ছেননা সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়।কারণ গাড়ীতে অগ্নি সংযোগ ও তার মাধ্যমে মানুষ হত্যার কয়েক ডজন মামলা হাসিনা সরকার তার বিরুাদ্ধে দায়ের করেছে। দূর্নীতির মামলায় জেলে যাওয়ার পর এর বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে শ্যোণ এরেষ্ট দেখানো হয়েছে। কারাগারে তিনি অসুস্থ। তার সুচিকিৎসা হচ্ছেনা মর্মে অভিযোগ করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষক মহল বলছেন যে,বেগম জিয়াকে হয়তো বাকি জীবন জেলেই কাটাতে হতে পারে। অনেকে দুষ্টামি করে বলছেন যে, বেগম জিয়া কারাগার থেকে জীবিত বের হতে পারবেন না। জেলখানা থেকে তার লাশ বের হবে।

আবার বিএনপি নেতারা বলছেন,খালেদা জিয়া ছাড়া কোন নির্বাচন হবেনা। মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই তারা নির্বাচনে যাবে। এটা বিশ্লেষণ করলে দাড়ায় যে, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে শেখ হাসিনা কোন উদ্যোগ নেবেনা আবার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপি ও তাদের ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ না নিলে ফাঁকা মাঠেই ৫ জানুয়ারির মত নিবৃাচন করে আরো ৫ বছরের জন্য আওয়ামী মহাজোট তাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়।

তারেক রহমানকে দেশে নিয়ে আসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে দৃঢ়তার কথা বলেছেন,সে বিষয় বিএনপির জন্য আরো বড় ধরনের খারাপ হতে পারে। অভিজ্ঞ মহল বলছেন,তারেক রহমানের জেল হয়েছে,ফাঁসির রায় তো হয়নি। সুতরাং জীবন যাওয়ার রায় তো হয়নি। এই সূত্র ধরেই বৃটিশ সরকারের সাথে লবি করে যদি তাকে দেশে আনতে পারে তাহলে ঘটবে অন্য কিছু।দেশে আনতে সক্ষম হলে তার বিরুদ্ধে এমন মামলা হতে পারে যাতে তার ফাঁসি হয়। তার বিরুদ্ধে ২৩ আগষ্টের গ্রেনেড হামলা মামলা বা অন্য কিছু দিয়ে ফাঁসির রায় আসতে পারে আদালত থেকে। হয়তো সে কারনেই তাকে দেশে আনতে এতটা প্রচেষ্ঠা।শেখ হাসিনার ভাতিজি টিউলিপ সেখানকার এমপি।শেখ রেহনাও ওই দেশের নাগরিক।

অভিজ্ঞ মহল বলছে,খালেদা জিয়ার জেলবাস এবং তারেক রহমানকে দেশে আনা হলে এ গুলো নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে বিএনপিকে।নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে সম্ভাবনা কম।ফাঁকা মাঠে গোলের পরিবেশ তারা আরো নিশ্চি করবে হয়তো গণগ্রেফতার দিয়ে। সামান্য খুলনা সিটি নির্বাচনেই অংশ নিয়ে প্রচারনায় নামার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যপক ধরপাকড়। শুরু হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রচারনা চালানো থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।গাজীপুরেও চলছে গণগ্রেফতার। সিটি নির্বাচনেই যদি এই হয় তবে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসলে কি হারে গ্রেফতার শুরু হবে তা অনুমান করা যায়।বিএনপি-জামায়াতের ২০ দলীয় জোটকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে সরকার তাদের হাতের সব তুরুফের তাসই ব্যবহার করবে। কারণ যেন তেন নির্বাচন হলেও ক্ষমতাসীনদের জামানত হারানোর আশঙ্কা আছে।#